পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা ছিলেন শ‍্যামাপ্রসাদ, বঙ্গভঙ্গকারী নন

    0
    Syama Prasad creator of West Bengal,not the Bangla division

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    পশ্চিমবঙ্গের “রূপকার” হিসেবে উঠে আসে ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়ের নাম, কিন্তু তার আগে পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা হিসেবে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম অনেকের কাছেই অজানা একটি বিষয়। কিন্তু শ‍্যামাপ্রসাদ পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা কেন, কিভাবে ?
    আজ আমরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো। এর জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালীন সময়ে।
    স্বাধীনতার প্রাক্কালে যখন অনিবার্য হয়ে ওঠে দেশভাগ, জিন্নাহ বুঝে ফেলেন কংগ্রেসকে চাপ দিলে পাকিস্তান আসবেই এবং বাস্তবে সেটাই হয়েছিল। কেননা, তখন নেতাজি সুভাষ ছিলেন না, ছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী আর তাঁর কাছের মানুষ জওহরলাল। গান্ধী আর জিন্নাহর প্রপিতামহরা ছিলেন দুই সহোদর ভাই। সুতরাং, শিকড়ের টান তো একটা ছিলই। সেজন্য গান্ধী আদর করে জিন্নাহকে খেতাব দিয়েছিলেন “কায়েদ-ই-আজম‌।”

    আরো পড়ুন :“বাংলার রথচাইল্ড” বাঙালি রামদুলাল

    দেশভাগের সময় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সে সময় একমাত্র শ‍্যামাপ্রসাদ দাবি করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি পাকিস্তান গঠন করা হয়, তবে বাংলার হিন্দু প্রধান অঞ্চলগুলো পাকিস্তানে কেন যাবে ?
    ব্রিটিশ সরকার শ‍্যামাপ্রসাদের কথার গুরুত্ব বুঝেছিলেন এবং বাংলা ভাগ হয়েছিল। এর ফলে বেঁচে যায় পশ্চিমবঙ্গ। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ আর পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
    অথচ পদ্মাপারের মানুষ বেইজ্জত হয়ে, ভিটে হারিয়ে সেই পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে এসে এখানে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে শ‍্যামাপ্রসাদকে বলেন কিনা বাংলা ভাগের নায়ক “বঙ্গভঙ্গকারী !” আসলে তাঁরা জানেন না, পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা ছিলেন শ‍্যামাপ্রসাদ।

    পশ্চিমবঙ্গের বাম আমলেও রাইটার্সের মালিকদের অনেকেই ছিলেন পদ্মাপার থেকে তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসা মানুষ। তারপর এদেশে বিপ্লব ঘটিয়ে একের পর এক কলকাতার রাস্তা ও হাসপাতালের নাম পাল্টে মুসলমান নাম রেখেছেন। যেমন,
    ১) ফ্রি স্কুল স্ট্রিট হয়েছে মির্জা গালিব স্ট্রিট,
    ২) কলুটোলা হয়েছে মহম্মদ আলি সরণি ,
    ৩) কলিন্স লেন হয়েছে সৌকত আলি সরণি,
    ৪) সেন্ট্রাল ক‍্যালকাটা কলেজ হয়েছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ কলেজ।
    এসবগুলিই মুসলমান তোষণের উদাহরণ।

    আরো পড়ুন :জওহরলালের প্রতি যোগমায়া দেবী ও এক অভিশাপের কথা

    শুরুটা করেছিল কেরল সিপিএম। কেরলে সিপিএম মুসলিম লীগের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে সরকার তৈরি করেছিল এবং স্বরূপ কেরলের একটি জেলা মোল্লাপুরমকে মুসলমান জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সেখানকার আটশো হরিজনকে লোভ দেখিয়ে মুসলমান করার অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন মীনাক্ষীপুরমের নাম পাল্টে রাখা হয় “রহমৎ নগর।”
    শুধু কেরল নয়, উত্তর প্রদেশেও এ ধরণের মুসলমান তোষণের উদাহরণ রয়েছে। যেমন, প্রাচীন এলাহাবাদের নাম করা হয় “ইলাহাবাদ।”
    এর কোনোটাই দেশভক্তিতে নয়, বরং সবটাই করা হয়েছে ভোট ব‍্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে।
    অক্সফোর্ডের বিতর্কিত লেখক নীরোদ সি. চৌধুরী লিখেছিলেন, জাতীয় জীবনের উত্থান ও গৌরবের জন্য যোগ্য নেতৃত্বের যেমন দরকার হয়, তেমন-ই দরকার হয় ধ্বংস ও পচনের জন্য।
    দেশে এখন সেই ধ্বংস ও পচনের রাজনীতি চলছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here