প্রকাশ্যে গোহত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন শ্রী শ্রী মা-ও

    0

    Last Updated on

    রামকৃষ্ণের ফৌজ

    সাম্প্রতিককালে পহেলু খানের রায় নিয়ে দেশ উত্তাল | বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের নতুন একটি ইস্যু হল মব লিঞ্চিং | মূলতঃ উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান প্রভৃতি রাজ্যে যাকে কিনা আমরা গোবলয় বলেই বেশি চিনি, সেখানে “গো-রক্ষক” নামক এক নতুন বাহিনী তৈরী হয়েছে । অভিযোগ, এই গো-রক্ষক বাহিনী নাকি গরু চোর ও গো-পাচারকারীদের ধরে কষে পিটাই করছে । তাতে দু একটা মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে । পহেলু খআন যার উদাহরণ বলে চেণচটামেচি করেন বিরোধীরা | সারা দেশে মাসের পর মাস ধরে কচ্ কচানি চলতে থাকে । কিন্তু কোথা থেকে এল এই মব লিঞ্চিংয়ের ঘটনা | ফিরে দেখার জন্যই এই লেখা |

    একটা কথা বাংলায় খুব চালু আছে | “বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত কাল তা ভাবে”। ইতিহাস বলছে এই মব লিঞ্চিঙ এর সূত্রপাতও নাকি বাংলাতেই | এবং সেটা ঘটেছিল রামকৃষ্ণ-সারদা মায়ের জন্মস্থানের আশপাশেই । না মৌখিক দাবি নয় | এর স্বপক্ষে যুক্তিও রয়েছে | একেবারে বইয়ে লেখা প্রমাণ | মব লিঞ্চিংএ সরাসরি সম্মতি না দিলেও গোহত্যার প্রতিবাদে নাকি সায় ছিল সারদা মায়ের | প্রতিবাদকারীদের শ্রীশ্রী সারদা মা আশীর্বাদও করেন বলে উল্লেখ বইটিতে ।(বইয়ের নাম — শ্রীশ্রী মায়ের কথা, পৃষ্ঠা — 305 — ঘটনা বর্ণনা — স্বামী অরূপানন্দ।)
    .
    ” এই সুরেনবাবু যখন বল্লারতনগঞ্জ স্কুলে হেডমাস্টার ছিলেন, সেই সময় তিনি তথাকার কসাইগণ জীবন্ত গরুর চামড়া খসাইয়া লয় জানিয়া বড়ই ব্যথিত হন। দুর্বৃত্তরা একদিন স্কুলের সামনেই ঐরূপ করিল। হিন্দু ও মুসলমান ছাত্র ও শিক্ষকগণ এবং সুরেনবাবু ইহার খুব প্রতিবাদ করেন। কসাইগণ মারও খায়। ইহা লইয়া তথায় একটা গন্ডগোল বাধে। কসাইগণ সুরেনবাবুর উপর অত্যাচার করিবে বলিয়া তাঁহাকে ভয় দেখায়। এই সময় স্কুলের দুই-তিনটি ছাত্র শ্রীশ্রীমার কৃপালাভের জন্য জয়রামবাটী যায়। সুরেনবাবু ঐসঙ্গে পত্র দেন; তাহারাও সব ঘটনা শ্রীশ্রীমাকে নিবেদন করে। মা শুনিয়া শিহরিতে লাগিলেন, এবং সুরেনবাবুকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিলেন, “তোমরা যদি এমন কাজের প্রতিবাদ না করো, তবে কে করবে”?

    . মায়ের কথা মতো সুরেনবাবুকে খুব অভয় দিয়া পত্র লেখা হইল এবং যাহাতে এরূপ নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে তাহারই বিশেষ চেষ্টা করিতে বলা হইল । সুরেনবাবুর দ্বিতীয় পত্রের উত্তরে মা লিখিতে বলিলেন, “ভগবান যদি সত্য হন, তবে নিশ্চয়ই এর প্রতিবিধান হবে”। এই ঘটনা উপলক্ষে মকদ্দমা হইয়াছিল । ইহার ফল আশানুরূপ না হইলেও ক্রমে প্রকাশ্যভাবে ঐ নৃশংস কর্মের অনুষ্ঠান একেবারে বন্ধ হইয়া গেলো” ।

    . সারদা মা স্পষ্ট উপদেশ দিচ্ছেন
    1)প্রতিবাদ তোমরা ছাড়া কে করবে ॥
    2)পরে যেন গোহত্যা না হয় তা দেখতে হবে॥
    3)ভগবান যদি থাকেন প্রতিবিধান হবে॥
    4)কোর্টে কেস হয়েছিল॥
    5)প্রকাশ্য স্থানে গোহত্যা বন্ধ হয়ে যায়॥

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here