এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৯)

0
UNTOLD-STORY-OF-MUMBAI-UNDERWORLD

Last Updated on

আশির দশকে মান্য সুর্ভের এনকাউণ্টারের পর একাধিক এনকাউণ্টার সংঘটিত হলেও বড়সড় কোনো গ্যাংস্টার পুলিশের শিকার হয়নি। অন্যদিকে দাউদ তার ডি-কোম্পানিকে ক্রমশ বাড়িয়েই চলেছিল নিজের তুখড় বুদ্ধি দিয়ে। মূলত বেআইনি জিনিসপত্রের চোরাচালান এবং মৃত্যুভয় দেখিয়ে ধনী ব্যাবসায়ীদের কাছে থেকে তোলা আদায়ই ছিল এর উৎস। একইসাথে বলিউডেও ঘুরপথে এই বেআইনি টাকা খাটানোর অভিযোগও এই একইসময় উঠতে শুরু করে। আমরা পূর্বে জেনেছি ষাট এবং সত্তরের দশকে হাজি, করিম লালা, বরদারাজনরা একই কাজ করলেও কখনো বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তা করেনি বা করলেও তা নেহাতই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হত পেশির। ডি-কোম্পানির উত্থানের সাথে সাথে এই পরম্পরাও শেষ হয়ে যায় সে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে খুন, অপহরণের মত ঘটনা। কখনো তা হত ব্যাবসায়ীদের সাথে তো কখনো হত বিপক্ষ কোনো গ্যাংয়ের সদস্যের সাথে। মুম্বইয়ের অন্ধকার জগত ক্রমশ আরো অন্ধকারে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৮)


ডি-কোম্পানি ঐ সময় মূলত মুম্বইয়েই সীমাবদ্ধ থাকলেও তার মূল মাথা দাউদ ইব্রাহিম দেশের বাইরে থেকেও তার কাজকর্ম পরিচালনা করত। ডি-কোম্পানির ভারতের কাজকর্মের ভার আশির দশকে মূলত ছিল আবু সালেম, ছোটা রাজনসহ একাধিক বড়, মাঝারি গ্যাংস্টারদের হাতে। এরকমই একজন ছিল মহেন্দ্র ডোলাস ওরফে মায়া ডোলাস।
মুম্বইয়ের বাসিন্দা মায়া ডোলাস ছিল শহরেরই একটি কলেজ থেকে আইটিআই পাশআউট। আশির দশকে অশোক জোশীর গ্যাংয়ে মায়ার অন্ধকার জগতের হাতেখড়ি। পূর্ব মুম্বইয়ের কুঞ্জুর এলাকার এই গ্যাং দক্ষিণ মুম্বইয়ের বায়কুল্লা কোম্পানির সাথে মিলে একসাথে চালাতো তাদের কার্যকলাপ। খুব অল্পদিনের মধ্যেই নিজের যোগ্যতায় সে গ্যাংয়ের মধ্যে অনেক উপরে উঠে যায়। পরবর্তীকালে দাউদের নজরে এসে ডি-কোম্পানিতে যোগদান করে মায়া। দাউদ এইসময় কখনো দুবাই বা কখনো মালয়েশিয়া থেকে নিজের গ্যাং পরিচালনা করত ফোনকল দিয়ে। সেরকমই মায়া দাউদের সব নির্দেশ পালন করছিল তাকে নেতার মান্যতা দিয়ে। তবে কিছুদিনই পরই বাদ সাধে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এইসময় মুম্বই পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ছিলেন আফতাব আহমেদ খান। তিনি এরকমই একদিন খবর পান মায়া তার দলবল নিয়ে আরব সাগর তীরবর্তী শহরের পশ্চিম দিকের লোখণ্ডওয়ালায় একটি হাউজিং কমপ্লেক্সে লুকিয়ে আছে। মনে করা হয় দাউদের সাথে এক ব্যাবসায়ীর কাছে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া নিয়ে মায়ার সাথে দাউদের মতানৈক্য হওয়ার কারণে দাউদই নাকি মায়াকে কায়দা করে পুলিশের সাহায্যে তাকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে। যদিও এটির সত্যতা নিয়ে সংশয় আছে।

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৭)


১৯৯১ এর ১৬ই নভেম্বর সূত্র মারফত এসিপি খান খবর পান মায়া লোখণ্ডওয়ালা কমপ্লেক্সে লুকিয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘিরে ফেলে গোটা কমপ্লেক্সটিকে। দীর্ঘক্ষণ পুলিশের সাথে গুলির লড়াইয়ের পর মায়া এবং তার দলবল হার মানে। তাদের প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। মনোহর সুর্ভের পর এত বড়মাপের একজন গ্যাংস্টারের মৃত্যুতে স্বভাবতই পুলিশের আত্মবিশ্বাস এক ধাক্কায় বেড়ে যায় অনেকখানি।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here