বীরভূমের গরীব মা শিশুদের পুষ্টি জোগাচ্ছে আদিবাসীদের হাতে তৈরি সজনে পাতার বিস্কুট

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    বছর তিনেক আগেই শুরু হয়েছিল উদ্যোগটা।
    বীরভূমের জেলা শাসক তখন পি. মোহন গান্ধী। তিনি বুঝেছিলেন, সজনে পাতায় রয়েছে ভরপুর পুষ্টিগুণ। আর গরীবদের কাছে সহজেই তা সহজলভ্য। তিনি জেলা বীরভূমের প্রান্তিক অঞ্চল রাজনগর ব্লকের হরিপুর ডাঙায় সরকারি উদ্যোগে তৈরি করলেন কয়েক একর জুড়ে বিশাল সজনে বাগান। সে বাগান এখনো রয়েছে। তাঁর ইচ্ছে ছিল, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মিড্-ডে মিলে এই সজনে পাতার গুঁড়ো প্রসেসিং করে দেওয়া হবে। সজনে গাছ বড়ো হবার সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি নিয়মে তিনি অন‍্যত্র বদলি হয়ে যান। তারপর সে প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি।
    কিন্তু সজনে পাতার পুষ্টিগুণের বিষয়টি ততদিনে ঢুকে গেছে বছর পঁয়ত্রিশের রাখী বন্দোপাধ্যায়ের মাথায়। কলকাতা থেকে বীরভূমের রাজনগরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ডাইরেক্টর রাখী। সংস্থার নাম–“রাজনগর রিওয়ার্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন্।”
    রাজনগর ব্লকের মুরাদগঞ্জ, গুড়কাটা, মাচানতলী, নতুন গ্রাম এলাকায় বেশ কিছু আদিবাসী সাঁওতাল পরিবারের বাস। এদেরকেই বেছে নিলেন রাখী। এইসব গ্রামের সহজ সরল আদিবাসী মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করলেন। এরপর আদিবাসী মহিলারা নিজেরাই নিজেদের এলাকা থেকে টাটকা সজনে পাতা সংগ্রহ করে আনেন। ঝাড়াই বাছাই করেন। মেশিনে গুঁড়ো করে তৈরি করেন সজনে পাতার সবুজ পাউডার। এরপর বেকারি ইউনিটে আটার সঙ্গে সেই পাউডার মিশিয়ে তৈরি হয় “মোরিঙ্গা বিস্কুট” , অর্থাৎ সজনে পাতার বিস্কুট।
    কলকাতার ঠাকুরপুকুর হাসপাতালের ক‍্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে এই পুষ্টিকর বিস্কুট। সেখানকার অসুস্থ শিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকছে প্রতিদিন দুটো করে বিস্কুট। এই উদ্যোগে রাখী কাছে পেয়েছেন সুদূর ইংল্যান্ডের উৎসাহী মহিলা আন্না অড্রিয়েনকে। দিন কয়েক আগে আন্না ইংল্যান্ড থেকে বীরভূমের রাজনগরে উড়ে এসেছিলেন।
    এই ধরণের বিস্কুট সারা পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বলে জানান উদ্যোক্তা রাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, এলাকার গরীব মায়েরা এবং তাদের সন্তানরা নিয়মিত মাছ-মাংস-ডিম খেতে পারেন না। সেজন্য মা ও শিশু উভয়েই অপুষ্টিতে ভোগেন। গর্ভবতী মহিলাদের দুর্বল শিশু জন্মায়। এই বিস্কুট তাদের সব রকম অপুষ্টি দূর করবে। শুধু তাই নয়, এর ফলে এলাকার আদিবাসী মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব‍্যবস্থাও হবে।
    বীরভূমের মানুষের এখন মন মজাচ্ছে বাদামি রঙের ভেতরে হাল্কা সবুজ রঙের আস্তরণ দেওয়া সজনে পাতার মুচমুচে “মোরিঙ্গা বিস্কুট।”

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here