ভারতের সামুদ্রিক ঢাল : আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

    0
    Indian Ocean Slopes: Andaman and Nicobar Islands

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    ভারত মহাসাগরে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে চিনের বিরুদ্ধে ভারতের ঢাল হিসেবে।
    মূলত: প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই এখানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাস। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ গবেষকরা এখানে নৃতাত্ত্বিক সমীক্ষা চালিয়ে জানান, বাইরের মানুষদের আসার আগে পর্যন্ত এখানে কয়েকশো বছর ধরে নেগ্রিটো ও মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর বসবাস ছিল।
    আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাসকে ৪ টি ভাগে ভাগ করা যায় :
    ১) ব্রিটিশ অধিকার প্রতিষ্ঠার যুগ,
    ২) ব্রিটিশ শাসনের যুগ,
    ৩) জাপানি অধিকারের যুগ এবং
    ৪) স্বাধীনোত্তর যুগ ।

    আরো পড়ুন :বিবর্তন বৃত্তে ভারতের জাতীয় পতাকা

    ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে দুই ব্রিটিশ নৌ-আধিকারিকের সুপারিশে ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে পোর্ট কর্ণওয়ালিশের কাছে চাটহাম দ্বীপে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ তৈরি করেন ভারতের তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশ। ওই বছরই সেখানে একটি সমীক্ষা চালান লেফটেন্যান্ট রেজিনণ্ড ব্লেয়ার। আর তাঁর নাম থেকেই পোর্ট কর্ণওয়ালিশের নাম পাল্টে হয় “পোর্ট ব্লেয়ার।”
    এরপর ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতের ব্রিটিশ সরকার এখানে একটি কারাগার তৈরি করে এবং দুশো বন্দিকে এখানে রাখা হয়, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী সৈনিক।
    পরে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে পোর্ট ব্লেয়ারে তৈরি হয় সেলুলার জেল এবং তখন থেকেই পুরোনো জেলখানাটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
    এরপর ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২১ শে মার্চ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাপানিরা আন্দামান অধিকার করে নেয়। পরে এটি তাঁরা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ্ ফৌজের হাতে তুলে দেয়। এরপর ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে ডিসেম্বর নেতাজী সুভাষচন্দ্র পোর্ট ব্লেয়ারে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি এই দ্বীপপুঞ্জের নাম দেন “শহীদ ও স্বরাজ দ্বীপপুঞ্জ।”
    ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই অঞ্চল ছিল ব্রিটিশ অধিকারের বাইরে। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ৮ ই অক্টোবর জাপানি সেনাবাহিনীর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম‍্যাণ্ডার পোর্ট ব্লেয়ারে আত্মসমর্পণ করলে এই অঞ্চল ফের ব্রিটিশ অধিকারে আসে।
    অবশেষে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ স্বাধীন ভারতের অঙ্গীভূত হয়।
    বহু ঘটনার ওঠা-পড়ার সাক্ষী এই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। এই এলাকা এক সময় ছিল সোলান অর্থাৎ চোল সাম্রাজ্যের দখলে। পরবর্তীকালে পোর্তুগিজরা এখানে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করে।
    তারপর ভারতের মারাঠা রাজত্বকালে এই দ্বীপপুঞ্জে গড়ে উঠেছিল নৌ-সেনার বেস ক‍্যাম্প।
    মারাঠারা এখানকার সামরিক গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু বুঝতে ব‍্যর্থ হয়েছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু।
    কেন ?
    আসছি সে প্রসঙ্গে ।

    আরো পড়ুন :রাজা শালিবাহনের বাংলা “শাল”

    স্টেট অব্ মালাক্কা দিয়ে ৮০ শতাংশ সামগ্রী ভারতে রপ্তানি করে চিন। যেহেতু আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অংশ, সেহেতু ইচ্ছে করলেই ভারত যে কোনো সময় আটকে দিতে পারে চিনের পণ‍্যবাহী জাহাজ।
    ১৯৬২-তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এই সুযোগ নিতে পারতেন। কিন্তু পারেন নি কেন, সে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তবে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অংশ বলে সামুদ্রিক সমর সুবিধার দিক দিয়ে ভারত চোখ রাঙাতে পারে চিনকে। আর চিনের কাছে সেটিই ভীতির কারণ ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here