রায়গঞ্জের সুপ্রাচীন বন্দর আদি দুর্গাবাড়ির পুজোর ইতিবৃত্ত।।

0
durga puja rayganj

Last Updated on

রাইজিং বেঙ্গল ডেস্ক : কয়েকশো বছরের পুরনো পশ্চিম দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের বন্দর আদি দুর্গা বাড়ির পুজো। রায়গঞ্জ তথা অবিভক্ত বাংলার এবং পশ্চিম দিনাজপুরের সবচেয়ে প্রাচীন এই পুজোর সূচনাকে ঘিরে লোকমুখে প্রচলিত আছে বিভিন্ন গল্পগাঁথা।

‘কুলিক নদী’ ভারত-বাংলাদেশের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। একসময় এই কুলিক নদীর বুকের উপর দিয়েই চলত জলপথে সওদাগরদের বাণিজ্য আর সেই যাত্রাপথে তৎকালীন রাইগঞ্জ অধুনা রায়গঞ্জের বন্দর ঘাটে বজরা থামিয়ে ক্ষণকাল বিশ্রাম নিতেন সওদাগরেরা।

আরও পড়ুন:“চক্রব্যূহের পাকচক্র” – পৃথিবীর গভীরতম অসুখ; হাওড়ার শিবাজী সংঘের পুজোমন্ডপের এবারের ভাবনা

কথিত আছে অধুনা বাংলাদেশের দিনাজপুর থেকে জলপথে বজরা নিয়ে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন এক সওদাগর এবং যাত্রাপথে কুলিকের বন্দর ঘাটে বিশ্রাম নেওয়ার সময় সেই সওদাগর দেবী স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ রক্ষা করতে ওই সওদাগর কুলিকের ঘাটে শুরু করলেন দুর্গাপূজো আর সেই থেকেই নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে কয়েকশো বছর ধরে পূজো হয়ে আসছে বন্দর আদি দুর্গা বাড়িতে।

যদিও এসব ঘটনার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই তবে এ ধরনের আরও কিছু ঘটনা লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। আরেকটি প্রচলিত কাহিনী অনুসারে মহাভারতের যুগে বান রাজাদের আমলে এই পুজোর গোড়া পত্তন হয়েছিল । উল্লেখযোগ্য যে বেদীতে দেবীর পুজো হয় সেই বেদী বান রাজাদের আমলে প্রচলিত ছোট্ট ছোট্ট ইট দিয়ে নির্মিত। বেদীর উপর অঙ্কিত চাঁদ ও শঙ্খের ছবিও এই সাক্ষ্যই বহন করে যে এই পূজার প্রচলন বান রাজাদের আমলে হয়েছিল, অন্তত রায়গঞ্জবাসী এমনটাই বিশ্বাস করে।

আরও একটি চালু প্রবাদ অনুসারে শোনা যায়, পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে আগত এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী এই স্থানে পঞ্চমুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘকাল তপস্যার পর দেবী দুর্গার পূজার সূচনা করেছিলেন।

আরও পড়ুন:মাতৃশক্তির আরাধনায় ব্রাত্য মহিলারাই রায়গঞ্জের সেন বাড়িতে

আজ আর কুলিক নদীর সেই নাব্যতা নেই। বহুকাল আগেই বন্ধ হয়ে গেছে জলপথে সওদাগরদের বাণিজ্য। কিন্তু নানান গল্পগাঁথায় ঘেরা প্রাচীন এই দুর্গাপুজো আজও স্বমহিমায় বিরাজমান। পূজোর সূচনার নেপথ্যে যতই কাহিনী প্রচলিত থাকুক না কেন, রায়গঞ্জের বন্দর আদি দুর্গাবাড়ির এই পুজো বর্তমানে সার্বজনীন দুর্গাপুজোর রূপ ধারণ করেছে। অত্যন্ত জাগ্রত দেবী বলে খ্যাত দুর্গাবাড়ির দেবী দর্শনে বহু দূর-দূরান্ত থেকে নামে মানুষের ঢল। হাজারে হাজারে মানুষ আসেন এই পুজোয় অঞ্জলি দিয়ে পুজোর ভোগ গ্রহণ করবার জন্য। অভীষ্ট পূরণের লক্ষ্যে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে এই পুজো হয়ে ওঠে আরও জীবন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here