কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-৫)

0

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

তোরামানের নেতৃত্বে হেপটাথালাইটস বা শ্বেত হুনরা হিন্দুকুশ পার হয়ে পশ্চিম ভারত এবং কাশ্মীরের একটা বিশাল অংশ নিজেদের দখলে আনে। এরপর তার পুত্র মিহিরকুল গোটা উত্তর ভারতকে নিজের পদানত করতে অভিযান চালান, কিন্তু মগধের তৎকালীন শাসক বালাদিত্যের দ্বারা প্রথম বাধাপ্রাপ্ত হন এবং পরে মালওয়ার যশোধর্মনের কাছে পরাজিত হন। পরাজিত হয়ে তিনি কাশ্মীরে ফিরে যান এবং গান্ধার যা কিনা বর্তমানে আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্ত সেখানের বৌদ্ধদের উপর ব্যাপক অত্যাচার চালান। মিহিরকুলের মৃত্যুর পর হুনদের প্রভাব ক্রমশ স্তিমিত হতে হতে একেবারে শূন্যে এসে ঠেকে।

সপ্তম শতকের পর থেকে কাশ্মীরে পুনরায় হিন্দুধর্মকেন্দ্রিক সভ্যতা-সংস্কৃতির পূনর্জাগরণ শুরু হয়। এই সময়কালে প্রচুর কবি, শিল্পী, দার্শনিক তাদের কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বসুগুপ্ত যিনি শৈবসূত্রের রচনা করেন। যেটি কিনা পরবর্তীকালে কাশ্মীর কেন্দ্রিক একেশ্বরবাদী শৈব মতবাদের জন্ম দেয়। পরবর্তীকালে একেশ্বরবাদী দর্শন দ্বৈতবাদে পরিণত হলে অভিনবগুপ্ত নামের এক দার্শনিক দ্বারা তা খণ্ডিত হয় যিনি কাশ্মীরের অন্য আরেকজন স্বনামধন্য ব্যাক্তিদের মধ্যে অন্যতম। কাশ্মীরের শৈব মতবাদ পরবর্তীকালে দক্ষিণ ভারতেও জনপ্রিয় হয়।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here