সর্বধর্ম সমন্বয় : রামকৃষ্ণ শিক্ষা নয় ধর্ম সংস্থাপন করতে অবতার আসেন

    0

    Last Updated on

    রামকৃষ্ণের ফৌজ

    স্বামীজী বিশ্ব বিজয় করে ফিরে এলে নব দিক্ষীত শিষ্য নিত্যানন্দজী অনুরোধ করেন মঠের একটা নিয়ম করার জন্য। তখন স্বামীজী মঠস্থ সকলকে কাছে ডাকাইলেন, এবং নিয়ম লিখে নেওয়ার জন্য আদেশ করিলেন। স্বামী শুদ্ধানন্দ তখন লিখতে শুরু করেন। বর্তমানে প্রত্যেক ব্রহ্মচারী যখন ব্রহ্মচর্য সম্পন্ন করে সন্যাসধর্মে দিক্ষীত হন তখন তাঁদেরকে এই নিয়মাবলী দেওয়া হয়। স্বামীজী বেলুড় মঠের নিয়মাবলীর মধ্যে লিখিয়েছেন যে,
    ” মুসলমানগণ যখন এইদেশে প্রথম প্রবেশ করেন, তখন তাঁহাদের ঐতিহাসিক মতে এই ভারতবর্ষে ৬০ কোটি হিন্দুর অধিবসতি ছিলো। এই গণনায় অত্যুক্তিদোষ না বরং অনুক্তি দোষ আছে। কারন, মুসলমানদিগের অত্যাচারেই অনেক প্রজা ক্ষয় হইয়া যায়। অতএব স্পষ্টই প্রতীত হইতেছে যে, হিন্দুর সংখ্যা ৬০ কোটিরও অধিক ছিলো ; কিছুতেই ন্যূন নয়। কিন্তু আজ সে হিন্দু ২০ কোটিতে পরিণত হইয়াছে। তাহার উপর খৃষ্টান অভ্যুদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২ কোটি লোক খৃষ্টান হইয়া গিয়াছে এবং প্রতি বত্সর প্রায় লক্ষাধিক লোক খৃষ্টান হইয়া যাইতেছে। এই হিন্দু জাতি ও ধর্মের রক্ষার জন্যই করুণাবতার ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণদেবো অবতীর্ণ হইয়াছেন”॥
    মঠের নিয়মাবলীর মধ্যে স্বামীজী স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, এই হিন্দু জাতি ও ধর্মের রক্ষার জন্যই ঈশ্বর রামকৃষ্ণরূপে এসেছেন। সর্বধর্ম সমন্বয় করতে নয়। গীতায় একই কথা বলা হয় যে, দুষ্কৃতকারী বিনাশের জন্য, সাধুদের পরিত্রাণের জন্য এবং ধর্মের সংস্থাপনের জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হই। মুসলমান খৃষ্টানের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের সমন্বয় করতে ঈশ্বর দেহ ধারণ করেননা। এখানে গীতার সঙ্গে মঠের নিয়মাবলীর মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। মুসলমান-খৃষ্টানের সাঁড়াশি আক্রমণে যখন 60 কোটি হিন্দু কমে যখন 20 কোটিতে পরিণত হয়ে প্রায় ধ্বংসের মুখে এসে পড়ে, সেই দুঃসময়ে রামকৃষ্ণ এসে ধর্মকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন। মুসলমান খৃষ্টান ধর্মের হাত থেকেই তিনি হিন্দু ধর্মকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছেন। মুসলমান ও খৃষ্টান ধর্মের সঙ্গে তিনি সমন্বয় করে যাননি॥

    বহু বছর ধরে শুনে আসছি, শ্রীরামকৃষ্ণ সর্বধর্ম সমন্বয় করে ছিলেন। আজ দেখবো কথাটা সত্যি না কি মিথ্যা। নরেন রামকৃষ্ণকে প্রথম দিনেই প্রশ্ন করেন, ঈশ্বরকে কি দেখা যায় ? আপনি কি ঈশ্বরকে দেখেছেন ? খুব সহজ সরল কণ্ঠে তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, দেখা যায়, এই যেমন তোকে দেখছি, এই রকমই ঈশ্বরকে দেখা যায়। তুই যদি চাস, তোকেও দেখাতে পারি। ঈশ্বরকে যে দেখা যায়, এটা ইসলাম ও ঈশাহী ধর্ম স্বীকার করে না। নরেনকে দেওয়া তাঁর প্রথম শিক্ষাটি ইসলাম ও ঈশাহী বিরোধী। বিদ্যাসাগরের সঙ্গে রামকৃষ্ণএর দেখা হয়েছিলো। তখন তিনি বলেন, ” নিষ্কামকর্ম করতে পারলে ঈশ্বরে ভালবাসা হয় ; ক্রমে তাঁর কৃপায় তাঁকে পাওয়া যায়। ঈশ্বরকে দেখা যায়, তাঁর সঙ্গে কথা কওয়া যায়, যেমন আমি তোমার সঙ্গে কথা কচ্চি”। ঈশ্বর দর্শন ব্যাপারটাই ইসলাম বা ঈশাহী ধর্মে নেই। তিনি ইসলাম-ঈশাহী বিরোধী শিক্ষাই দিয়ে গেছেন॥

