পলাশির আগেও বেইমানি করেছেন মিরজাফর

    0
    Mirzaffar has been fraud before Plassey

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    পলাশিরর প্রান্তরে ক্লাইভের হাতে দুদু-তামুক খেয়ে নবাব সিরাজদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মিরজাফর যখন তাঁর পঞ্চাশ হাজার সেনাবাহিনী নিয়ে ঠায় কাঠপুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে, তখন ইংরেজদের সঙ্গে প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছেন মীরমদন। সেদিন পলাশি একইসঙ্গে দেখেছিল একদিকে বেইমানি এবং অন্যদিকে দেশপ্রেম‌ ।

    আরো পড়ুন :নবাব মিরকাশিম ও বীরেশবিজয়ের বন্ধু-জোট এবং পলাশি থেকে বক্সার

    মুর্শিদাবাদের মাটিতে বেঁচে রয়েছে মিরজাফরের বেইমানির স্মৃতি, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হয়ে উপেক্ষিত থেকে গেলেন সিরাজের আরোও দুই সেনাপতি মীরমদন ও মোহনলাল। আজকের লেখায় মীরমদনের জীবনবৃত্তান্ত। তার আগে মিরজাফরের আরেক বেইমানির ইতিবৃত্ত ।

    মীর জাফর

    বাংলার সুবাদার আলিবর্দি খানের এক বিশ্বস্ত সৈনাধ‍্যক্ষ ছিলেন মীর হোসেন আলি। তিনি ছিলেন বীর যোদ্ধা। ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে মারাঠা বর্গিদের পরাস্ত করে তাঁর বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। এই মীর হোসেন আলির ছোট ভাই ছিলেন মিরজাফর আলি। মীর হোসেন আলি তাঁর ছোট ভাই মিরজাফরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন ।

    কিন্তু একদিন গোপনে বিষ খাইয়ে সেই দাদাকেই মেরে ফেললেন মিরজাফর ! বিষয়টা কিছুই টের পেলেন না আলিবর্দি। সবাই ভাবলো, এটা বুঝি স্বাভাবিক মৃত্যু। তাই দয়াপরবশ হয়ে আলিবর্দি তাঁর দাদার পদে স্থলাভিষিক্ত করলেন মিরজাফরকে ।

    মীর জাফর এর বিশ্বাস ঘাতকতা

    আর সৈনাধ‍্যক্ষ হয়েই মিরজাফর তাঁর মৃত দাদার দশ-বারো জন বিবাহিতা সুন্দরী পত্নী এবং শতাধিক উপপত্নীকে নিজের হারেমে এনে তুললেন। বিধবা বৌদিদের সঙ্গে দেবর মিরজাফরের হারেম এভাবেই জমজমাট হয়ে উঠলো ।

    পলাশীর যুদ্ধ

    যৌবনের শুরুতে মিরজাফরের দাদা মীর হোসেন আলি একটি ব্রাহ্মণ কন্যাকে হরণ করে এনে বিয়ে করেছিলেন। তিনিই ছিলেন মীর হোসেন আলির প্রধানা পত্নী। হোসেন আলির ঔরসে তাঁর গর্ভে এক পুত্র ও এক কন্যার জন্ম হয়। এই পুত্র হলেন মীরমদন। কন্যার নাম—বদরুন্নেসা ।

    সিরাজের পলায়ন

    স্বামী খুন হলে তিনি পুত্র-কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে সৈদাবাদের কাছে এক গ্রামে বসবাস করতে থাকেন। পুত্র মীরমদনের বয়স যখন ১৮ বছর এবং কন‍্যা বদরুন্নেসার বয়স যখন ১৪ বছর, তখন মৃত্যু হয় তাঁর। পরবর্তীকালে মীরমদন নবাব সিরাজদ্দৌলার সেনাপতির পদ পান এবং বিয়ে করে সংসারী হোন ।

    পলাশীর যুদ্ধের সৈন্যসাজ

    তারপর ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে জুন পলাশির প্রান্তরে প্রাণপণ লড়াই করে যুদ্ধক্ষেত্রেই শহীদ হোন মীরমদন। অন্যদিকে, বদরুন্নেসা প্রথমে বিয়ে করেন নি। মীরমদনের সঙ্গে সৈদাবাদের আর্মেনিয়ান বণিক স‍্যামুয়েল আরাটুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আরাটুন সস্ত্রীক প্রায়ই মীরমদনের বাড়ি আসতেন ।

    কিন্তু চার বছরের শিশুপুত্র ক‍্যারাপিট আরাটুনকে রেখে মারা গেলেন স‍্যামুয়েল আরাটুনের স্ত্রী। এরপর থেকে মাতৃহারা এই বালক মীরমদনের বাড়িতেই থাকতে শুরু করে। বদরুন্নেসা তাকে অত্যন্ত স্নেহে যত্নে বড়ো করতে থাকেন ।

    মীর জাফর ও ক্লাইভ

    মাঝে মাঝে স‍্যামুয়েল আরাটুন আসতেন ছেলেকে দেখতে। এই আনাগোনার মাঝে স‍্যামুয়েল আরাটুন ও বদরুন্নেসা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হোন। প্রেম শেষ পর্যন্ত পরিণয়ে পরিণত হয়। দু’জনে আবদ্ধ হোন বিবাহ বন্ধনে ।

    আরো পড়ুন :রাজা সুহেলদেব, ভারাইচের যুদ্ধ এবং ভারতে ইসলাম অভিযান থেমে যাওয়া দেড়শো বছর

    এভাবেই মুর্শিদাবাদে মিরজাফরের যে বেইমানির শুরু, পরবর্তীকালে পলাশির প্রান্তরে তা পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে ভারতের ভাগ‍্যরবিও ডুবে গেল পলাশির প্রান্তর সংলগ্ন ভাগীরথীর জলে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেননি সিরাজ‌। তাই তাঁকে হেরে আরেক বেইমান তাঁর পিতার চাকর মহম্মদী বেগের ছুরিকাঘাতে প্রাণ দিতে হয়েছিল ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here