হিন্দুধর্ম অপমানিত হতে দেখলে স্বামীজী প্রতিবাদ করতেন, দুবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন

0

Last Updated on

রামকৃষ্ণের ফৌজ

. বর্তমান কালে আমরা আমাদের ধর্মের অপমান হজম করে নিচ্ছি এবং সেই অপমানের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে ভুলে যাচ্ছি। এই ধরনের প্রতিবাদহীনতা স্বামীজীর শিক্ষাবিরুদ্ধ, উপদেশবিরুদ্ধ। স্বামীজী জীবনে অন্তত দুবার হিন্দু ধর্মের অপমানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল রামকৃষ্ণের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে। স্বামীজীর বাড়ির সামনে আছে হেঁদুয়া পার্ক, তার পাশে আছে রেভারেন্ড কৃষ্ণ মোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গির্জা অর্থাত্ “কেষ্ট বন্দ্যোর গির্জা”।
. তাঁর নিজ ভাই মহেন্দ্র নাথ দত্ত এর বিবরণ দেন — শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের অনুধ্যান গ্রন্থে, পৃষ্ঠা — 12 ॥
. ॥ ঘটনাটা নিম্নরূপ ॥

. ” ধর্ম গ্রন্থ যাহা কিছু ছিল এবং ধর্ম সম্বন্ধে যাহা কিছু শুনিতে পাইতাম, তাহা হইল — যীশুখ্রীষ্টের গল্প বিষয়ক। পাদ্রীরা, এই সুযোগে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও বাজারে যাইয়া সকলকে যীশুর গল্প শুনাইত। বাঙালী পাদ্রীরা, হেদোর ধারে, কেষ্ট বন্দ্যোর গির্জার কোনটিতে, রবিবার সকালে যীশুখ্রীষ্টের কথা বলিত, আর হিন্দু দেবদেবীদিগকে গাল পাড়িত। দাদা একদিন বেলা নয়টার সময় ঐখান দিয়া আসিতেছিল। সে খানিক্ষন পাদরীদের বক্তৃতা শুনিয়া তাহাদের সহিত তর্ক-বিতর্ক করিয়া ঝগড়া শুরু করিল। ঝগড়াটা ক্রমে ক্রমে বাড়িয়া উঠিল। দুই দিকে বেশ দল পাকিল; এমন কি, মারামারি হইবার উপক্রম হইল। পরে দুই দল ঠান্ডা হইলে, দাদা চলিয়া আসিল এবং দুই দলের লোকেরাও রাগিয়া চলিয়া গেল”।

. আর দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছিল যখন স্বামীজী হিন্দুধর্মের বিজয় পতাকা উড়িয়ে নিজের দেশে সগৌরবে ফিরে আসছেন, তখনই। তখন তিনি ছিলেন জাহাজে, আর জাহাজটি ছিল ভূমধ্যসাগরে, গ্রীসের ক্রীট দ্বীপের খুব কাছে। ঘটনাটা কেমন ছিল একবার জানা যাক : –
. ” শুধু সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গই নয়, জাহাজে দুই খৃষ্টান মিশনারীর ব্যাবহারও স্বামীজীর অশান্তির কারণ হয়ে উঠল। তাঁকে দেখতে পেলেই সেই দুই পাদ্রীর কাজ ছিল হিন্দুধর্মের গালাগাল করা। যখন তারা স্বামীজীর সঙ্গে যুক্তিতর্কে পেরে উঠতেন না, তখন হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে যা-তা কথা বলতেন। একদিন তিনি আর থাকতে পারলেন না, হঠাত্ একজনের গলার কলার চেপে ধরে ছদ্ম-গাম্ভীর্যের সুরে বললেন, “আবার যদি তুমি আমার ধর্ম সম্পর্কে গালি-গালাজ করো, তাহলে আমি তোমাকে এই জাহাজ থেকে জলে ফেলে দেবো”। পাদ্রীটি তখন ভয়ার্ত সুরে বলতে লাগলেন, “আমাকে ছেড়ে দিন মহাশয়, আমি আর কোনও দিন এরকম ব্যবহার কোরবোনা”।
. আশ্চর্য , তারপর থেকে সেই পাদ্রীটির ব্যবহার একেবারেই পাল্টে গেল। যখনই স্বামীজী তার পাস দিয়ে যেতেন, তখনই সেই পাদ্রী টুপি তুলে সৌজন্যমূলক দু কথা বলে সেখান থেকে সরে পড়তেন”।

. সূত্র – প্রজ্জ্বলিত সূর্য – অরবিন্দ ঘোষ পৃ — 357 ॥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here