ব্লিৎজক্রিগ(Blitzkrieg) : হিটলারের তড়িৎগতির যুদ্ধ

    0

    Last Updated on

    শিবাজি প্রতিম

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে কটি জার্মান বা নাৎসী শব্দ বিশ্বের ইতিহাসে জনপ্রিয় হয় তার মধ্যে ব্লিৎজক্রিগ অন্যতম। নাৎসী দর্শন অনুযায়ী যার অর্থ হল তড়িৎগতির যুদ্ধ বা Lightening War।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শোচনীয় হার এবং তারপরে ভার্সাই চুক্তির মধ্যে দিয়ে জার্মানির উপর অন্যায়ভাবে একাধিক দাবী চাপিয়ে দেওয়ার ফলে ব্যাপকভাবে আঘাত পায় জার্মান স্বাভিমান এবং সে দেশের অর্থনীতি। তার ফলেই জার্মানির মাটিতে নাৎসীদের উত্থান সে দেশের সংসদে মাত্র দুই অঙ্ক থেকে একেবারে ক্ষমতার প্রতিভূ হন নাৎসী পার্টির অবিসংবাদী নেতা অ্যাডলফ হিটলার। বাকিটা ইতিহাস। গোটা ইউরোপ এবং বাকি বিশ্ব দখলের নেশায় মশগুল হিটলার ১৯৩৯ সালে পোল্যাণ্ড আক্রমণ করে বসলেন। তারপর একে একে চেকোস্লোভিয়া, স্ক্যাণ্ডিনেভিয়া সহ ফ্রান্স, বেলজিয়াম দখল করার পর গোটা ইউরোপ থেকে বলশেভিজমকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে অনাক্রমণ(রিবেনট্রভ-মলোটভ প্যাক্ট) চুক্তি থাকা স্বত্তেও রাশিয়া আক্রমণ করলেন।
    এই গোটা যুদ্ধের প্রথমার্ধে নাৎসী জার্মানির যুদ্ধকৌশলই ছিল এই ব্লিৎজক্রিগ। যদিও প্রকাশ্যে ফ্যুয়েরার সহ নাৎসীরা কেউই স্বীকার করতেন না এই রণনীতির ব্যাপারে।

    ব্লিৎজক্রিগ হল প্রবল গতিতে শত্রুর উপর আক্রমণ হেনে তার কিছু বোঝার আগেই তাকে পর্যদুস্থ করে দেওয়া। প্রথম দিকে পোল্যাণ্ড বা চেকোস্লোভাকিয়া প্রায় বিনা বাধাতেই দখল করে ফেলেন হিটলার। তারপর বেলজিয়াম এবং ফ্রান্স আক্রমণ করলে আসল যুদ্ধ শুরু হয়। এখানেই ব্লিৎজক্রিগের আসল প্রয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
    তৎকালীন ইউরোপের এবং পৃথিবীর একটা অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ ছিল জার্মানি। অন্যদিকে ফ্রান্স বা বেলজিয়াম ছিল মূলত কৃষি প্রধান। কাজেই জার্মানির সামনে কার্যত উড়ে যায় এই দুটো দেশ। মূলত তিন দিক থেকে আক্রমণ করে ব্লিৎজক্রিগের প্রয়োগ ঘটানো হত। প্রথম প্রবল পরাক্রমশালী লুফতওয়াফার(জার্মান এয়ার ফোর্সের) বোমারু বিমান যে জায়গায় আক্রমণ করা হত সেখানে ব্যাপক হারে বোমা ফেলত এবং যত বড় বড় ইমারত সব ধ্বংস করে ফেলত। তারপর ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টের(প্যানজার ডিভিশন) একাধিক ট্যাঙ্ক এবং সবশেষে পদাতিক(Wehrmecht) বাহিনী বাকি কাজ সম্পন্ন করত। নাৎসী বাহিনীর এই ত্রিফলা আক্রমণের কৌশল ইউরোপ এবং গোটা বিশ্বের সামরিক ইতিহাসে ঐ সময়ে ছিল একেবারে নতুন। তাই জার্মান বাহিনীর সামনে পরে শত্রু নিমেশে গুঁড়িয়ে যেত। এভাবেই হিটলার প্রায় গোটা ইউরোপে স্বস্তিকা চিহ্নের পতাকা ওড়াতে সক্ষম হন। তবে রাশিয়া আক্রমণের পর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস বদলাতে শুরু করে। সে এক অন্য ইতিহাস।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here