কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-১১)

0
Maharaja Hari Singh

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

রণবীর সিংয়ের পৌত্র হরি সিংয়ের উপর ১৯২৫ সালে কাশ্মীরের শাসনভার অর্পিত হয়। তিনিই কাশ্মীরের ডোগরা শাসনকালের শেষ শাসক। ১৯৪৭ সালে গোটা ব্রিটিশ ভারত যখন ভেঙে ভারত এবং পাকিস্তানে বিভক্ত হয়ে যায় সেই সময়তেও তিনিই ছিলেন কাশ্মীরের শাসক। আগস্ট ১৯৪৭য়ে পুঞ্চ এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানের সাথে যোগদানের দাবী নিয়ে। সেইসময় মহারাজের সেনাবাহিনী তাদের কঠোর হাতে দমন করে। শোনা যায় এইসময় গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর অত্যাচার করা হয়। তবুও বিদ্রোহের আগুন পুরোপুরি নেভাতে পারেনি হরি সিংয়ের সেনা। অক্টোবরে বিদ্রোহ ঘোষণাকারীরা পুঞ্চ এলাকাকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করে দেয়।
ঠিক এইসময় বিভিন্ন করদ রাজ্যগুলিকে ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভারত অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগদানের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয় তখন হরি সিং কোনো রাষ্ট্রর সাথেই যোগদানের ব্যাপারে আগ্রহী না থেকে স্বাধীন কাশ্মীরকে স্বাধীনই রাখতে চেয়েছিলেন। কাশ্মীরে এইসময় ৭৭% মুসলিম এবং ২০% হিন্দুর বাস ছিল। মহারাজ এইসময় পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি সাক্ষর করেন যার মাধ্যমে পাকিস্তানের সাথে ব্যাবসা-বাণিজ্য চালানো যাবে বলে স্থির হয়। আশ্চর্যজনকভাবে ভারতের সঙ্গে এরকম কোনো চুক্তি সাক্ষরিত হয়নি। এরপর জম্মুতে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাড সংঘটিত হলে ঠিক পর পরই পাকিস্তানের নর্থ-ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্সের পশতুনরা পুঞ্চের বিদ্রোহীদের সাথে হাত মিলিয়ে এবং পাক সরকারের মদতে কাশ্নীর আক্রমণ করে বসে। তাদের লক্ষ ছিল হরি সিংয়ের পতন কিন্তু তাদের লক্ষ্য সাধিত হয়নি। এইসময় ভাইসরয় লর্ড মাউণ্টব্যাটেন কাশ্মীরের অন্তর্ভূক্তিকরণে সায় দেন। হরি সিং ‘ইন্সট্রুনেন্ট অফ অ্যাকসেশনে’ সই করলে ভারতীয় বাহিনী পশতুনদের হাত থেকে গোটা জম্মু-কাশ্মীরকে রক্ষা করে। পাকিস্তান রাষ্ট্র এই চুক্তিকে কখনোই স্বীকার করেনি। তাদের মত পাকিস্তানের সাথে পূর্ববর্তী চুক্তিটি থাকাকালীন হরি সিং কোনোভাবেই ভারতের হাতে কাশ্মীরকে দিতে পারেননা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here