পুঁজির অভাবে ধুঁকছে বীরভূমের প্রাচীন রাজধানী রাজনগরের ছিপ পাড়া

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    চাহিদা আছে, বাজার আছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড-বিহার-বাংলাদেশ জুড়ে। এই শিল্পে লাগে না কোনো বিদ্যুৎ। তবুও ধু়ঁকছে ছিপ পাড়া। কারণ, পু়ঁজি নেই। জেলা বীরভূমের একদা রাজধানী এবং বর্তমানে এ জেলার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া প্রান্তিক অঞ্চল রাজনগর থানার ছিপ পাড়ার ছিপ-শিল্পীরা এখন তাই পু়ঁজির আশায় দিন গুনছেন।
    পু়ঁজির অভাবে উৎপাদন কম করতে হয়। আবার বেশি লাভের আশায় বেশিদিন মজুত রাখলে ঘুন ধরে যায় ছিপে। তাই কম লাভে বেশি মেহনতের মাল শেষ পর্যন্ত পাইকারদের হাতেই বেচতে হয় পেটের দায়ে।
    রাজনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাতায় পাড়াটির নাম–“ছিপ পাড়া।” কেউ বলেন, লগি পাড়া। কেউ বলেন, দাঁড়িসেঁকা পাড়া। বাঁশের কঞ্চিকে চাপ দিয়ে সোজা করে কাঠ বা কয়লার আগুনে সেঁকে তৈরি হয় বিভিন্ন আকারের মাছ ধরার সৌখিন ছিপ। কঞ্চির চলতি নাম হলো “লগি।” আর ছিপের আরেক নাম “দাঁড়ি।” তাই স্থানীয় মানুষজন একে “লগি পাড়া” এবং ” দাঁড়িসেঁকা পাড়া” বলেন। পাড়ায় ৪০ ঘর গরীব সংখ্যালঘু মুসলমান পরিবারের বাস। অধিকাংশ পরিবার বংশপরম্পরায় এই ছিপ তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে সেখ কোবাদ, সেখ দিলীপ, সেখ হালিম, সেখ নসিব,আক্কেল আলী, সেখ জমিরউদ্দিনরা জানান, চাহিদা আছে, কিন্তু আমাদের পু়ঁজি নেই। এই শিল্পে কোনো বিদ্যুৎ লাগে না। তবুও আমরা পিছিয়েই আছি। ব‍্যাঙ্ক আমাদের ঋণ দেয় না, গ‍্যারেণ্টার খোঁজে। আমরা গ‍্যারেণ্টার কোথায় পাবো বলুন ? বাম আমলে আমরা শিল্পী হিসেবে কার্ড পেয়েছি। তারপর এই আমলে আর কিছুই হয়নি। এখনকার ছেলেরা আর এই পেশায় আসতে চাইছে না। আমরা কোনো রকমে এই শিল্পটাকে টিকিয়ে রেখেছি।
    বীরভূমের রাজনগর ছিপ পাড়ায় এখন সবার অন্তরের কথা,পু়ঁজি চাই, পু়ঁজি।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here