কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-১০)

0
Maharaja Gulab Sing and Sir Henry Lawrence

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

১৮৪৫ সালে প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধ শুরু হয় এবং এই যুদ্ধে গুলাব সিং খুবই চাতুর্যের সঙ্গে ১৮৪৬ সালের সোবরাঁওয়ের যুদ্ধ অবধি একজন মধ্যস্থতাকারী এবং স্যার হেনরি লরেন্সের পরামর্শদাতা হয়ে যান। যার ফলশ্রুতি হিসেবে দুটো চুক্তি সাক্ষরিত হয়।
এদের মধ্যে প্রথম চুক্তির দ্বারা লাহোর রাজ্য প্রায় এক কোটি টাকার বিনিময়ে এবং সে সাথে বিয়াস এবং সিন্ধু নদের মধ্যবর্তী অঞ্চল প্রায় ৭৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ব্রিটিশদের কাছে হস্তান্তরিত হয়। অমৃতসরের চুক্তি সাক্ষরিত হলে গুলাব সিংয়ের শিখদের প্রতি অনুগত্যও চলে যায় এবং ব্রিটিশদের দ্বারা তিনি জম্মু কাশ্মীরের মহারাজার স্থলাভিষিক্ত হন এবং এটাই কাশ্মীরে ডোগরা শাসনের সূত্রপাত করে কাশ্মীরকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করে। ডোগরারা সাধারণভাবে ব্রিটিশদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতায় করে চলতেন। ব্রিটিশের পদলেহন করার সর্বোচ্চ উদাহরণ হল ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় বিদ্রোহে অংশগ্রহণকারী নেতাদের আশ্রয় দিতে অস্বীকার করা। এইসময় ব্রিটিশ নারী এবং শিশুদের আশ্রয়প্রদান থেকে শুরু করে ব্রিটিশদের হয়ে যুদ্ধ করার জন্য সেনা পাঠানো সবই ডোগরা রাজারা করেছিলেন। বিনিময়ে ব্রিটিশরা ডোগরাদের শাসন করতে দেন কাশ্মীর।

১৮৫৭ তে গুলাব সিংয়ের মৃত্যু হলে তার পুত্র রনবীর সিং শাসনভার পান। তিনি হুনজা, গিলগিট এবংনাগর রাজ্যকে তার শাসনাধীনে আনেন। ১৮২০ থেকে ১৮৫৮ অবধি ‘কাশ্মীর ও জম্মু করদ রাজ্যে’র শাসনকাল স্থায়ী হয় কিন্তু কোনোদিনই পুরোপুরি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে তা আত্মপ্রকাশ করতে পারেনি। কারণ হিসেবে ব্রিটিশের তাঁবেদারি করে চলা এবং আপসের মাধ্যমে শাসন এবং শাসকদের স্বৈরাচারী মনোভাবকেই দায়ী বলে মনে করা হয়। এছাড়া বিশাল এই অঞ্চলের বহু ভাষা, ধর্ম এবং জাতির সমাবেশ ঘটে যা ক্ষমতার বিভাজন হওয়া একাধিক শাসকের শাসনাধীন রাজ্যের ঐক্য সংহতি রক্ষার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়।
এইসময় গিলগিট বালটিস্তানের অল্প কিছু অংশ এবং বৃহত্তর লাদাখে বৌদ্ধরা এবং জম্মুতে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও গোটা জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলমানরাই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিলেন। তবে শোনা যায় মুসলিম শাসনের কুফল যা অমুসলিমদের ভোগ করতে হয়োছিল ডোগরা রাজাদের শাসনকালে সেটাই নাকি মুসলমান প্রজাদের উপর চাপানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here