বিশ্বের সমস্ত ইসলামিক দেশকে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ের ডাক মালয়েশিয়ার প্রবীণ তম রাষ্ট্রপ্রধানের,পরিস্থিতির উপর কড়া নজর ভারতের

0
All Islamic countries should Unite for War:Mahathir Mohamad

Last Updated on

জেনারেল কাসিম সুলেইমানি হত্যার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান আমেরিকান সেনা বা সম্পত্তিতে হামলা চালালে, আমেরিকা ইরানের ৫২ টি ঐতিহ্যশালী স্থলকে নিশানা করবে। এর জবাবে ইরানের কুদস ফোর্সের বক্তব্য যে তারা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর সহযোগীদের ১৪০ টি ঘাঁটি চিহ্নিত করেছে।
আমেরিকা যদি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের কোনও ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে তারা এই সমস্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে হামলা করবে ।

আরো পড়ুন :শিখ মেয়েকে ধর্মান্তরকরণের অভিযুক্তদের নেতৃত্বে নানকানা কাণ্ড,উত্তেজনা প্রশমনে খালিস্তানী নেতা

ইরান ও আমেরিকা ইরানি টেলিভিশনের খবর মোতাবেক, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেইনির কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল প্রতিক্রিয়া জানাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দুর্বলতম পদ্ধতি এবার বেছে নেওয়া হয়েছিল। ইরান আরও শক্ত এবং আরও বড় পদক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখে ।

আয়াতুল্লাহ খোমেইনি ও সুলেইমানি

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আমির হাতামি বলেছেন, ”আমরা স্বল্প পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছি। আশা করি, আমেরিকার জন্য এটি একটি স্মরণীয় শিক্ষা হবে।” ২০১৮ সালে ট্রাম্প যে ‘আল আসাদ’এ সফর করেছিলেন, ঠিক সেখানেই নাকি হামলা চালায় ইরানি মিসাইল । ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেনকে উৎখাত করার পরে মার্কিন সেনাবাহিনী আল-আসাদ ঘাঁটিতে তাদের দখলে রাখেন। এটি ইরাকের বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি।

আয়াতুল্লাহ খোমেইনি

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং জোটের অংশীদার দেশগুলির মোট ১৫০০ সৈন্য এখানে সারাক্ষণ অবস্থান করছে, যারা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বিপক্ষে একযোগে কাজ করছে। এখানে ৭০ জন নরওয়েজিয়ান সেনা নিযুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প তাঁর স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে ২০১৮ সালে এখানে এসেছিলেন। শুধু সামরিক আক্রমণ যথেষ্ট নয়। আমাদের শত্রুদের নিয়ন্ত্রণ করতে কৌশলে কাজ করতে হবে।

সুলেইমনি কে খোমেইনির শেষ শ্রদ্ধা

আমেরিকা আমাদের শত্রু এবং শত্রুদের পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত । আমরা শক্তিশালী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। ইরান কখনই দুর্বল হবে না এবং কখনও হাল ছাড়বে না। ইরানের কী হয়েছিল তা আমরা কখনই ভুলব না।

এ ভাষায় যখন ইরান আমেরিকার প্রতি তাদের সামরিক প্রধানের নিকেশের জন্য মার্কিনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে,তখনই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সমস্ত ইসলামিক দেশগুলিকে একযোগে ইসলাম বিরোধী শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলিম বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত ।

মাহাথির মোহাম্মদ

৯৪বছরের বিশ্বের প্রবীণতম মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান মাহাথিরের বক্তব্য, ইসলামিক দেশগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ইরান । কিন্তু যদি বাস্তবিক ইসলামিক দেশগুলি একত্রিত হয়ে লড়াই করে,তবে তা যথেষ্ট চিন্তার কারণ ভারতের জন্য ।

আরো পড়ুন :নস্ত্রাদামুস এর ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্যি হতে চলেছে, আমেরিকা ও ইরানের বিরোধ কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্কেত

পাকিস্তান ভারতকে যেহেতু কোণঠাসা করতে বারবার মালয়েশিয়ার মত দেশ গুলির শরণাপন্ন হয়েছে সেহেতু পাকিস্তান এ ধরনের জোটে অক্সিজেন পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সত্যি যদি ইরানের যুদ্ধ হয় তবে আর নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবে না ভারত।কোন এক পক্ষ নিতে হলে তা ভারতের জন্য মোটেই সুখকর হবে না বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here