মিথ থেকে আজ সার্বজনীন মা সোনামণি কুম্ভরানীর পুজো

0
Karandighi Maa KumbhaRani Puja

Last Updated on

রাইজিং বেঙ্গল ডেস্ক ; ১৬ ই অক্টোবর ২০১৯ : নারী স্বয়ং শক্তিস্বরূপা। মৃন্ময়ী ‘মা’কে শ্রদ্ধাভরে পুজো অর্পন করি আমরা কিন্তু রক্তমাংসের মাতৃপ্রতিমূর্তিকে যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ এ সমাজ। প্রতিদিন যেখানে বেড়ে চলেছে নারীর প্রতি অবমাননার পরিমান, এরকম একটা সময়ে দাঁড়িয়ে নারীকে স্বয়ং দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে কয়েকশ বছরধরে পুজো করে আসছে উত্তর দিনাজপুর জেলার করনদিঘির প্রত্যন্ত গ্রাম সিঙ্গারদহর গ্রামবাসীরা। চিরাচরিত দুর্গা পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দশমীর ঠিক আট দিন পর বোধন হয় এই দুর্গাপুজোর।সিঙ্গারদহের এই মা দুর্গা ‘সোনামনি কুম্ভরানী’ নামে পুজিত হয়ে আসছে কয়েকশ বছর ধরে।

আরও পড়ুন :রাজনগরে মদনমোহনের ভোগেই হয় মা দুর্গার পুজো

উত্তর দিনাজপুর জেলার করনদিঘির প্রত্যন্ত গ্রাম সিঙ্গারদহতে তাই এখন চরম ব্যস্ত পুজা উদ্যক্তারা। সাধারণত দুর্গা পুজার দশমীর আটদিন পর সোনামনি কুম্ভরানীর পুজোর বোধন হয়। এবছর সেই দিনটি পরেছে মঙ্গলবার। এই পুজোকে ঘিরে পাঁচদিন ধরে সংঘটিত হবে একটি মেলা। মুলত রাজবংশী সম্প্রদায়ের এই পুজো আজ সিঙ্গারদহর সার্বজনিন উৎসবে পরিনত হয়েছে। সোনামনি কুম্ভরানী মায়ের নামে রয়েছে বেশ কয়েক বিঘা জমি সেই জমির আয়ের ভাগ ও মেলা কমিটির মিলিত অর্থে এই পুজোর যাবতীয় ব্যয় করা হয়ে থাকে। এই পুজো ঠিক কতদিনের পুরাতন তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না কেউই। তবে পুজোর বয়স বেশ কয়েকশো বছর তা সকলেই জানে। সোমা সরকার ও প্রতীমা দাস নামের দুই দর্শনার্থী বলেন, মা সোনামনি কুম্ভরানী খুব জাগ্রত। যে যা মনোস্কামনা নিয়ে মায়ের কাছে আসে মা তার সেই মনোস্কামনা পূরণ করেন। পুজো কমিটির সভাপতি জজু মোহন সিংহ ও এক গ্রামবাসী সুনীল সরকার বলেন, এই পুজোকে ঘিরে একটি কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। শোনা যায় সেই সময় সমাজে নারীদের ওপর অত্যাচার বেড়ে উঠছিলো কয়েকগুণ , আর সেই অত্যাচারের মাত্রাটা নববধুদের উপর একটু বেশীই ছিলো।

আরও পড়ুন :ঘরে নয়,আজও ভান্ডার গ্রামের মন্দিরেই হয় লক্ষ্মী আরাধনা

সিঙ্গারদহর একটি বাড়িতে শ্রীমতী কুম্ভরানী নামে এক নব বিবাহিত বধু তাঁর শ্বশুর শ্বাশুড়ির সাথে মা দুর্গার পুজোয় যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছিলেন। তৈরী হতে একটু দেরী হওয়ায় শ্বশুর শ্বাশুড়ি রাগান্বিত হয়ে উঁচু স্বরে বৌমাকে ডাকতে যান ঘরে। আর গিয়ে যা দেখেন তাতে তাঁদের বাক্যস্ফুর্তি হয় না। তাঁরা দেখেন বৌমা কুম্ভরানী স্বয়ং মা দুর্গার রূপ ধারন করেছেন। এরপর কুম্ভরানী তাদেরকে আদেশ দেন নারীর ওপর সকলপ্রকার অত্যাচার বন্ধ করার এবং নারীকে দুর্গা রূপে পুজো করে যথাযথ সম্মান দেবার। এছাড়াও সম্পূর্ণ সিঙ্গারদহ গ্রামে কুম্ভরানী নামে দেবীর পুজা শুরু করারও আদেশ দেন মা। দেবী বলেন, সেই পুজোর মধ্য দিয়েই সিঙ্গারদহ গ্রামকে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করবেন তিনি স্বয়ং। তারপর থেকেই আজও সেই পুরানো রীতি মেনেই মা দুর্গার পুজো হয়ে আসছে করনদিঘির সিঙ্গারদহ গ্রামে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here