কুষ্ঠরোগি আহম্মদ শা আবদালির লোভের শিকার মোগল শাহজাদি হজরত বেগম

    0
    Leprosy Ahmad Shah Abdali A victim of greed,Mughal Shahzadi Hazrat Begum

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    কুষ্ঠরোগি আহম্মদ শা আবদালি বিয়ে করতে চাইলেন মোগল হারেমের অসামান্যা রূপবতী শাহজাদি হজরত বেগমকে। এই নিয়ে তোলপাড় হলো মোগল রাজদরবারের অন্দরমহল। মোগল হারেম নিয়ে এই ধরণের হরেক কিসিমের গল্প আজও জমজমাট। আর সে গল্পের পাত্র-পাত্রী থেকে খলনায়ক সবাই এখনো দিল্লির পুরোনো স্থাপত্যের কঠিন কংক্রিট থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। কখনো নাকি অশরীরী হিসেবে দেখাও দেয়। এমনি এক অপরূপা শাহজাদি হজরত বেগম। তাঁকে নাকি আজও দেখা যায় দিল্লির লালকেল্লার আশেপাশে। চলুন, আজ তাহলে শাহজাদি হজরত বেগমকে দেখে আসি ।

    আরো পড়ুন :জিহাদ, হিন্দু জনসংখ‍্যা নিয়ন্ত্রণ এবং হিন্দু দাসত্বের উত্তরাধিকারীরা

    আফগানিস্তানের পাঠান নেতা আহম্মদ শা আবদালি (১৭২২-১৬/১০/১৭৭২ খ্রি:) ভারতের দিল্লি লুটপাট করতে এসে খোঁজ পেয়ে গেলেন মোগল হারেমে রয়েছে এক অসামান্যা সুন্দরী। তিনি হলেন দুর্বল মোগল সম্রাট মহম্মদ শা’র কন্যা রূপবতী হজরত বেগম। দিল্লি সিংহাসনের নিয়ন্ত্রক সৈয়দ ভাইদের হঠিয়ে মোগল শাসনের শেষ ক্ষমতাটুকু কোনোরকমে ধরে রেখেছেন বাদশাহ মহম্মদ শা। মহম্মদ শা’র জন্মতারিখ : ১৭/০৮/১৭০২ খ্রিস্টাব্দ। জন্মের সময় নাম ছিল—রৌশন আক্রার বাহাদুর। শাসনকাল : ২৭/০৯/১৭১৯-২৬/০৪/১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ রাজত্বকাল ২৮ বছর ২১২ দিন।
    যাই হোক, শাহজাদি হজরত বেগমের কথায় ফিরে আসি। মোগল শাহজাদিদের মধ্যে সেরা সুন্দরী তিনি। তাঁর রূপে পাগল হয়ে বহুজন তাঁকে নিয়ে ঘর বাঁধতে আগ্রহী। কিন্তু মনের মতো মানুষ না পেয়ে কাউকেই পাত্তা দেন না। একে একে তাঁর প্রেমপ্রার্থীর দল হতাশ হয়ে ফিরে যায়।
    বুড়ো বাদশা দ্বিতীয় আলমগীর পর্যন্ত তাঁর প্রেমে পাগল হয়ে বিয়ে করতে চাইলেন তাঁকে। আজিজ উদ্দিন আলমগীর ইতিহাসে “দ্বিতীয় আলমগীর” নামে পরিচিত। পিতা—জাহান্দার শাহ, মা—মুয়াজ্জামাবাদী মহল। জন্মতারিখ : ০৬/০৬/১৬৯৯। ভারতের ১৪ তম মোগল সম্রাট ছিলেন তিনি। রাজত্বকাল : ০৩/০৩/১৭৫৪-২৯/১১/১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দ। তাঁর দাম্পত্য-সঙ্গিনীরা হলেন :
    ১) জিনাত মহল
    ২) ফৌজ বখত বেগম
    ৩) আজিজাবাদী মহল
    ৪) লতিফা বেগম
    ৫) জিনাত আফরোজা বেগম এবং
    ৬) ঔরঙ্গাবাদী মহল।
    এরপরেও শাহজাদি হজরত বেগমকে তাঁর চাই। কিন্তু শাহজাদি ঘৃনাভরে প্রত‍্যাখান করলেন সে বিয়ের প্রস্তাব।
    রীতিমতো রেগে গিয়ে শাহজাদিকে গৃহবন্দিনী করে রাখলেন বুড়ো বাদশাহ দ্বিতীয় আলমগীর।
    এদিকে শাহজাদির মনের মতো পাত্র জোটে না, বিয়েও হয় না।
    ইতিমধ্যে ভারতে এলেন আফগান লুঠেরা আহম্মদ শা আবদালি। দিল্লি লুঠ করতে এসে শুনলেন শাহজাদি হজরত বেগমের অসামান্য রূপের কথা। অমনি তাঁকে বিয়ে করতে চাইলেন।
    আহম্মদ শা আবদালি তখন কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত। নাক-কান ক্ষয়ে গেছে ।

    আরো পড়ুন :শাহজাহান-মমতাজ প্রেম শুধুই এক অলীক কাহিনী

    মেয়ের মা অনেক কাকুতি-মিনতি করলেন আবদালির কাছে, যাতে এ আদেশ তিনি ফিরিয়ে নেন।
    কিন্তু আবদালি জানিয়ে দিলেন, ওই কন্যাকে না পেলে তিনি মোগল হারেম গুঁড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেবেন।
    শেষে আপনজনরা সবাই মিলে শাহজাদির শরণাপন্ন হয়ে তাঁর কাছেই আবেদন জানালো, আবদালিকে বিয়ে করে আমাদের দিল্লি বাঁচান !
    অগত্যা দিল্লির কথা ভেবে এ বিয়েতে রাজি হলেন শাহজাদি।
    এরপর একদিন আহম্মদ শা আবদালির সঙ্গে আফগানিস্থানের পথে রওনা দিলেন মোগল শাহজাদি অসামান্যা সুন্দরী হজরত বেগম।
    না, তারপর আর তাঁর কোনো খবর পাওয়া যায়নি ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here