বাংলাদেশের জেলে হিন্দু আইনজীবীর সুপরিকল্পিত হত্যায় চুপ কেন সেখানকার সরকার?

0

Last Updated on

একটি সুপরিকল্পিত হত্যা | কিছু অনৈতিক কাজের সায় না দেওয়ায় অকালে ধরল একটি প্রাণ | এদেশে নয় | প্রতিবেশি বাংলাদেশের এক আইনজীবীর জেলে রহস্যজনক মৃত্যুতে নড়েচড়ে বসেছে সে দেশের আদালত | বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের আওয়ামী লিগের হিন্দু ছাত্র শাখার সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার রায় | পেশায় নিজে আইনজীবী শুধু নন,ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন সক্রিয় সদস্যও বটে | ২৬শে এপ্রিল জেলে থাকা অবস্থায় নিজেই গায়ে আগুন দেন পলাশ | এমনই জানানো হয় পলাশের মা মীরাদেবী যখন জেলা জেলে তাঁর ছেলে পলাশের সঙ্গে দেখা করতে যান | কিন্তু তাতে খুব অবাক হন মীরাদেবী | এরপর পলাশের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় | পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার ঠিক একমাস পরে ২৫শে মে হাসপাতালের বেডে শুয়ে তাঁর ভাইপোকে একটি মৃত্যুকালীন জবানূন্দী দিয়ে যান | সেখানে বলেন,দুই ব্যক্তি জেলে এসে তাঁর গায়ে একটি বোতল থেকে কোন তরল ছুঁড়ে তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় | তাতেই তাঁর দেহের ৪০%মারাত্মক ভাবে পুড়ে যায় | সেই ক্ষত থেকেই মৃত্যু হয় পলাশ কুমার রায়ের |

পলাশ মৃত্যুর ঠিক আগেই মোবাইলে তার যে বক্তব্য রেকর্ডিং করে যান ,তাতে তিনি বলেন জেলে থাকা অবস্থাতেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হোতো | জেলের ভিতরে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার কথা বলা হোতো | আর তা করা হোতো বাংলাদেশের কয়েকজন প্রভাবশালী মানুষের নাম নিয়েই | পলাশ তাঁর জবানবন্দীতে নামও বলে গিয়েছিল তাঁদের | তারা হলেন,জাহাঙ্গীর আলম,যিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সচিব পদে কর্মরত,মহম্মদ রেজাউল করিম,এম ডি কোহিনুর কোম্পানি এবং অজিত কুমার পাল,যুগেম অর্থ সচিব বাংলাদেশের | কিন্তু তা যে সত্যি হবে তা একবারও ভাবেননি পলাশ |
কিন্তু কেন পলাশকে মারা চক্রান্ত করা হল ? সমস্যা অনেক গভীর | ২০১৩সালে তরুণ পলাশ চাকরুি পায় কোহিনুর সংস্থার আইনজীবী পদে | সেই সময় নানা অবৈধ কাজ তাকে করতে বাধ্য করত সংস্থা | যার মধ্যে ওই সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের খাস জমি হরফের মত ঘটনার প্রতিবাদ করেন পলাশ | বেগতিক বুধতে পেরে পলাশের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনে কোহিনুর সংস্থা | হাল ছাড়েননি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছেলে পলাশ রায় ও তাঁর পরিবার | কোহিনুর সংস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে সরব হন তাঁরা | পঞ্চগড়ের ডেপুটি কমিশনারের দফতরের সামনে বসে অনশন শুরু করেন তাঁরা | মানব বন্ধনের মাধ্যমে তীব্রতর হয় তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি | আর সেখানে তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এই মর্মে জনৈক আওয়ামি লিগের সমর্থক তাঁর নামে মামলা দায়ের করেন | তাঁকে জেলে পাঠানো হয় |

কিন্তু পলাশের মৃত্যুর পর পুলিশের কাছে কোন মামলা দায়ের করেনি তাঁর পরিবার | মূলত মানবাধিকার সংগঠনও আইনজীবীদের চাপে পড়ে আদালতে দৃষ্টি আকর্ষণ করায় আদালত েই নিয়ে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন |খতিয়ে দেখতে বলা হয় পলাশের গায়ে আগুন দেওয়ার তত্ত্বকে |

প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্তাব্যাক্তিরা যুক্ত থাকা একটি হাই প্রোফাইল মামলা নিয়ে কেন সরব নন সেখানকার মানুষ | শুধু কি পলাশ হিন্দু ছেলে বলে ,প্রশ্ন করছেন কেউ কেউ | নাকি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ পারিষদদের বাঁচাতেই মুখে কুলুপ তাঁদের | উত্তর খুঁজবে রাইজিং বেঙ্গল |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here