এ রাজ‍্যের লাগাতার অনুপ্রবেশ, কিছু অনিবার্য প্রশ্ন এবং আতঙ্কের ভবিষ্যৎ

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    ঐতিহ্য পরম্পরা অনুসারে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল শহরটা তৈরি করেছিলেন রামায়ণের রামচন্দ্রের ছেলে কুশ। আফগানিস্তানের বামিয়ান বৌদ্ধ মূর্তিগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তালিবানরা। কিন্তু সেখানকার হিন্দু ও বৌদ্ধরা সব গেল কোথায়? মহাভারত যুগে আফগানিস্তানের নাম ছিল “গান্ধার।” এই গান্ধার দেশের রাজকন‍্যা ছিলেন গান্ধারী—দুর্যোধন-জননী। সেই “গান্ধার” এখন নাম বদলে “কান্দাহার।” আরেকটি দেশ কাম্বোডিয়া। সেখানকার রাজা সূর্য বর্মণ তৈরি করেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো মন্দির—আঙ্কোরভাটের বিষ্ণু মন্দির। এসব জায়গায় আগে বিপুল সংখ্যায় হিন্দুরা ছিলেন। এখন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি।
    ১৫৬৯ খ্রিস্টাব্দের আগে পর্যন্ত বর্তমান ইরাণের নাম ছিল “পারস্য।” সেখানকার অধিবাসী পারসিকরা ছিলেন অগ্নি উপাসক এবং সূর্যদেবের পূজারী। মুসলমান আক্রমণে “পারস্য” হলো “ইরাণ।” যারা থেকে গেল, ধর্ম বদলে তারা মুসলমান হলো। অল্প সংখ্যক নৌকোয় চড়ে পাড়ি দিল ভারতের গুজরাটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টাটা পরিবার।
    এবছরের জানুয়ারিতে খ্রিষ্টান অধ‍্যুষিত ফিলিপিন্স ভেঙে তৈরি হয়েছে নতুন একটি মুসলমান রাষ্ট্র “দার-উল্-ইসলাম” বাংসামোরা। ফিলিপিন্সের দক্ষিণে মিনান্দাও অঞ্চলে একটি পৃথক মুসলমান রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে ১৯৭০-এর দশকে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। পরে “মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রণ্ট” এই অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন দাবি করে। গত জানুয়ারিতে হয় গণভোট। ভোটাররা বাংসামোরা অঞ্চল গঠনের পক্ষে রায় দেন। এরপর পৃথক বাংসামোরা রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিলিপিন্স সরকার। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো দুতার্তে নিজে বাংসামোরার মুসলমান নেতা মুরাদ ইব্রাহিমকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে তাঁকে সেখানকার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। সেইসঙ্গে বাংসামোরার কম‍্যাণ্ডারসহ মোট ৮০ জনকেও শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। আগামী ২০২২ সালে আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভোটের আগে পর্যন্ত কাজ করে যাবে মুরাদ ইব্রাহিমের সরকার।
    ১৯৭০ সাল থেকে চলে আসা এই দীর্ঘ লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। জয় শেষে আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রায় ১২ হাজার যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ভন আল হকের প্রতিক্রিয়া, যে স্বপ্নকে সামনে রেখে লড়াই করেছি, এখন তা পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তাই এখন আর বন্দুক বয়ে বেড়ানোর দরকার নেই।
    ফিলিপিন্সের এই বাংসামোরা থেকে চিনের জিন জিয়াং, রাশিয়ার চেচনিয়া, মায়ানমারের রাখাইন এবং ভারতের কাশ্মীর—সব জায়গাতেই চলছে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষার আড়ালে মুসলমান রাষ্ট্র গঠনের চক্রান্ত। চিন ও রাশিয়া এক্ষেত্রে দু’জনেই হাই-ডোজ্ ওষুধ প্রয়োগ করেছে। কাশ্মীর, আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারত, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গে আগামীদিনে যদি এই সংকট তৈরি হয়, কি হবে সেদিন ?
    ইন্দোনেশিয়ার বালিদ্বীপে ৩০ বছর আগেও ১০০ শতাংশ হিন্দু ছিল, এখন ৮০ শতাংশ। কাশ্মীরে ৩০ বছর আগে ৫০ শতাংশ হিন্দু ছিল, এখন ৩ থেকে ৪ শতাংশ। কেরলে ১০ বছর আগে ৬০ শতাংশ হিন্দু ছিল, এখন ২০ শতাংশ।
    সারা বিশ্বে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী দেশ ৮০ টি, মুসলমান দেশ ৫৬ টি এবং অন‍্যদিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মাত্র ২ টি, একটি ভারত, অন্যটি নেপাল। কিন্তু বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সুতোয় বাঁধা এই দুটি দেশ। ভারত ভেঙে তৈরি হওয়া আফগানিস্থান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ হয়ে গেল মুসলমান রাষ্ট্র। আর টুকরো হয়ে যাওয়া ভারতের হিন্দু প্রধান অংশটা বহুত্ববাদ আঁকড়ে হয়ে গেল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।
    ‌জমি বাড়ছে ইসলামের। কাশ্মীর, আসামসহ উত্তর-পূর্ব ভারত, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গের আগামী ভবিষ্যৎ কি এরপর ? লাগাতার অনুপ্রবেশের ফলে ইতিমধ্যেই বদলে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন‍্যাস। এরপর গণভোট হলে নিশ্চিতভাবেই পাল্টে যাবে দেশের ভূগোল। আর সেই সর্বনাশের পথেই কি এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ? উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here