ছত্তিশগড়ে চা বিপ্লব, সরকারি বনবিভাগ এবং পার্বত্যকন‍্যাদের ভূমিকা

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল
    মধ্য ভারতের ২৯ তম রাজ‍্য ছত্তিশগড়। ২০০১ সালের ১ নভেম্বর মধ‍্যপ্রদেশ রাজ‍্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ১৬ টি ছত্তিশগড়ী ভাষাভাষি জেলা নিয়ে তৈরি হয় এই ছত্তিশগড়। পূর্ব হিন্দিরই একটি উপভাষা হলো ছত্তিশগড়ী ভাষা।

    একসময় এখানে ৩৬ টি দুর্গ ছিল বলে নাম “ছত্তিশগড়।” ছত্রিশ অপভ্রংশে “ছত্তিশ।”
    শহর থেকে দূরে ছত্তিশগড়ের জশপুর জেলার সারুডিহি গ্রামে সরকারি বনবিভাগের সহায়তায় ২০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে চা বাগান। এই বাগান থেকেই তৈরি হচ্ছে উৎকৃষ্টমানের “সারুডিহি চা।” উপজাতি প্রধান এলাকা এই জশপুর। এখানকার মহিলা স্ব-সহায়তাসমূহকে যুক্ত করা হয়েছে চা বাগানের কাজে। জ‍্যোতি বরুয়া, কান্তি বরুয়া, মৈ তিরকে, ইল্লা আলফান্স, বিমলা ইরাদের মতো পার্বত্যকন‍্যারা একমনে কাজ করে চলেছেন এখানে। তৈরি হচ্ছে সবুজ চা এবং সিটিসি চা।

    সরকারি বনবিভাগ এখানে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এখানে। বনবিভাগের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জশপুরের আশেপাশের ১০-১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চা চাষের উপযুক্ত। এখানে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু জমিতে জল দাঁড়ায় না। তাপমাত্রাও থাকে মোটামুটি ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। সবটাই চা চাষের অনুকূল।

    সারুডিহি চা প্রজেক্ট সূত্রে খবর, এই বাগানের চা গাছগুলি এখন ২৪ থেকে ২৬ ইঞ্চি বড়ো হয়েছে। বর্তমানে এই বাগান থেকে সপ্তাহে ২০০ কিলোগ্রাম চা পাতা তোলা হয়। খুব শিগগির এই উৎপাদন ২০ থেকে ২৫ গুণ বেড়ে যাবে।

    সরকারি বনবিভাগের উদ্যোগে সারুডিহিতে বসানো হচ্ছে চা তৈরির প্ল‍্যান্ট। বনবিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় সারুডিহি ব্র‍্যাণ্ডের চা বিক্রির জন্য কাউন্টার খোলা হয়েছে।

    চা গাছ একবার বড়ো হয়ে গেলে ১০০ বছর পর্যন্ত তা থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। সুতরাং আগামী ১০০ বছর পর্যন্ত এখানকার মানুষদের একটা স্থায়ী রোজগারের ব‍্যবস্থা তৈরি হয়ে গেল, বলা যায়।

    ছত্তিশগড় হলো ভারতের ১৭ তম চা উৎপাদনকারী রাজ‍্য। সারুডিহি ব্র‍্যাণ্ডের চা ছত্তিশগড়ের মাথায় জুড়ে দিল আরেকটি সোনালী পালক। এরপর হয়তো একদিন আমাদের টেবিলেও পৌঁছে যাবে কোনো এক সকালে ধোঁয়া ওঠা কাপে এই সারুডিহির চা। তার আগেই আমরা জেনে গেলাম সারুডিহি চা বিপ্লবের ইতিবৃত্ত। এরপর নাম শুনে সেদিন আর অবাক হবো না নিশ্চয়ই।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here