মৌর্য বিমাতা তিষ‍্যরক্ষিতা ও কুণাল বাঁশিওয়ালা

    0
    Maurya Bimata Tisayaraksita and Kunal Bashiwala

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    মৌর্য সম্রাট অশোকের পুত্র কুণাল রূপে-গুণে সাম্রাজ্যের সেরা পুরুষ। কুণালের রূপে আকৃষ্ট হয়ে তাঁকেই চেয়ে বসলেন বিমাতা তিষ‍্যরক্ষিতা। কিন্তু কিছুতেই এই সম্পর্কে জড়াতে রাজি হলেন কুণাল। প্রত‍্যাখাত হয়ে প্রতিহিংসায় জ্বলে উঠলেন তিষ‍্যরক্ষিতা। সুযোগ খুঁজতে লাগলেন কুণালকে জব্দ করার। একদিন এসে গেল সেই সুযোগ। গোপনে রাজকীয় শিলমোহরটি হাতিয়ে নিয়ে সম্রাটের নামে একটি জাল আদেশনামা পাঠালেন কুণালের কাছে। রাজকুমার কুণাল তখন তক্ষশীলায়। সেখানে তাঁর কাছে এই জাল আদেশ পৌঁছালো, এই আদেশপত্র পাওয়া মাত্রই কুণাল যেন তাঁর দু’চোখ উপড়ে ফেলেন ।

    আরো পড়ুন :যদু-জালালুদ্দীন ও বেগম আশমানতারা

    যথাসময়ে সেই জাল আদেশ পেয়ে রীতিমতো বিচলিত হয়ে পড়লেন কুণাল। মনে হলো, সবটাই বুঝি ষড়যন্ত্র ! পিতা কখনোই তাঁকে এই আদেশ দিতে পারেন না। মন্ত্রীরা তাঁকে সম্রাটকে চিঠি লিখে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু শুনলেন না কুণাল। উপড়ে ফেললেন নিজের দু’চোখ। তারপর অন্ধ কুণাল তাঁর স্ত্রী কাঞ্চনমালার হাত ধরে ধীরে ধীরে রওনা দিলেন রাজধানী পাটলিপুত্রের দিকে। বহু কষ্টে এক সময় এসে পৌঁছলেন রাজপ্রাসাদের কাছে। অদ্ভুত সুন্দর সুরেলা আওয়াজ তুলে বাঁশি বাজাতে পারতেন কুণাল ।

    আরো পড়ুন :ভারতের প্রথম ধর্মান্তরিত মুসলমান ও প্রথম মসজিদ

    রাজপ্রাসাদের কাছে পৌঁছে শুরু করলেন বাঁশি বাজাতে। তাঁর বাঁশির করুণ সুর সারা রাজপ্রাসাদে ছড়িয়ে পড়লো। তিনি সম্রাটের আদেশ পালন করেছেন। নিজের দু’চোখ উপড়ে ফেলে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়েছেন। তারপর এসেছেন রাজদ্বারে। বাঁশিতে বাজতে লাগলো সেই করুণ রাগিণী। কুণালের বাঁশির আওয়াজ চিনতেন সম্রাট অশোক। বাঁশি শুনে বাঁশিওয়ালাকে আনার আদেশ দিলেন। তারপর পুত্রের মুখে দুর্দশার করুণ কথা শুনে রীতিমতো মর্মাহত হলেন সম্রাট অশোক। এরপর অপরাধীকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছিলেন অশোক। জৈন গ্রন্থে এই উপাখ্যানটি রয়েছে ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here