স্মার্টফোনেই হচ্ছে গ্রাম থেকে হাইটেক্ মানব পাচার !

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    ৩০ শে জুলাই আরও একটি মানব পাচার বিরোধী দিবস ভাবাচ্ছে পুলিশ থেকে সমাজকর্মীদের। কারণ, ফেসবুক ও হোয়াটস আপের মতো সামাজিক মাধ্যমকে ব‍্যবহার করেই পাচারকারীরা টার্গেট করছে শিশু থেকে অল্প বয়সী মেয়েদের। প্রথমে স্মার্টফোনেই মেয়েদের সঙ্গে বন্ধুত্বের অভিনয় করছে পাচারকারীরা। তারপর তাদের দেওয়া হচ্ছে চাকরি বা বিয়ের লোভনীয় টোপ্। আর সে টোপ্ গিললেই পাচার।
    নারী ও শিশু কল‍্যাণ দপ্তর সূত্রে খবর, এরজন্য দায়ী স্মার্টফোন ও সহজলভ্য ইন্টারনেট। ৪০ শতাংশ ৪-জি ব‍্যবহারকারীর বাস গ্রামে। এদের ৪৬ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। আর এরাই পাচারকারীদের শিকার।
    সম্প্রতি আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। ঘটনাটা বিহারের। হোয়াটস আপে বন্ধুত্ব করে কম বয়সী একটি মেয়েকে ঠিকানা জানিয়ে দিল্লি আসতে বলে পাচারচক্রের একটি দল। সেইমতো মেয়েটি দিল্লি পাড়ি দেয়। এ ক্ষেত্রে পাচারকারীরা জিপিএসের মাধ্যমে ক্রমাগত নজর রেখেছিল মেয়েটির ওপর। শেষ পর্যন্ত বিহার পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পেরেছে। আর তখনই পাচারকারীদের কাজকর্মের পন্থা-পদ্ধতির কৌশলটি সামনে আসে।
    পাচারকারীরা মেয়েটিকে হাতের লাগালে পেলে শুরু হয় আসল খেলা। প্রথমে তাকে আটকে রাখে, তারপর ছবি ভিডিও তোলে। আর সেগুলি সোস‍্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেবার ভয় দেখায়। শেষ পর্যন্ত লোকলজ্জার ভয়ে অসহায় মেয়েটি আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় তাদের কাছে।
    পাচারকারীরা শিকার ধরতে কখনও কখনও অন্ লাইনে বিজ্ঞাপন দেয়।
    সম্প্রতি মানব পাচারের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে তা রীতিমতো উদ্বেগের। পরিসংখ‍্যানে দেখা যাচ্ছে,
    প্রতিদিন পাচার হচ্ছে ৪২ জন।
    এরমধ্যে ৬৬ শতাংশ মহিলা।
    এদের ৫৯ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।
    এরমধ্যে ৫৪ শতাংশ মেয়ে, বাকি শিশুসহ অন্যান্য।
    এ যাবৎ নথিভুক্ত মানব পাচারের সংখ্যা ৮,১৩২ টি।
    ১৮ বছরের কম বয়সী ২ লক্ষ শিশু বিক্রি হচ্ছে প্রতি বছরই।
    এভাবে সারা বিশ্বে তৈরি হয়েছে এ যাবৎ ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ক্রীতদাস।
    কীভাবে বন্ধ হবে এই হাইটেক্ মানব পাচার, উত্তর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here