    যখন রামকৃষ্ণ দেহত্যাগ করতে চলেছেন, তখন নরেনএর মনে সন্দেহ, ইনি কি সত্যিই অবতার ? নিজের মনের অন্তঃস্থলে প্রশ্ন তোলপাড় করছে , ইনি কি সত্যিই অবতার। মৃত্যুপথ যাত্রী ঠাকুর নরেনের অন্তঃস্থলের প্রশ্ন শুনতে পেলেন। নরেনকে ইশারায় পাশে ডেকে নিলেন। দিলেন জীবনের শেষ বাণী। আস্তে আস্তে বললেন, ” যে রাম, সেই কৃষ্ণ। ইদানিং এই দেহে রামকৃষ্ণ। তবে তোর বেদান্তের দিক থেকে নয় “। অবতার যুগে যুগে অবতীর্ণ হন, এই শিক্ষা ঠাকুর তাঁর নরেনকে এবং সমগ্র পৃথিবীকে দিয়ে গেলেন। তাঁর দেওয়া জীবনের শেষ শিক্ষাটাও ইসলাম ও ঈশাহী বিরোধী ॥

    ইসলাম শিক্ষা দিচ্ছে, মহম্মদই শেষ নবী, আর কোনও নবী ( অবতার ) পৃথিবীতে আসবেন না। গড প্রেরিত পুরুষ এই পৃথিবীতে আসবেন, বাইবেল সেকথা স্বীকার করে না। ঈশ্বর রাম রূপে, কৃষ্ণ রূপে, রামকৃষ্ণ রূপে এসেছিলেন, এই শিক্ষাটি ঠাকুর আমাদের দিয়ে গেছেন। তাঁর এই শিক্ষাটি ইসলাম ও ঈশাহী বিরোধী। কোনও ধর্ম সমন্বয় তিনি করেননি॥

    অবতার আসেন ধর্ম ” সংস্থাপন ” করতে। সর্বধর্ম সমন্বয় করতে নয়। এটা বলা খুবই মূর্খতা যে, রামকৃষ্ণ সর্বধর্ম সমন্বয় করতে এসেছিলেন। কারন সর্বধর্ম সমন্বয় করা অবতারের Duty নয় ॥

    ইসলাম শিক্ষা দিচ্ছে, মূর্তিপূজা করা সব থেকে হারাম। ইসলাম ভারত আক্রমণের শুরু থেকেই ভারতের বহু মন্দির এবং অন্দরের মূর্তিগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। শুধু ভারতে নয় মক্কার কাবা মন্দিরের 360 মূর্তি লাঠি পেটা করা হয়। মদীনার কাছে ‘ যুল খালাসা ‘ নামক স্থানে মূর্তি সহ মন্দির ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হয়। জেরুজালেম ইহুদীদের সর্বশ্রেষ্ঠ সিনাগগ ছিলো “টেম্পল মাউন্ট”। সেটা নিয়ে বিবাদ আজও চলছে। তুরস্কের সেন্ট সোফিয়ার গির্জা নিয়ে বিবাদ আছে। রামকৃষ্ণ আজীবন পূর্তি পূজারী। ঈশাহী পুতুল পূজা বিরোধী। আর এই পয়েন্টে রামকৃষ্ণ শিক্ষা ইসলাম ও ঈশাহী বিরোধী॥

