ঘরে নয়,আজও ভান্ডার গ্রামের মন্দিরেই হয় লক্ষ্মী আরাধনা

0
laxmi puja

Last Updated on

বাঙালীদের বারো মাসে তেরো পার্বন ।আর তেরো পার্বনের মধ্যে একটি পার্বন কোজাগরি লক্ষ্মী পূজা।
চঞ্চলা লক্ষ্মীকে ঘরে স্থিত রাখার ইচ্ছা বাঙালির চিরদিনের। বাঙালি লোককথায় কো জাগরী বলে ঘরে আসা লক্ষ্মী ঠাকরুনকে ঘরে দরজা দিয়ে বাড়ির গিন্নির অগ্যস্ত যাত্রার গল্প আসলেই আত্মত্যাগের । এই লোককথা ধনী থেকে সাধারণ , সব মানুষের এতো প্রিয় ছিল যে তৎকালীন বাঙলার ব্যাংকার গোষ্ঠী জগৎ শেঠ দের বাড়িতে অবধি এই ঘটনার স্মরণে বন্ধ ঘরের হদিশ এখনো মুর্শিদাবাদে গেলে দেখা যায় ।
ঘরের বদলে মন্দিরে লক্ষ্মী পূজিত হওয়ার ব্যতিক্রমী ঘটনা চোখে পড়ে বাংলার একটিমাত্র গ্রামে । উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের ৭ নম্বর ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ভাণ্ডার গ্রামে।

আরও পড়ুন : শালি ধান, শালি ব্রাহ্মণ ও ধানলক্ষ্মীর পাঁচালী

আজ থেকে ১৯ বছর আগে লক্ষ্মী পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামে বাউল উৎসব চলছিল সেই সময় গ্রামের কৃষক নরেশ চন্দ্র বর্মনের লাঙলের ফলায় ,স্থানীয় গোকুল চন্দ্র বর্মণের জমিতে চাষ করতে গিয়ে উঠে আসে একখন্ড কালো পাথর। তাতে খোদিত ছিল লক্ষ্মী নারায়ণ এর যুগল মূর্তি । মূর্তি পাওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই সেই গ্রাম ও দূরদূরান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষ হাজির হন ঐ মাঠে। খবর পেয়ে কালিয়াগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা ছুটে আসেন।পরীক্ষার পর জানা যায় সেটি কষ্টি পাথরের মূর্তি। মূর্তিটি লম্বায় প্রায় দেড় ফিট ও চওড়ায় এক ফিট। প্রশাসনের তরফ থেকে মূর্তিটিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করা হলে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পরে প্রশাসনকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।

যার জমিতে এই কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তি পাওয়া গেছে সেই গোকূল চন্দ্র বর্মণ লক্ষ্মী নারায়ণ মূর্তির মন্দির করার জন্য দুকাঠা জমি দান করেন । পূর্ব ভাণ্ডার গ্রামের বাসিন্দারা তাতে একটি মন্দির বানিয়ে মূর্তিটির পূজো শুরু করে ১৯ বছর আগে।
বছরের প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল ও সন্ধ্যের সময় পূজো হয় এখানে। কথিত আছে এই লক্ষ্মী নারায়ণ মূর্তি খুব জাগ্রত। এখানে কেউ কোন কিছু মানত করলে মা লক্ষ্মী তাঁদের খালি হাতে ফেরান না। তাই গ্রামে বিয়ে বা অন্নপ্রাশন হলে লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে এসে গ্রামবাসীরা প্রথমে পূজো দিয়ে যান। এই মন্দিরে গোটা বছর ধরে প্রচুর সোনা ও রুপার গয়না দান করেন ভক্তপ্রাণ মানুষজন। এই সমস্ত দানসামগ্রী সযত্নে জমা রাখা হয় লক্ষ্মী মায়ের নামে।

আরও পড়ুন :রীতি মেনে নবমীর দিনই শুরু হয় তালুকদারদের জগদ্ধাত্রীর কাঠামো

সারা বছর নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে দুবেলা করে পূজো হলেও কোজাগরী লক্ষ্মী পূজোর দিনটিতে মহাসমারোহে দেবী লক্ষ্মী এখানে পূজিত হন। লক্ষ্মী পূজোর আগে দশমীর পরের দিন থেকে গ্রামের কোন বাড়িতে আমিষ রান্না হয় না। প্রতিবছর লক্ষ্মী পুজার দিন গ্রামের মহিলারা বাড়ির লক্ষ্মী পূজো তাড়াতাড়ি সেরে সন্ধ্যার মধ্যে লক্ষ্মী নারায়ন পূজো মণ্ডপে এসে হাজির হন,কারন মন্দিরে পূজা না করলে তাদের পূজা সম্পন্ন হয় না। পূজোকে কেন্দ্র করে গ্রামের সমস্ত মহিলারা উপোস থাকেন। পূর্ব ভাণ্ডার গ্রামের লক্ষ্মী নারায়ণের পূজোকে কেন্দ্র করে আসে পাশের গ্রাম থেকে কয়েক হাজার জনসমাগম হয় । বিশাল মেলা বসার পাশাপাশি তিন দিন তিন রাত ধরে চলে বাউল গানের আসর। বাউল গান চলাকালীন সময়ে এখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার লোকের সমাগম ঘটে। তিন দিন পর মহাপ্রভুর ভোগ দিয়ে মেলা ভাঙ্গা হয়। সহ জেলার বাইরে থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও বেশ কয়েকটি দল বাউল গানে অংশ নেবেন। কোজাগরী লক্ষ্মী পূজোকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে আনন্দ উৎসবে মেতে থাকেন বৃদ্ধ বৃদ্ধা থেকে শুরু করে কচিকাঁচারা। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি চলছে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here