জাল নোট, পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    গত ৯ জুলাইয়ের একটি ঘটনা শিরোনামের বিষয়টি রীতিমতো ভাবাচ্ছে ভারতের ন‍্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি ( এন আই এ ) এবং বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ( ডি এম পি ) গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের। ওই দিন দুপুরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রামপুরার উলন রোড এলাকার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে বাংলাদেশি টাকা জাল করার একটি চক্রকে ধরে ফেলেন বাংলাদেশ ডি এম পি-র গোয়েন্দারা। তাদের কাছ থেকে সূত্র পেয়ে ভারতীয় টাকা “রুপি” জাল করার এক বড়ো রকমের চক্রের খোঁজ পান তাঁরা। তারপর রামপুরা এলাকার পলাশবাগের এক বহুতল আবাসনের আট তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২০ লক্ষ টাকার ভারতীয় জাল নোট। জাল পাঁচশো এবং দু’হাজারি নোটের সঙ্গে মিলেছে ল‍্যাপটপ্, কালার প্রিন্টার, ছাপার কালি, নোটের কাগজ, সিকিউরিটি স্ক্রিন বোর্ড এবং আশ্চর্যজনকভাবে ভারতীয় টাকার সিকিউরিটি থ্রেডের ফয়েল কাগজ। ধরা পড়েছে চক্রের তিন চাঁই—রফিকুল ইসলাম খসরু, মহম্মদ আব্দুর রহিম এবং জনি ডি কোস্টা। বাংলাদেশি নোট জাল করার অভিযোগে এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিল খসরু ও রহিম। কয়েকমাস আগে ছাড়া পেয়ে এবার বাংলাদেশি টাকা জাল করার পাশাপাশি ভারতীয় টাকা জাল করার কাজে নেমেছিল তারা। এর আগে বাংলাদেশে ভারতীয় টাকা জালচক্রকে ধরে সেদেশের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ভারতীয় রুপি জাল করার ফয়েল কাগজ এসেছিল চোরাপথে পাকিস্তান থেকেই। এবারেও এই ঘটনায় গোয়েন্দাদের প্রাথমিকভাবে অনুমান, ভারতীয় টাকার সিকিউরিটি থ্রেডের ফয়েল কাগজ পাকিস্তান থেকেই এসেছে। চক্রের কান বর্তমানে বাংলাদেশে থাকলেও মাথা রয়েছে পাকিস্তানেই।
    কিন্তু কারা ছড়ায় এই জাল নোট ?
    গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এর মূলে রয়েছে গোরু পাচারকারীর দল। বাংলাদেশের যশোর, রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভারতীয় সীমান্তে গোরু পাচারকারীদের মাধ্যমেই এই জাল নোট ভারতে আসে। কিছুদিন আগেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার ইলামবাজার থানার সুখবাজার গোহাটে এ বিষয়ে নজর রেখেছিলেন এ দেশের ন‍্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা সংক্ষেপে এন আই এ-র গোয়েন্দারা। গত মঙ্গলবারের ঘটনায় এন আই এ ভারতের জাল নোট তৈরির বাংলাদেশি চক্রের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছে। বুধবার এন আই এ-কে বাংলাদেশ ডি এম পি-র গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি ( উত্তর ) মাসুদুর রহমান টেলিফোনে জানান, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    বিষয়টি রীতিমতো উদ্বেগের দু’দেশের কাছেই। কারণ, এক সঙ্গে দু’দেশের নোট জাল চলছে। ফলে ধাক্কা খাবে দু’দেশের অর্থনীতি। তাই দেশকে বিপন্ন না করে অবিলম্বে কান টেনে মাথা খুঁজে বের করা জরুরি। তাতে
    ভারত ও বাংলাদেশ দু’দেশেরই মঙ্গল। তবে বাংলাদেশ যেভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে মূল মাথা খুব শিগগিরই সামনে আসবে বলে আশা। আর তখন অপরাধীদের আড়াল করতে কাদের সাফাই গাইতে দেখা যাবে, সেটা আগামীদিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here