রাজ্যপাট না থাকলেও সাত্ত্বিক ভাবেই হয় উত্তর দিনাজপুরের রায়চৌধুরীদের পুজো

0

Last Updated on

রাইজিং বেঙ্গল ডেস্ক : জমিদারি সেই জাঁকজমকের বর্তমানে আর অবশিষ্ট নেই কিছুই। কিন্তু তাতে ভাঁটা পড়েনি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার চূড়ামণের তৎকালীন জমিদার মোহিনী মোহন রায়চৌধুরী বংশের দুর্গাপুজোয়। মোহিনী মোহন রায়চৌধুরীর আমলের মতো পুজোর জাঁকজমক আজ আর নেই। তবে নিয়মনিষ্ঠায় কোন ঘাটতি পড়েনি রায়চৌধুরী বংশের চোদ্দপুরুষ ধরে চলে আসা দুর্গাপুজোয়।

তৎকালীন জমিদার মোহিনী মোহন রায়চৌধুরীর রাজ্য বিস্তার লাভ করেছিল মহানন্দা নদীর ধার ঘেঁষেই । কেননা সেই নদীকে কেন্দ্র করেই চলত ব্যবসা বাণিজ্য সংক্রান্ত যাবতীয় আমদানি-রফতানি । শোনা যায়,সেই সময় রাজবংশের এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে মহিষ বলি,যাত্রাপালার আসর সহ বিশাল এক মেলাও বসত এলাকায় । কালের নিয়মে বলিপ্রথা বন্ধ হয়েছে রায়চৌধুরী পরিবারে ।

পুজোর আয়োজন অনেকাংশে ম্লাণ হয়ে এলেও নিয়মনিষ্ঠা বজায় আছে সেই আগেরই মতন । সেই জমকালো অট্টালিকা বর্তমানে জঙ্গল,ঝোপঝাড়ে আচ্ছাদিত প্রায় এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে । এরই মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত ওই ভগ্নপ্রায় মন্দিরেই আয়োজিত হোতো মায়ের পুজো । কিন্তু গতবছর রায়চৌধুরী বংশের এক বংশধর জীবনাথ রায়চৌধুরী ও তাঁর পুত্র কৌশিক রায়চৌধুরী মায়ের পূজার জন্য নির্মাণ করিয়েছেন নতুন এক মন্দিরের । সেখানেই গত বছর থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে মায়ের পুজো |

রায়চৌধুরী বংশের পুত্রবধূ জীবনাথ বাবুর স্ত্রী ও কৌশিক বাবুর মা কৃষ্ণা রায়চৌধুরী বলেন, বর্তমানে জমিদারি না থাকলেও নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে পুজোর আয়োজন করা হয় । তাঁর শ্বশুর মশাইয়ের কাছে তিনি শুনেছিলেন একসময় মহাসমারোহে আয়োজিত হতো মায়ের পূজা । এখন সেই জাঁকজমকের কণামাত্র অবশিষ্ট নেই,শুধুমাত্র দশমীতে ছোট আকারে একটি মেলা বসে এখনও । বর্তমানে জমিদার বাড়ির বাসিন্দা বলতে কৃষ্ণা দেবী ও তাঁর স্বামী, তবে পূজার সময় সকল বংশধরেরা আসে এবাড়িতে । কৃষ্ণা দেবী আরো বলেন, এক সময় তাঁদের আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে পুজোর আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল । সেই সময় গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে মায়ের পুজোর আয়োজন করে তাকে বন্ধ হতে দেয়নি কখনও । এবছরও সেই মতোই করা হয়েছে সব আয়োজন । আনন্দমুখর পরিবেশ এখন গোটা চুড়ামন গ্রামজুড়ে । রায় চৌধুরী পরিবারসহ সকল গ্রামবাসী মেতে উঠেছে সেই আনন্দধারায় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here