পনেরোই আগস্ট, কমনওয়েলথ বিতর্ক ও তেতো স্বাদের স্বাধীনতা চর্চার একটি দিন

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    ঊনিশশো সাতচল্লিশের “মিড্ নাইটস্ চিলড্রেন” হলো দুটি ডোমিনিয়ন—ভারত ও পাকিস্তান। শুরুতে তাই বোঝাই যাচ্ছে, ভারতের স্বাধীনতার স্ট্যাটাস হলো “ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস।” ব্রিটিশরা যেসব দেশগুলিকে একসময় শাসন করেছে, সেগুলিকে তারা কমনওয়েলথের সদস্য করে রেখেছে। ব্রিটিশরা না চাইলে কমনওয়েলথের সদস্যপদ ছাড়তে পারবে না ভারত। তাই ব্রিটিশ প্রিভি কাউন্সিল যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা মানতে হবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টকে।
    আসলে ১৯৪৭ সালে যা হয়েছিল, তা হলো “পাওয়ার ট্রান্সফার” বা “ক্ষমতা হস্তান্তর।” এই ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্রিটিশরা জওহরলাল নেহেরুকে দেশ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিল। তাই ১৫ ই আগস্ট “ইনডিপেন্ডেস ডে” নয়, বলা আছে “অ্যাপয়েন্টেড্ ডে।” আর আশ্চর্যের ব‍্যপার হলো, এই বিষয়ে লেখা ৪০ পাতার দলিল, যার শুধুমাত্র প্রথম পাতা ছাড়া বাকি পাতাগুলো দেখার অধিকার আমাদের দেশের সাংসদ-বিধায়ক, কারোরই নেই!
    আর তাই কখনও গ‍্যাঁট, কখনও আবার ডাঙ্কেল চুক্তিতে সই করতে হয় আমাদের। কারণ, এখনও আমরা ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সদস্য দেশ, আমাদের স্ট্যাটাস “ডোমিনিয়ন।”
    এই কমনওয়েলথ ও ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস থেকে তবে কীভাবে ঘটবে আমাদের মুক্তি ?
    এর উত্তর হলো, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে প্রচণ্ড শক্তিশালী হতে হবে আমাদের। তবেই কমনওয়েলথ ও ডোমিনিয়নের অক্টোপাস থেকে মুক্ত হতে পারবো আমরা। আর সেদিনই আমাদের স্বাধীনতার তেতো স্বাদ বদলে মিষ্টি-মধুর হবে।
    তাই পনেরো আগস্টের ভাবনাটা অন্তত এবার থেকে বদলে সদর্থক হোক্।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here