    ” যত মত, তত পথ ” এই কথাটাই ইসলাম ও ঈশাহী বিরোধী। ইসলাম বলছে আল্লা ছাড়া আর কোনও উপাস্য নাই। একমাত্র ইসলামের মাধ্যমেই বেহেশতে পৌঁছান যায়। বেহেশতে যাবার একটাই রাস্তা। ঈশাহী ধর্ম বলছে, একমাত্র যীশুই পরিত্রাণ করতে পারে। আর কেউ পরিত্রাণ করতে পারেনা। রামকৃষ্ণ সব ধর্মের বাণী উল্টে দিয়ে বললেন, ” যত মত, তত পথ “।
    রামকৃষ্ণ এই পয়েন্টে কোন সর্বধর্ম সমন্বয় করেননি॥

    রামকৃষ্ণএর পুকুরে অনেক ঘাট। সব লোকের চান করার ব্যাবস্থা ঠাকুরের পুকুরে আছে। ইসলাম পুকুরে একটাই ঘাট। ঈশাহী পুকুরেও একটাই ঘাট। কোন সমন্বয় রামকৃষ্ণ করেননি॥

    রামকৃষ্ণ বলেন, ” এ-সব বুদ্ধির নাম মতুয়ার বুদ্ধি ; অর্থাত্ আমার ধর্মই ঠিক, আর সকলের মিথ্যা। এ-বুদ্ধি খারাপ। ঈশ্বরের কাছে নানা পথ দিয়ে পৌঁছান যায়” । — পৃ -151
    ইসলাম স্বীকার করেনা মূর্তি, গাছ,পাথর ইত্যাদী পূজা করে আল্লার কাছে পৌঁছান যায়। ইসলাম প্রচার করে, সেটাই সঠিক ও একমাত্র পথ। ঈশাহী ধর্মও একই পথের পথিক। তাই এরা অন্য ধর্ম বিনাশ করে নিজ মত প্রতিষ্ঠা করে। দুটি ধর্মের সঙ্গে রামকৃষ্ণএর কোনও মিল নেই॥

    রামকৃষ্ণ শিক্ষা, “ধ্যান করবে মনে, বনে, কোনে “। ” নির্জনে দই পাততে হয় “। এই শিক্ষা ইসলাম ও ঈশাহী বিরোধী। ইসলাম শিক্ষা দিচ্ছে, জোর গলায় আজান হবে, সব মুসলমান এক সঙ্গে জড়ো হবে, এক সঙ্গে আল্লার আরাধনা করা হবে। সব মুসলমান এক সাথে জড়ো হয়ে নামাজ পড়লে, বেশী পুণ্য (সওয়াব)। খৃষ্টানরাও তাই। ঘন্টা বাজবে গির্জাতে রবিবারে, নির্দিষ্ট সময়ে। সবাই জড়ো হবে। ফাদার দুর্বোধ্য হিব্রু ভাষায় মন্ত্র পড়াবেন। এসব রামকৃষ্ণ শিক্ষা থেকে বহুদূরে ॥

    ইসলাম ও ঈশাহী ধর্মে জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থনা করতে দেখা যায়। ঐ দুটি ধর্ম মসজিদে বা গির্জাতে গিয়ে নামাজ বা প্রেয়ার করতে হয়। ঠাকুরের শিক্ষা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলতেন ধ্যান করবে মনে, বনে, কোনে। দঙ্গল বেঁধে ঈশ্বরএর নাম তাঁর শিক্ষার মধ্যে নেই। তাঁর নরেন ও মাস্টারকে ধ্যান করতে পাঠাতেন পঞ্চবটির নির্জন ঝোপের মধ্যে। এই ব্যাপারে ইসলাম ঈশাহী ধর্মের সঙ্গে তিনি সমন্বয় করেননি ॥

    রামকৃষ্ণ নিজে প্রথম জীবনে গভীর রাত্রে পবিত্র গঙ্গার তীরে পঞ্চবটির ঝোপের মধ্যে সম্পূর্ণ শিখাসূত্র পরিত্যাগ করে অর্থাত্ উলঙ্গ হয়ে বছরের পর বছর সাধনা করে ছিলেন। যে গুরুর কাছে বেদান্ত মতে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন, তিনিও শিখা সূত্র পরিত্যাগ করে ঘুরে বেড়াতেন। নাম দিয়েছিলেন ন্যাংটা। এসব ব্যাপার স্যাপার ইসলাম বা ঈশাহী ধর্মে নেই। মোদ্দা কথা সাধনা, ধ্যান বলে কিচ্ছু ইসলাম ও ঈশাহী ধর্মে নেই। হিন্দুধর্মের সুপ্রাচীন নানা সাধনা পদ্ধতির কোনও পরিবর্তন তিনি করেননি।

