রাজ্য-কেন্দ্র কাজিয়ায় ‘এক দেশ, এক রেশন’-এর আদৌ সুবিধে পাবেন তো ভিন রাজ্যের বাঙালি শ্রমিকেরা

0

Last Updated on

২0১১ সালের আদমসুমারির তথ্য বলছে প্রতি পাঁচ জন বাঙালির মধ্যে একজন রাজ্যের বাইরে থাকেন যে কোন কারণেই হোক না কেন | সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি অসমে | সেই তালিকায় তারপর নাম রয়েছে ঝাড়খন্ড,অসম,ত্রিপুরা মহারাষ্ট্র এবং আরও কয়েকটি রাজ্য | তখনকার পরিসংখ্যান বলছে গোটা ভারতের ৯.৬কোটি বাঙালির মধ্যে ১.৬ কোটি বাঙালি কোনো না কোনো রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছেন | স্বাভাবিকভাবেই এই সংখ্যাটি ২০১৯ এ দাঁড়িয়ে বেড়েছে বই কমেনি ,তা বলাই যায় | ২০১৬ সালে প্রথম মোদি সরকারের আনা খাদ্য সুরক্ষা বিল’ অনুযায়ী যে ন্যুনতম রেশন দারিদ্র সীমার নীচে পাওয়ার কথা তা চালু হয়ে সফলভাবে এগিয়ে চলার পর ,এবার তাঁদের লক্ষ্য ‘এক দেশ,এক রেশন কার্ড’ নামক কেন্দ্রীয় নীতি গোটা দেশে লাগু করা | এি নিয়ম কার্যকর হবে ২০২০ এর ১লা জুলাই থেকে | ইতিমধ্যেই যে রাজ্যগুলি এই নীতিকে মান্যতা দিয়ে তাদের খাদ্য সরবরাহ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করে গ্রাহকদের এর আওতায় নিয়ে এসেছেন, সেই তালিকায় নেই পশ্চিমবঙ্গের নাম |

শনিবার কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ান একটি বিবৃতিতে বলেন , খাদ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মূলতঃ যারা ভিন রাজ্যে কাজ করতে যান তাদের সুবিধের জন্য এই ব্যবস্থা করতে চান মোদি সরকার | বাংলা থেকে অন্য রাজ্যে আবার অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় কাজ করতে আসেন,থেকেও যান বহু মানুষ | তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম চালুর পর একটি মাত্র রেশন কার্ডেই মিলবে তাদের প্রাপ্য রেশন | এই মর্মে ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী ৭৫ শতাংশ রেশন দোকান গুলিতে একটি বিশেষ মেশিন (পিওএস) বসানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী | বেশ কিছু রাজ্যে পুরোনো রেশন কার্ড বদলে ইতিমধ্যেই উপভোক্তাকে ডিজিটাল রেশন কার্ড বিলি করাও শুরু হয়ে গিয়েছে | কীভাবে কাজ করবে এই নতুন নীতি ? সূত্রের খবর, আগামী চার মাসের মধ্যে ফুড কর্পোরেশন অব্ ইণ্ডিয়ার সঙ্গে রাজ‍্যগুলির অন্ লাইন ব‍্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। এর জন্য চালু হচ্ছে “ডিওএস”, অর্থাৎ ডিপো অন্ লাইন সিস্টেম। সেন্ট্রাল ওয়‍্যারহাউসের সঙ্গে অন্ লাইন ব‍্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর দু’মাসের মধ্যে রাজ‍্যগুলিকে তাদের গুদামের সঙ্গে অন্ লাইন ব‍্যবস্থার কাজটি শেষ করে ফেলতে হবে। এ নিয়ে রাজ‍্যগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ফুড করপোরেশনের গুদাম থেকে রেশন দোকান পর্যন্ত খাদ‍্যশস‍্য সরবরাহের বিষয়টিকে পুরোপুরি কম্পিউটারে ধরে রাখা হবে। কবে কোন্ দোকানে কত খাদ‍্যশস‍্য গেল, কতটা বিলি হলো এবং তারপর কতটা রয়ে গেল–পুরোটাই ধরে রাখা হবে কম্পিউটার ব‍্যবস্থায়। রাজ‍্যগুলির রেশন দোকানগুলিতে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে “পিওএস” মেশিন, অর্থাৎ পয়েন্ট অব্ সেল মেশিন । ফলে যেসব শ্রমিক দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ করেন, তারা যখন যেখানে থাকবেন, সেখান থেকেই তাদের বরাদ্দ রেশন তুলতে পারবেন।

দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০টি রাজ্য এই প্রক্রিয়া চালু করে দিয়েছে তাদের গ্রাহকদের জন্য | প্রথম যে দশটি রাজ্য চালু করেছিল সেগুলি হল গুজরাট,রাজস্থান,কেরালা ,কর্ণাটক,ত্রিপুরা ,অন্ধ্রপ্রদেশ,হরিয়ানা,ঝাড়খন্ড,তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্র | আর যে রাজ্যগুলির পরিকাঠামোগতভাবে এই নতুন পদ্ধতি লাগু করতে অসুবিধে নেই সেই একাধিক রাজ্যের মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ উপদ্রুত জম্মু-কাশ্মীরও | এ তালিকায় নেই পশ্চিমবঙ্গের নাম | ঠিক কি অবস্থায় রয়েছে রেশন কার্ডের ডিজিটালাইজেশনের কাজ ? এ রাজ্যের প্রশাসনিক স্তর থেকে এই বিষয়ে কোন স্পষ্ট ধারণা তুলে ধরা হয়নি বলেই খবর | কতটা কাজ এগিয়েছে বা আদৌ তারা এই নিয়ম ৩০শে জুন ২০২০এর মধ্যে করে করে উঠতে পারবে কিনা তা পরিষ্কার নয় |
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্র-রাজ্য তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে আদৌ কতটা ফলপ্রসূ হবে এই কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টা তা নিয়ে চিন্তিত ওয়াকিবহাল মহল | কারণ অতীতের দিনের অভিজ্ঞতা বলছে সুকন্যা যোজনা বা আয়ুষ্মান ভারত-এর মত জনহিতকর নানা প্রকল্পকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে দেওয়া হয়নি বলে বিরোধীরা একাধিকবার সমালোচনা করেছেন শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের |

প্রসঙ্গত ২০১৬-র নভেম্বরে কেন্দ্রের প্রথম মোদি সরকার “জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন” চালু করে । এর ফলে দেশের ৮০ কোটি মানুষকে প্রতি মাসে ১ থেকে ৩ কিলোগ্রাম খাদ্যশস্য উচ্চ ভর্তুকিতে দেওয়া হয়। এবার রেশন ব‍্যবস্থাকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে চাইছে কেন্দ্রের দ্বিতীয়বারের নরেন্দ্র মোদির সরকার । তবে এরাজ্যের শ্রমিকেরা ভিনরাজ্যে গিয়ে এই সুবিধে আদৌ পাবেন কিনা তা নির্ভর করবে অবশ্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রশাসনের উপর |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here