বীরভূমে অবহেলায় দাঁড়িয়ে এখনও হুল বিদ্রোহীদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের জীবন্ত “ফাঁসি কাঠ” ঐতিহাসিক গাবগাছ।

    0

    Last Updated on

    উত্তম মন্ডল

    আজ ৩০ শে জুন। ১৮৫৫ সালের আজকের দিনেই বিহারের ভাগলপুরের কাছে ভগ্নাডিহি গ্রাম থেকে দুই আদিবাসী ভাই সিধু ও কানুর নেতৃত্বে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার ও দেশিয় অত‍্যাচারী জমিদার এবং সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল এক ঐতিহাসিক গণ-সংগ্রাম–“হুল বিদ্রোহ।” বিহার ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলাতেও আছড়ে পড়েছিল সে আন্দোলনের ঢেউ। প্রতি বছর ৩০শে জুন সেই “হুল দিবস” আসে আর যায়, কিন্তু হুল বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ব্রিটিশ সরকারের জীবন্ত ফাঁসি কাঠ ঐতিহাসিক গাবগাছ অবহেলায় থেকে যায় জেলা বীরভূমের পুরোনো রাজধানীর বুকে। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু ও কানু নামে দুই আদিবাসী ভাই তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার ও অত‍্যাচারী দেশীয় জমিদার এবং শোষক সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিয়ে শুরু করেছিলেন “হুল।” ভারতের ব্রিটিশ সরকার কঠোরভাবে দমন করে সেই বিদ্রোহ। ফাঁসি হয় সিধু-কানুসহ প্রথম সারির বিদ্রোহী নেতাদের। ১৯৪৭-এ চলে গেছে ব্রিটিশ। তারপর বেশ কয়েক বছর থেকে স্বাধীন দেশে ভোট ব‍্যাঙ্ক ধরে রাখতে ফি বছর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে সরকারি উদ্যোগে রাজ‍্যের আনাচে-কানাচে পালিত হচ্ছে “হুল দিবস।” কিন্তু হুল বিদ্রোহের স্মৃতি বাঁচাতে নেই কোনো উদ্যোগ। তাই হুল উৎসব মানেই যেন মাছের মায়ের পুত্র শোক! জেলা বীরভূমের একদা রাজধানী এবং বতর্মানে এ জেলার ঝাড়খণ্ড লাগোয়া প্রান্তিক অঞ্চল রাজনগরে হুল বিদ্রোহের স্মৃতি নিয়ে অবহেলিত বৃটিশ সরকারের জীবন্ত ফাঁসিকাঠ ঐতিহাসিক গাবগাছ। রাজনগর গোহাট প্রাঙ্গণের অদূরে কালীদহের দক্ষিণে আজও অবহেলায় দাঁড়িয়ে সেই গাবগাছ। জনশ্রুতি, ১৮৫৫ ,খৃষ্টাব্দে তদানীন্তন বৃটিশ সরকার এই গাবগাছটিকে ফাঁসিকাঠ হিসেবে ব‍্যবহার করে এই গাছেই সাঁওতাল বিদ্রোহীদের নেতা মঙ্গল মাঝিসহ মোট ১২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিল। বহু মানুষ রাজনগরে আসেন এই সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতিটুকু দেখতে। বাম আমলে তড়িঘড়ি গাছের চারদিক ইঁট সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল। তারপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। বছর কয়েক আগে ঝড়ে গাছের একটি বড়ো অংশ ভেঙে গেছে। এখনো যা আছে, তা শুধু একটুকরো ইতিহাসের স্মৃতি। রাজনগর জেলার পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই করে নিলে এই সব ইতিহাস আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে পারে। কিন্তু তা কবে, তার উত্তর নেই এখনও।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here