অযোধ্যায় বিতর্কিত ধর্মস্থান ; কি উপদেশ দিয়ে গেছেন স্বামীজী

    0
    SWAMIJI REGARDING CONTROVERSIAL RELIGIOUS PLACES

    Last Updated on

    ॥ রামকৃষ্ণের ফৌজ ॥

    অযোধ্যার বিতর্কিত ধর্মস্থান নিয়ে বিবাদ ও বিতর্ক থামছেই না; বরং বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় বিভিন্ন রকম কথা বলছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছেন। কারুর সঙ্গে কারুর মিল নেই। এবার দেখা যাক স্বামী বিবেকানন্দ কি পথ দেখিয়ে গেছেন। বৈদেশিক বিজেতাগণের হাতে আক্রান্ত মন্দিরগুলি নিয়ে আমরা কি সিধান্ত নেবো, সেটা পর্যালোচনা করা যাক।

    স্বামীজী প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করতে আশা করি কারুর বাধা হবেনা॥

    আরও পড়ুন – আর্যরা বিদেশ থেকে আসেনি। হিন্দুরাই আর্য, বলতেন স্বামীজী….

    ” বৈদেশিক বিজেতাগণ আসিয়া মন্দিরের পর মন্দির ভাঙিয়াছে — কিন্তু এই অত্যাচার-স্রোত যেই একটু বন্ধ হইয়াছে, আবার সেখানে মন্দিরের চূড়া উঠিয়াছে। অনেক গ্রন্থ পাঠ করিয়া যাহা না শিখিতে পারো, দাক্ষিণাত্যের অনেক প্রাচীন মন্দির, গুজরাটের সোমনাথের মতো অনেক মন্দির দেখিয়া তোমরা তদপেক্ষা বেশী শিক্ষা পাইতে পারো — তোমাদের জাতির ইতিহাস সম্বন্ধে গভীরতর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করিতে পারো। লক্ষ্য করিয়া দেখ, ঐ সকল মন্দির শত শত আক্রমণের ও শত শত পুনরভ্যুদয়ের চিহ্ন ধারণ করিয়া আছে — বার বার বিধ্বস্ত হইয়াছে, আবার সেই ধ্বংসাবশেষ হইতে উত্থিত হইয়া, নূতন জীবন লাভ করিয়া পূর্বেরই মতো অচল অটলভাবে বিরাজ করিতেছে।

    ইহাই আমাদের জাতীয় চেতনা, জাতীয় প্রাণপ্রবাহ। এই ভাব অনুসরণ কর, গৌরবান্বিত হইবে। এই ভাব পরিত্যাগ কর, তোমাদের মৃত্যু নিশ্চয়। এই জাতীয় জীবন- প্রবাহের বিরুদ্ধে যাইতে চেষ্টা করিলে তাহার একমাত্র পরিণাম “বিনাশ” — “॥ —(বাণী ও রচনা – পঞ্চম খণ্ড- পৃ – 143 – ভারতের ভবিষৎ – মাদ্রাজ প্রদত্ত ভাষণ)॥

    আরও পড়ুন – সতীদাহ প্রথা ভারতে ছিলো, স্বামীজী সেকথা মানতেন না। আমেরিকায় প্রদত্ত ভাষণে অস্বীকার করলেন॥

    স্বামীজী বলছেন, অতীতে বিদেশীরা এসে একের পর এক মন্দির ভেঙেছে। কিন্তু অত্যাচার একটু কমে এলে হিন্দুরা আবার সেখানে মন্দির পুনর্নির্মাণ করেছে। এটাই হিন্দুদের “জাতীয় চেতনা, জাতীয় প্রাণপ্রবাহ”। তিনি আরও বলছেন, “এই ভাব অনুসরণ কর, গৌরবান্বিত হইবে”। যদি আমাদের ভেঙে দেওয়া মন্দিরগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের মতো উদ্ধার করি, আমরাই গৌরবান্বিত হবো, লজ্জার কোন ব্যাপার নয়।

    স্বামীজী সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন,” এই ভাব পরিত্যাগ কর, তোমাদের মৃত্যু নিশ্চয়”। অযোধ্যায় যদি রাম মন্দির নির্মান না হয়, তবে তো হিন্দুজাতির মৃত্যু নিশ্চিত। তিনি আরও সতর্ক করছেন “এই জতীয় জীবন-প্রবাহের বিরুদ্ধে যাইতে চেষ্টা করিলে তাহার একমাত্র পরিণাম হইবে “বিনাশ”—“। অযোধ্যা, মথুরা, কাশীতে যদি মন্দির না হয়, তবে মৃত্যু “নিশ্চয়” কি না তা ভাববার সময় প্রত্যেক হিন্দুর॥

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here