জিহাদ যুদ্ধে লৌহদণ্ডধারী সুফি প্রধান মা’ বারি খান্দায়াত এবং একটি নিষিদ্ধ গ্রন্থ

    0
    Sufi chief of the Jihad war, Maa Bari Khandayata, and a forbidden book

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    খ্রিস্টিয় ত্রয়োদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতবর্ষে সুফিবাদ প্রবল হয়ে ওঠেছিল । এ দেশে ইসলামধর্ম প্রচারে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই সুফিদের। অনেকের মতে, “সুফ” থেকে “সুফি” কথাটি এসেছে, আরবি ভাষায় যার অর্থ—এক টুকরো পশমি কাপড়। ভারতের সাধকদের মতোই একটি কম্বল গায়ে দিতেন সুফিরা। সুফিরা যে হঠযোগ অভ‍্যাস করতেন, তা তাঁরা শিখেছিলেন ভারতের নাথপন্থী যোগীদের কাছ থেকে। ১৩৩৫ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবন বতুতার লেখাই তার প্রমাণ। মন্দির নগরী খাজুরাহো ঘুরে ইবন বতুতা লিখছেন, “…সরোবরের চার কোণের গম্বুজে একদল জটাধারী যোগী থাকেন। অলৌকিক ক্ষমতা আয়ত্ত্ব করতে অনেক মুসলমান তাদের শিষ‍্য হয়েছে ।”

    আরো পড়ুন :সুফি, সাম্প্রদায়িকতা ও ব্রিটিশের লেখা সাম্প্রদায়িক ইতিহাস

    ( “…and the four corners of the pond cupolas in which live a body of the Jogis who have clotted their hair and let them grow. So that they became as long as their bodies and an account of their practising asceticism their colour had became extremely yellow. Many muslims follow them in order to take lessons from them.”
    —Mahdi Hussain, ” The Rehla of Iban Battuta.)

    কিন্তু হিন্দু নাথযোগীদের কাছে অলৌকিক শক্তির অধিকারী হবার জন্য তাঁদের শিষ‍্যত্ব নিয়েও পরবর্তীকালে সুফিরা নিজের মতো করে ঈশ্বরকে ডাকার পথ থেকে সরে পথভ্রষ্ট হয়ে শেষে জিহাদি হয়ে ইসলামের প্রচার-প্রসারে অস্ত্র ধরেছেন। আজকের লেখায় এইরকম এক জিহাদি সুফি যোদ্ধার কথা ।
    ঠিকানা : দাক্ষিণাত‍্যের বিজাপুর। এখানে এক জিহাদি সুফি প্রধানকে দেখা যাচ্ছে জিহাদ যোদ্ধা হিসেবে। নাম তাঁর—পীর মা’ বারি খান্দায়াত। ইব্রাহিম জুবাইরি’-র লেখা “রাইজাত-উল-আউলিয়া (১৮২৫-২৬ খ্রি:) গ্রন্থ অনুসারে, দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির আমলে ৭২০ হিজরিতে অর্থাৎ ১৩১০ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম বাহিনীর সঙ্গে দাক্ষিণাত‍্যে আসেন। তাঁর হাতে থাকতো একটি ভোঁতা লোহার দণ্ড, যা দিয়ে বিজাপুরের অমুসলমানদের বিরুদ্ধে শুরু করেন তাঁর জেহাদ। এই লৌহ দণ্ড দিয়ে তিনি অনেক মূর্তিপূজক কাফের রাজা-প্রজার মাথা ভেঙে ইসলামের বিজয় অভিযান শুরু করেন। লৌহদণ্ডধারী বলেই তাঁকে বলা হতো “খান্দায়াত।”
    না, এখানেই শেষ নয়, পীর মা’বারি খান্দায়াত বিজাপুরের একদল ব্রাহ্মণকে তাদের নিজেদের গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন ।

    আরো পড়ুন :সুফি প্রধানদের জিহাদি যুদ্ধ , নিজামুদ্দিন আউলিয়া ও খানকাহ বৃত্তান্ত

    ভারতীয় সুফিদের ওপর একটি বই লেখেন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক রিচার্ড ইটন। তাতে বিজাপুরের এই সুফি প্রধান মা’ বারির কথা আছে। বইটির নাম—“সুফিজ্ অব্ বিজাপুর ১৩০০-১৭০০ ( Sufis of Bijapur 1300 -1700 )”। এই গ্রন্থে বিজাপুরের আসা সুফিদের ভীষণরকম জিহাদি যোদ্ধা এবং হিন্দুদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের কথা লেখা আছে, যার মধ্যে অন্যতম এই মা’বারি খান্দায়াত। ইটন তাঁর গবেষণায় এইসব সুফিদের ইসলাম প্রচারের মধ্যে কোনো রকম শান্তির বিষয় দেখতে পান নি। ভারতবর্ষের মুসলমানরা রিচার্ড ইটনের এই গবেষণা গ্রন্থটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং ভারতবর্ষে এই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হয়ে যায়। না, তারপর ভারতবর্ষের কোনো ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিক এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা নেই ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here