কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-৬)

0

Last Updated on

শিবাজি প্রতিম

অষ্টম শতকে কাশ্মীরে কারকোটা বংশের রাজারা তাদের সাম্রাজ্য কাশ্মীরে প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেবার প্রথম বারের জন্য কাশ্মীর একটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এই বংশের শাসক চন্দ্রপীর চীনের শাসকদের অঙ্গুলিহেলনে চলতেন বলে মনে করা হয়। তার পরবর্তী শাসক হিসেবে ললিতাদিত্য মুক্তপীরের হাতে কাশ্মীরের শাসনভার অর্পিত হয় এবং ক্ষমতায় আসার পরই তিনি তিব্বত আক্রমণ করে বসেন। এছাড়া তিনি কন্যকুব্জ বা অধুনা কনৌজের শাসক যশোবর্মনকেও পরাজিত করেন।
কনৌজ বিজয়ের পর তিনি মগধ(অধুনা বিহার), গৌড়(অধুনা বাংলা) কামরুপ(অধুনা অসম) এবং কলিঙ্গদেশও(অধুনা ওড়িশা) দখল করেন তিনি তার সাম্রাজ্য কর্নে গুজরাট এবং মালওয়া অবধি বিস্তৃত করার পর সিন্ধু প্রদেশের আরবদেরও পরাজিত করেন। ললিতাদিত্যের মৃত্যুর পর কারকোটা সাম্রাজ্যের পতন হয় ৮৫৫-৫৬ খ্রীষ্টাব্দে। কাকরোটাদের পর উৎপল বংশের শাসক অবন্তীবর্মন কাশ্মীরের শাসকের স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পরে অবন্তীবর্মনের হাতে শাসন গেলে তিনি পাঞ্জাবের গুর্জরদের বিরুদ্ধে একটি সফল সামরিক অভিযান চালান।
দশম শতকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কাশ্মীরের রাজন্যবর্গের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তান্ত্রিনরা খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তবে তাদের সময়ে প্রশাসন ভেঙে পড়ে এবং কাশ্মীর অস্থির হয়ে ওঠে। এরপর রাজা চক্রবর্মন দ্বারা তারা পরাজিত না হওয়া অবধি কাশ্মীরের এই মাৎস্যন্যায় চলতে থাকে। বহুযুগ ধরে রাজাদের শাসনে থাকা কাশ্মীরের শাসনভার এরপর যায় রানী দিদ্দার হাতে, যিনি কাবুলের হিন্দু শাহী বংশের অন্তর্গত ছিলেন। দিদ্দা ১০০৩ সালে তাঁর মৃ্ত্যু হলে লোহোরা বংশের হাতে কাশ্মীরের শাসনভার যায়।
একাদশ শতকে গজনীর সুলতান মাহমুদ পরপর দুবার কাশ্মীর আক্রমণ করলে দুবারই শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছিয়ে আসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here