নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে আইন করতে মরিয়া কেন্দ্র

0

Last Updated on

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে পেশের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে মোদি সরকার । ১৮ নভেম্বর শুরু হতে চলা শীতকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় সপ্তাহে সম্ভবত এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকার পক্ষের । যদিও শুক্রবারই শীর্ষ আদালতের রায়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি সরকার | অসমের এনআরসির যে মুখপত্র ও রেজিস্টারকে মিডিয়ায় অনধিকার চর্চার জন্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সহ দুই বিচারপতির বেঞ্চ|

তবুও সক্রিয় সরকার | এই বিলের পথে রাজসভায় শক্তির ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে । হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকার এনডিএ বাদে টিআরএস, বিজেডি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে বলে সূত্রের খবর |

আরও পড়ুন :দেশি-বিদেশি রসদে পরিপূর্ণ দেশের সামরিক বাহিনীর ভাঁড়ার

অসম জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে জটিলতার মধ্যে পড়েছে । বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এনসিআর এর বাইরে থাকায় সংঘ প্রভাবিত সরকার পড়েছে এক ধর্মসংকটে | তাই এই বিলকে প্রয়েোজনীয় সংশোধনী করে আইনে পরিণত করা ছাড়া কোন উপায় নেই । এই বিলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের নামমাত্র শর্তে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে | রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় শক্তি না থাকার কারণে সরকার এই বিলটিকে এখনও অবধি আইনে পরিণত করতে পারেনি।

এক্ষেত্রে টিআরএস, বিজেডির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এক প্রবীণ মন্ত্রীর মতে, টিআরএস, বিজেডি এবং ওয়াইএসআর (মোট ১৫ জন সদস্য) তাদের পক্ষে যোগ দিলে উচ্চ কক্ষে সরকার পক্ষ সুবিধেজনক জায়গায় থাকবে | । এই দলগুলির বিলটিতে কোনও বড় আপত্তি নে ই। এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে তাদের এই দলগুলির নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা এবং বিলের সমর্থনে তাদের রাজি করানো । জেডিইউ, এজিপি, বিপিএফ, এনপিএফ এবং এসডিএফও এর মতো সহযোগী দল যারা এই বিলের পক্ষে নয় তাদেরও রাজি করানোর চেষ্টা করা হবে ।

আরও পড়ুন :চেন্নাইয়ের ইন্ট্রিগাল কোচ ফ্যাক্টরির তৈরি ট্রেনের এবার বিদেশ পাড়ি

যদি এই দলগুলি একমত না হয় তবে তাদের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে উচ্চ সভায় ভোট দেওয়ার সময় অনুপস্থিত থাকতে রাজি করা হবে। যাইহোক, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব সত্ত্বেও, রাজ্যসভা ট্রিপল তালাক বিলটিতে সীলমোহর দিতে এবং আর্টিকেল 370 বাতিল করার সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করার পরে , সরকার নাগরিকত্ব বিলটি পাস করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

বর্তমানে, রাজ্যসভার শক্তি ২৪০ জন সদস্য। সরকারের কাছে বিলটি পাসের জন্য ১২১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন । এনডিএর ১১১ জন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি জেডিইউ, এজিপি, বিপিএফ, এনপিএফ এবং এসডিএফ-এর ১-১ সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে । বিজেপিরও চার জন স্বতন্ত্র এবং তিনজন মনোনীত সদস্যের সমর্থন রয়েছে । এমন পরিস্থিতিতে সরকার যদি টিআরএস, বিজেডি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থন পায়, তবে জেডিইউ সহ উত্তর-পূর্বের কয়েকটি দলের বিরোধিতা বিলকে প্রভাবিত করতে পারবে না বলেই মত সরকার ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here