দুর্গামায়ের বিসর্জনের পরের দিন অসহায় বৃদ্ধা মায়েদের সেবা নবদ্বীপে

0
bijaya at nabadwip

Last Updated on

রাইজিং বেঙ্গল ডেস্ক ; ৯ই অক্টোবর ২০১৯ :
পেটের সন্তানের থেকে মা ডাক কবে শুনেছেন মনে পড়েনা। প্রতিবছরই আশায় দিন গোনে সংসার পরিতক্ত হাজারের কাছাকাছি বৃদ্ধা মায়েরা,এই বছর বুঝি বা খোঁজ নিতে এলো তাঁদের সন্তানেরা।

নবদ্বীপ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বড় ভজন আশ্রমের এই প্রায় হাজারখানেক সহায়-সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধা মায়েদের একচিলতে আশার আলো এলাকার বিধায়ক এবং পরবর্তীতে পুরপিতা বিমান কৃষ্ণ সাহা। দশমীর শেষে একাদশীর পূণ্য লগ্নে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিরলসভাবে এই মহৎ কাজ করে চলেছেন তিনি। প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রায় হাজারের কাছাকাছি বৃদ্ধা মায়েদের নিয়ে বিজয়া সারলেন তিনি।

আরও পড়ুন :অভিনব মাতৃ আরাধনা যজ্ঞের ঋত্বিক নবম শ্রেণীর ঋত্বিকা

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই একাদশীর দিন বেলা এগারোটার মধ্যে আশ্রমে জমায়েত হন প্রায় হাজারখানেক অসহায় বৃদ্ধা। সেখানেই একে-একে প্রতিটি বৃদ্ধা মায়ের প্রথমে পায়ে হাত দিয়ে প্রণামশেষে নগদ কিছু টাকা, শাড়ি,গামছা এবং শীতের একটি করে চাদর,প্লেট ভর্তি মিষ্টি ও অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেন বিমানবাবু। বিধায়ক ও পুরপিতার হাত থেকে প্রণাম পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হন ওইসব বৃদ্ধা মায়েরা, প্রাণভরে আশীর্বাদ করেন তাঁরা। এইসব বৃদ্ধা মায়েদের সাতকুলে কেউ নেই পুজোতে একটি নতুন বস্ত্র হাতে তুলে দেওয়ার মতো, সেইসব সমাজে অবহেলিত বৃদ্ধারা এমন সম্মান পেয়ে যারপরনাই খুশি।

আরও পড়ুন :মাতৃশক্তির আরাধনায় ব্রাত্য মহিলারাই রায়গঞ্জের সেন বাড়িতে

নবদ্বীপ ব্লকের স্বরুপগঞ্জ এর গাদিগাছা অঞ্চলের বাসিন্দা ৮০ বছরের বৃদ্ধা মায়া রানী দেবনাথ বলেন, সারা বছর তাঁরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন কেননা সাতকুলে কেউ নেই তাঁদের। বড় ভজন আশ্রম এ হরিনাম সংকীর্তন করে এবং ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন ধারণ করেন তারা। আরো এক বৃদ্ধা ৭৫ বছরের লক্ষ্মীরাণী সাহা আক্ষেপের সুরে বলেন, ছেলে থেকেও নেই তাঁর। প্রতি বছর শারদ উৎসবের সময় আশায় থাকেন তিনি এই বুঝি তাঁর ছেলে এসে মায়ের হাতে একটি নতুন শাড়ি কিছু টাকা তুলে দেবে। কিন্তু বৃথা আশা কোনদিনই পূরণ হয়না,ছেলেও আসেনা তাঁর।

এই সমস্ত ভগ্নহৃদয় মায়েদের নিরানন্দ জীবনে বছরে একাদশীর এই একটি দিনই একটু খুশির বাতাস বয়ে আনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here