গান্ধী-জিন্নাহ ভাই ভাই ও ডিরোজিওর “ইয়ং বেঙ্গল”

    0
    Gandhi-Jinnah Two Brother and Derozio's

    Last Updated on

    –উত্তম মণ্ডল

    মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ও মহম্মদ আলী জিন্নাহর প্রপিতামহরা ছিলেন দুই সহোদর ভাই। তাই নোয়াখালীর দাঙ্গায় গান্ধীজী হিন্দুদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, মুসলমানদের কাছে তাদের বুক পেতে দিতে। জিন্নাহর পরিবার ছিল ধর্মান্তরিত হিন্দু।
    ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, নোয়াখালী ও পাঞ্জাবে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তা করেছিল ধর্মান্তরিত হিন্দুরা। স্বামী বিবেকানন্দ বলছেন, হিন্দুধর্ম থেকে একজন চলে যাওয়া মানে শুধুমাত্র হিন্দুর সংখ্যা একজন কমে যাওয়া নয়, হিন্দুর একজন শত্রু বৃদ্ধি পাওয়া।
    ভারতের প্রায় ১২ কোটি মুসলমান ধর্মান্তরিত হিন্দু। দেশভাগের পর পদ্মাপার থেকে কয়েক কোটি হিন্দু ভারতে পালিয়ে এসে রামধুন গাইছেন,
    “ঈশ্বর আল্লা, তেরে নাম।
    সবকো সুমতি দে ভগবান।।”

    আরো পড়ুন :নোয়াখালী থেকে বিহার দাঙ্গা ও দেশ ভাগ

    এখন শুধু নয়, খ্রিস্টিয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার নবজাগরণের সময়েও হিন্দুধর্মকে অপমান করতে উঠেপড়ে লেগেছিল কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক “ইয়ং বেঙ্গল”-এর প্রতিষ্ঠাতা হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর দল। ডিরোজিওর প্রভাবে অনেক হিন্দু খ্রিস্টান হয়ে “রেভারেণ্ড” হয়েছে তখন। এই “ইয়ং বেঙ্গল”-এর দল রাস্তাঘাটে বামুন দেখলেই ব‍্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে চেঁচিয়ে উঠতো, গোরু খাই , গোরু খাই।
    তারপর কালীঘাটে গিয়ে মা কালীকে বলতো, গুড্ মর্ণিং ম‍্যাডাম !
    এই দলে ছিল হিন্দু কলেজের বেশ কিছু প্রতিভাবান ছাত্র এবং তারা ছিল গো-মাংসভোজী। হিন্দুধর্মের বিরোধিতা করতে গিয়ে ব্রাহ্মণদের শত্রুতে পরিণত হয়েছিল তারা। এক ছাত্র তো বলেছিল, “If there is anything that we hate from the bottom, of our heart, it is Hinduism”

    শেষ পর্যন্ত রাজা রামমোহন রায়সহ সেকালের হিন্দু সমাজের বিশিষ্টজনেরা একজোট হয়ে এই ইয়ং বেঙ্গল দলের হিন্দু বিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেন। ডিরোজিওকে শেষ পর্যন্ত হিন্দু কলেজ ছাড়তে হয়েছিল।
    এখনো এক শ্রেণির রাজনীতিক ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী হিন্দুধর্মকে অপমান করে চলেছেন। পদ্মাপারে যারা ছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক, পালিয়ে এসে এপারে গান্ধীবাদের রামধুন গেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে গলাবাজি করছেন তাঁরাই বেশি, এমনই অভিযোগ উঠছে বার বার বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

    আরো পড়ুন :জওহরলালের প্রতি যোগমায়া দেবী ও এক অভিশাপের কথা

    এর মধ্যে তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের পাশাপাশি স্বঘোষিত “বাবা” এবং তাঁর দলবলও রয়েছেন, বলে জানা যাচ্ছে, যাঁরা পদ্মাপারে ভেদ দেখেছিলেন, কিন্তু এপারে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে এখন আর তাঁরা ঈশা-মুশা-কৃষ্ণে ভেদ দেখতে পাচ্ছেন না। পদ্মাপারের ঘা শুকিয়ে যাবার পর শুরু হয়েছে তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে চুলকানি। কলকাতার রাজপথে বাংলার জনগণ কিছুদিন আগেই দেখেছেন এক স্বঘোষিত “গোমাংসভোজী” বুদ্ধিজীবীদের। খ্রিস্টিয় ঊনবিংশ শতাব্দীর ডিরোজিওর ” ইয়ং বেঙ্গল” দলের ভুতকে এখনো অনেকের ঘাড়েই ভর করতে দেখা যাচ্ছে। “হিস্ট্রি রিপিটস্ ইটশেলফ্ “—-পুনরাবৃত্তি ঘটছে ইতিহাসের ।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here