    রামকৃষ্ণ শিক্ষা দিচ্ছেন, ” কামিনী কাঞ্চন ত্যাগ না করলে ঈশ্বর দর্শন হয়না”। তিনি নিজে কামিনী কাঞ্চন সম্পূর্ণ ভাবে ত্যাগ করে পৃথিবীবাসীকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। ইসলাম বেহেশতে গিয়ে অনন্ত যৌবনা নারী পাওয়ারই সাধনা। ইহ জীবনেও যথেষ্ট নারী ভোগ করারই উপদেশ ইসলাম ধর্মে আছে। এই পয়েন্টে রামকৃষ্ণ কোনও সমন্বয় করেননি। রামকৃষ্ণ শিক্ষা দিচ্ছেন, দু-একটা সন্তান হয়ে গেলে স্বামী-স্ত্রী ভাই বোনের মতো বাস করবে। ইসলাম ও ঈশাহী ধর্মে এসব শিক্ষা দেখতে পাইনা। রামকৃষ্ণ শিক্ষা এই ব্যাপারে ভিন্ন মেরুতে॥

    সমগ্র পৃথিবীতে ইসলাম বিস্তার করতে হবে, এটা কোরআনএর শিক্ষা। মুসলমানরা বেরিয়ে পড়লো কোরআন আর কৃপাণ নিয়ে। খৃষ্টানরাও সারা পৃথিবীতে খৃষ্টধর্ম বিস্তার করতে বাইবেল আর রাইফেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। এখন কাজ করছে ডলার শক্তিতে।
    রামকৃষ্ণ এসব থেকে বহুদূরে। সর্বধর্ম সমন্বয়, অবতারএর Duty নয় ॥

    ইসলাম ও ঈশাহী ধর্ম নিরাকারবাদী। নিরাকার প্রসঙ্গে ঠাকুর বলছেন, নিরাকারবাদীরা বড্ড একঘেঁয়ে। সানাইয়ে রাগিণী বাজছে। একজন পোঁ ধরেছে। আর একজন সানাইয়ের সাত ফোকর দিয়ে নানা রকম রাগ রাগিণী বাজাচ্ছে।
    শুধুমাত্র পোঁ ধরে থাকা একঘেঁয়েমি। নানা রকম রাগ রাগিণী বাজানো তাঁর পছন্দ। তিনি বলেন, “শুধু ব্রহ্ম ব্রহ্ম কেন করব ! শান্ত, দাস্য, বাত্সল্য, সখ্য, মধুর, সবভাবে তাঁকে ডাকব — আনন্দ করব, বিলাস করব”। (পৃ -1099)॥ ঠাকুরের এই সানাইয়ের উপমা ইসলাম, ঈশাহী ও নিরাকারবাদের বিরোধী। সাকার পথে সাধনা করলে নানা রূপে ঈশ্বরের রস আস্বাদন করা যায়॥

    ইসলাম তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন করতে কোরআন আর কৃপাণ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। খৃষ্টানরা বাইবেল আর রাইফেল নিয়ে। দুটি ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, তাদের ধর্মই শ্রেষ্ঠ। আমার ধর্মই শেষ কথা। রামকৃষ্ণ ওসব এক কথাতেই নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি শিক্ষা দিচ্ছেন, ওসব মতুয়ার বুদ্ধি, যারা বলে আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ॥

    নবী মহম্মদ তাঁর ধর্ম বিস্তার করতে এক বিশাল ফৌজ গঠন করেন। জিহাদ করে ইসলাম বিস্তার তাঁর শিক্ষা, লক্ষ্য ও কর্মসূচীর মধ্যেই ছিলো। খৃষ্টানও তাই। রামকৃষ্ণের কোন ফৌজ ছিলো না। শুধু মাত্র ১২ জন সর্বত্যাগী শিষ্য ছিলো। রামকৃষ্ণ সর্বধর্ম সমন্বয় করেছিলেন এমন ভাবাটাই চরম মূর্খতা॥

    রামকৃষ্ণ বলতেন, ” তাঁর প্রেমের এক বিন্দু যদি কেউ পায়, কামিনী-কাঞ্চন অতি তুচ্ছ বলে বোধ হয়। মিছরির পানা পেলে চিটে গুড়ের পানা তুচ্ছ হয়ে যায়”। — (পৃ -330)॥ মিছরির পানার সঙ্গে চিটে চিটেগুড়ের পানার সমন্বয় করার মতো কোনও শিক্ষা রামকৃষ্ণ দিয়ে যাননি ॥

