রাজপ্রাসাদ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে বীরাঙ্গণা রাণী দুর্গাবতী

    0
    Rani-Durgavati

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    সময়কাল ১৫৪২ খ্রিস্টাব্দ।
    ভারতের মধ‍্যপ্রদেশের গণ্ডোয়ানা রাজ‍্যের রাজা সংগ্রাম শাহর জ‍্যেষ্ঠ পুত্র দলপ‍ৎ শাহ মারভিয়ার ঘরণী হয়ে এলেন চান্দেলরাজ কিরীট রায়ের কন‍্যা দুর্গাবতী। রাজকন্যা থেকে রাজরাণী দুর্গাবতী।
    ১৫৪৫ খ্রিস্টাব্দে দুর্গাবতীর কোল আলো করে এলো পুত্র বীরনারায়ণ।
    ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে মারা গেলেন স্বামী দলপৎ শাহ।
    পুত্র নিতান্তই নাবালক। তাই গণ্ডোয়ানার রাজসিংহাসনে বসলেন রাণী দুর্গাবতী।
    সিংহাসনে বসেই সিংহগড় থেকে সাতপুরা পর্বতমালায় অবস্থিত সুরক্ষিত চৌরগড় দুর্গে স্থানান্তরিত করলেন রাজধানী।
    দিল্লির মসনদে তখন তৃতীয় মোগল সম্রাট আকবর।
    ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দে আকবর মালব দখল করলেন। এর ফলে রাণীর রাজ‍্যসীমা মোগল সাম্রাজ্যকে স্পর্শ করলো।
    মোগল সেনাপতি খাজা আব্দুল মজিদ আসফ খানের নজর পড়লো রাণী দুর্গাবতীর সমৃদ্ধশালী রাজ‍্য গণ্ডোয়ানার ওপর।
    ১৫৬৪ সালে আসফ খান আক্রমণ করলেন রাণী দুর্গাবতীর গণ্ডোয়ানা রাজ‍্য। রাণী মনে করতেন, অসম্মানের চেয়ে মৃত্যু শ্রেয়। তাই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মোগল বাহিনীর সঙ্গে অসম যুদ্ধে নরাই নামক স্থানে চললেন রাণী দুর্গাবতী। গৌড় ও নর্মদার মাঝে অবস্থিত এই নরাই নামক স্থানেই শুরু হলো দু’পক্ষের তুমুল লড়াই।
    যুদ্ধে রাণীর ফৌজদার অর্জুন দাস মারা গেলেন। রাত নামলো যুদ্ধক্ষেত্র নরাইয়ে।
    রাণী চাইলেন রাতেই শত্রুশিবিরে আক্রমণ করতে। কিন্তু পাত্র-মিত্ররা রাজি না হওয়ায় তা সম্ভব হলো না।
    এদিকে সকাল হতেই বড়ো বন্দুক হাতে এলেন মোগল সেনাপতি আসফ খান।
    রাজকুমার বীরনারায়ণ শুরু করলেন তুমুল যুদ্ধ। বীরনারায়ণের বীরত্বে এই অসম যুদ্ধেও তিন তিনবার সুসজ্জিত মোগল বাহিনী পিছু হটলো।

    আরও পড়ুন – সম্রাট আকবর, রামমুদ্রা ও বাংলায় রাম সংস্কৃতি


    শেষে অসম যুদ্ধে আহত হয়ে নিরাপদে যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়লেন বীরনারায়ণ।
    হাতির পিঠে চেপে এবার যুদ্ধে এলেন রাণী দুর্গাবতী।
    হঠাৎ একটা তীর এসে লাগলো রাণীর কানের পাশে। এরপর ঘাড়েও লাগলো আরেকটা। সংজ্ঞা হারালেন রাণী। চেতনা ফিরে পেতেই মাহুত তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে যেতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু রাণী শুনলেন না। যুদ্ধক্ষেত্রেই আত্মাহুতি দিলেন বীরাঙ্গণা রাণী দুর্গাবতী।
    তারিখ : ২৪ শে জুন, ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দ।
    জন্মেছিলেন ৫ ই অক্টোবর, ১৫২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের বান্দা এলাকার কালিঞ্জর দুর্গে। শহীদ হলেন মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের নরাইয়ে ( আছালপুর)।
    তখন তাঁর বয়স মাত্র ৩৯ বছর।
    ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে গড়ে ওঠে রাণীর নামে “রাণী দুর্গাবতী মিউজিয়াম।”
    ১৯৮৩ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকারের উদ্যোগে রাণীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জব্বলপুর বিশ্ববিদ‍্যালয়ের নাম পাল্টে রাখা হয় “রাণী দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয়।”
    এরপর ১৯৮৮ সালের ২৪ শে জুন রাণীর আত্মবলিদান দিবসের স্মরণে ভারত সরকার তাঁর নামে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেন। এছাড়া জব্বলপুর জংশন থেকে জম্মুগামী ১১৪৪৯/ ১১৪৫০ ট্রেনটি “দুর্গাবতী এক্সপ্রেস” নামে নামকরণ করা হয়েছে।
    ভারত ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে আজও লেখা রয়েছে বীরাঙ্গণা রাণী দুর্গাবতীর বীর-গাথা।

    আরও পড়ুন – কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-৬)

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here