তেমুজিন থেকে চেঙ্গিস খান, যাযাবর ও যাযাবর থেকে মোঙ্গল জাতি তৈরির ইতিবৃত্ত

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    জাতি কি তৈরি করা যায় ?

    উত্তর হলো যায় এবং বাস্তবে বিভিন্ন যাযাবর গোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে মোঙ্গল জাতি তৈরি করেছিলেন চেঙ্গিস খান।
    চেঙ্গিস খানের আসল নাম–তেমুজিন। ১১৫০ থেকে ১১৬০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মঙ্গোলিয়ার বোরজিকিন বংশে জন্ম। পিতা–ইয়েসুকাই, মা–হয়লুন। পিতার গোত্র–বরজিগিন, মায়ের গোত্র–অলখুনুত। পরবর্তীকালে বরজিগিন গোত্র-ই রাজকীয় গোত্রের পরিচিতি লাভ করে।
    ছোটবেলা থেকেই ঘোড়া চালনা শিখেছিলেন চেঙ্গিস। মাত্র ৬ বছর বয়সে নিজের গোত্রের সঙ্গে শিকারে বেরোনোর অনুমতি পান। চেঙ্গিসের বয়স যখন ৯ বছর বয়স, তখন তার পিতাকে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার পরিবারকে পুরোপুরি ঘরছাড়া করা হয়|

    আধুনিক মঙ্গোলিয়ার এলাকা জুড়ে একসময় ছিল বিভিন্ন চিন সাম্রাজ্য। এলাকায় ছিল বিভিন্ন যাযাবর গোষ্ঠী। চেঙ্গিস পূর্ব ও মধ্য এশিয়ার অনেকগুলি যাযাবর গোষ্ঠীকে একত্রিত করে একটি সামাজিক পরিচয় দিলেন, সে পরিচয় হলো “মোঙ্গল জাতি।” আর চেঙ্গিস হলেন সেই মোঙ্গল জাতির “খান” অর্থাৎ পিতা। ১১৯০ খ্রিস্টাব্দে তেমুজিন মোঙ্গল জাতির একমাত্র “খান” অর্থাৎ নেতা হবার সংকল্প নিয়ে শুরু করেছিলেন যুদ্ধ অভিযান। প্রথমেই চিনা সাম্রাজ্য
    ও পশ্চিম এশিয়ার তুর্কিদের বিরুদ্ধে শুরু করেন অভিযান চালিয়ে জয়ী হোন। এরপর ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে অভিষেক হয় তেমুজিনের। উপাধি নিলেন–চেঙ্গিস খান।

    আরো পড়ুন :নালন্দা ধ্বংসকারী,বঙ্গবিজয়ী বখতিয়ার,কামরূপে ব্যর্থ কেন


    ১২২৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ২১ বছর ধরে ইওরোপ ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে অভিযান চালান। চেঙ্গিসের চেষ্টায় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছিল মোঙ্গল সাম্রাজ্য। এরপর চেঙ্গিসের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ও পৌত্রগণ প্রায় ১৫০ বছর ধরে মোঙ্গল সাম্রাজ্যের অধীশ্বর ছিলেন।
    চেঙ্গিস উপাধি নিয়েছিলেন “খান।”
    এখন দেখা যাক্, এই “খান” শব্দের অর্থ কী।
    বুৎপত্তিগতভাবে মোঙ্গলীয় ও তুর্কি ভাষায় “খান” শব্দের অর্থ হলো–নেতা, সেনানায়ক বা শাসক। আবার “খান” অর্থে গোত্রপতিও বোঝায়।
    মোঙ্গলরা ” খান” শব্দটি আফগানিস্তান থেকে এনেছিল। আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ “খান” শব্দ ব‍্যবহার করে থাকেন। বিশেষ করে হাজারা ও পাশতুন ব‍্যাক্তির নামের সঙ্গে “খান” শব্দটি আছে। অনেকে বলেন, “খান” এসেছে “হান” থেকে। পার্শি “হান” শব্দের অপভ্রংশ “খান।” হান একটি জাতি। আনুমানিক ৪৫০ থেকে ৫৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এপথালিট হানরা উত্তর পারস্য, আফগানিস্থান ও উত্তর ভারতের গান্ধার রাজ‍্য আক্রমণ করেছিল।

    আরো পড়ুন: খৃষ্টান থেকে ইসলাম , জেনিসারি বাহিনী এবং অটোমান তুর্কি সাম্রাজ্যের ওঠা পড়া

    ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা জহিরউদ্দিন মহম্মদ বাবর ( ১৪/০২/১৪৮৩–২৬/১২/১৫৩০ খ্রি:) ছিলেন পিতার দিক থেকে সরাসরি তৈমুর লঙের এবং মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খানের বংশধর।
    মধ্যযুগে ভারতে মোগল আমলে সম্রাটের প্রতি আনুগত্য, বিশ্বস্ত ও সফল দায়িত্ব পালনের জন্য অনেকেই “খান” উপাধি পান। সে উপাধি এখনো তারা সযত্নে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে নামের সঙ্গে “খান” পদবী ব‍্যবহার করে আসছেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here