গরীব চোরাকারবারীদের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কি ছাড়পত্র দেওয়া যায় ?

    0

    Last Updated on

    উত্তম মণ্ডল

    দেশে এবং বিদেশে গরীবদের জন্য কেঁদেই চলেছেন একদল মানুষ। এই কান্না কখনও কখনও দেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও প্রভাবিত করছে। সম্প্রতি এমনই একটি বিষয় সামনে এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চোরাচালান প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ চাইছে, গরীবদের জন্য চোরাচালান চলতে থাকুক। আর ভারত চোরাচালানকারীদের গুলি না চালিয়ে গরীবের স্বার্থে মানবিক হোক্। তবে কি গরীবদের সীমান্তে চোরাচালানের অধিকার জন্মাচ্ছে ! মারাত্মক প্রশ্ন! আর ভারত ও বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত হালফিল্ বৈঠকের পর থেকেই ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্নটাই।
    গত মাসে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতের বিএসএফ ও সেদেশের বিজিবির ডিজি স্তরের ৪৮ তম দ্বিবার্ষিক বৈঠক শেষ হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার লম্বা সীমান্ত রয়েছে। এটাই চোরাকারবারীদের সোনালী পথ। গবাদি পশু থেকে নিষিদ্ধ মাদক—সব এই পথেই পাচার হয়। সব চেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, কোনো ভারতীয় পাচারকারী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ পৌঁছলেই তার পরিচয় হয়ে যায় “ব‍্যবসায়ী।” আর গোরু পিছু ৫০০ টাকা দিলেই বাংলাদেশ যাওয়ার অলিখিত ছাড়পত্র মিলে যায়।
    বৈঠকের পর বাংলাদেশ বিজিবির নর্থ ওয়েস্ট রিজিওনের কম‍্যাণ্ডার জালাল গণি জানান, চোরাচালান রুখতে দু’দেশই সহযোগিতা করে আসছে। তবে—
    এখানেই ঢুকে আছে সার কথা। কি সেই কথা?
    বাংলাদেশ কম‍্যাণ্ডারের ভাষায়, এরা গরীব। পেটের দায়ে এসব করে। তাই —
    হ‍্যাঁ, তাই ওদের দিকে বন্দুকের গুলি নয়, সহানুভূতি চাই।
    এ বিষয়ে ভারতীয় বিএসএফের নর্থ ফ্রন্টিয়ারের আই জি আজমল সিং জানিয়েছেন, আমরা মারণাস্ত্র ব‍্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
    কিন্তু—-
    কিন্তু গত ১১ জুলাই বাংলাদেশি গোরু পাচারকারীর গুলিতে মারাত্মক জখম হয়েছেন এক বিএসএফ জওয়ান। জখম হয়েছে তাঁর হাত। এখনো চিকিৎসা চলছে তাঁর।
    এরপরে আরও সহানুভূতি!
    তবে কি গরীব হলে সীমান্তে চোরাচালানের অধিকার ক্রমেই জন্মাচ্ছে পাচারকারীদের ? তাহলে তো একদিন সবাই বলতে শুরু করতে পারে, চোরাকারবারীদের এরপর সরকারি বৈধতা দিতে হবে। আইনের স্বীকৃতি দিতে হবে। কারণ, ওরা গরীব। কাছেই গরীবদের করে-কম্মে খেতে দাও। এভাবে কি সত্যিই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টির সঙ্গে আপোষ করা যায়। গরীবের জন্য সরকার জনমুখী প্রকল্প তৈরি করতে পারে। আর সব চোরাকারবারী যে গরীব, সেই শংসাপত্র দেবে কে? উঠছে প্রশ্ন। আর জবাবটা ভবিষ্যতের গর্ভেই এখন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here