    রামকৃষ্ণ সেই যুগের কোলকাতার বিখ্যাত ব্যাক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। যেমন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, কেশব সেন, শিবনাথ শাস্ত্রী,দেবেন ঠাকুর, ( কিশোর রবি ঠাকুরের সঙ্গে দুবার দেখা হয়েছিলো ) ইত্যাদী। বিখ্যাত ব্যাক্তিদের সঙ্গে কথোপকথনএর সময় অমৃত নিঃসারিত হয়েছিলো। মাষ্টার সেটা লিখে রাখেন। আর সেটাই কথামৃত। ঠাকুর খুবই উত্সাহ ভরে নারায়ণ শাস্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সে যুগের বিখ্যাত ব্যাক্তি মাইকেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণএর মুখ দিয়ে একটা কথাও বার হয়নি। নারায়ণ শাস্ত্রী মাইকেলকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি স্বধর্ম ত্যাগ করলেন কেনো ? মাইকেল পেটের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করেছিলেন। অর্থাত্ পেটের দায়ে।
    তখন নারায়ণ শাস্ত্রী বলেন, “যে পেটের জন্য ধর্ম ছাড়ে, তার সঙ্গে কথা কি কইব”। কথা আর এগোয়নি। মাইকেল ঠাকুরকে কিছু বলতে অনুরোধ করেন। ঠাকুর বলেন, ” কে জানে, কেনো আমার কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। আমার মুখ কে যেন চেপে ধরেছ ” । উভয়ে ফিরে আসেন।

    রামকৃষ্ণ যদি সর্বধর্ম সমন্বয় করতেই আসবেন, তবে ধর্মত্যাগী মাইকেলের সঙ্গে কিছু কথা হতো, কেউ তাঁর মুখ চেপে ধরতো না ॥

    তাঁর শিক্ষা, ” একটা ইটকে বা পাথরকে ঈশ্বর বলে যদি ভক্তিভাবে পূজা করো, তাতেও তাঁর কৃপায় ঈশ্বর দর্শন হতে পারে “। ইসলাম ঈশাহী ধর্মের সঙ্গে তাঁর শিক্ষার কোনও মিল নেই। – ( পৃ 432)

    রামকৃষ্ণ আরও শিক্ষা দিচ্ছেন, “লজ্জা হয়না। ছেলে হয়ে গেছে, আবার স্ত্রীসঙ্গ! ঘৃণা করেনা!— পশুদের মতো ব্যাবহার! নাল, রক্ত, মল, মূত্র —- এসব ঘৃণা করেনা ! যে ভগবানের পাদপদ্ম চিন্তা করে, তার পরমাসুন্দরী রমণী চিতার ভস্ম বলে বোধ হয়। যে শরীর থাকবে না — যার ভিতর কৃমি, ক্লেদ, শ্লেষ্মা, যতপ্রকার অপবিত্র জিনিস — সেই শরীর নিয়ে আনন্দ। লজ্জা হয় না”। — ( পৃ 329)
    রামকৃষ্ণ শিক্ষা অন্য ধর্মের শিক্ষা থেকে বহু দূরে। বেহেশতে গিয়ে নারীসঙ্গ পাওয়ার লোভ যে ধর্ম দেখায়, সেই ধর্মের সঙ্গে ঠাকুর সমন্বয় করেছিলেন, এটা ভাববার আগে পাগলখানার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন ॥

    মুসলমানরা নামাজের আগে আজান দেন। একটি কথা সেখানে দিনে পাঁচ বার উচ্চারণ করা হয়। আজানের বাণীটির বাংলা ভাবার্থ হলো, “আল্লাহ ছাড়া আর কোনও উপাস্য নেই , মহম্মদই আল্লাহের একমাত্র রসুল”। রামকৃষ্ণ শিক্ষা এর উল্টো। তিনি বলেন, পাথর, গাছ, ইট, ইট, কাঠ, শিব, কালী, দুর্গা, কৃষ্ণ, রাম, বুদ্ধ, জৈন, সূর্য্য, তারকা, পাহাড়, নদী – যে কোনও রূপেই ঈশ্বরকে ডাকা যায়। কোনও ব্যাপারে ইসলাম-ঈশাহী ধর্মের সঙ্গে তিনি সমন্বয় করেননি। যিনি নিজের অন্নদাতা রানী রাসমনি দেবীকে প্রকাশ্যে ঠাস করে চড় মারতে পারেন, তিনি সর্বধর্ম সমন্বয় করবেন এটা ভাবাই মূর্খতা॥

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here