কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-৩)

0

Last Updated on

নীলমাতা পুরাণে মূলত কাশ্মীরের ইতিহাসের সবচেয়ে পুরোনো অধ্যায়ের কথাগুলি পাওয়া যায়, যা কিনা রচিত হয় ৫০০-৬০০ খ্রীষ্টাব্দে বলে মনে করা হয়। যদিও এটা পুরাণ এবং অন্য কোনো প্রামাণ্য ইতিহাস নয় তাই নীলমাতা পুরাণের কথা উৎস নিয়ে অনেক ঐতিহাসিকই সন্দেহ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে কলহন প্রবর্তিত রাজতরঙ্গিনী যা কিনা প্রায় আট হাজার সংস্কৃত স্লোকের দ্বারা সম্বলিত যাতে কাশ্মীরের ইতিহাসে পুরাণের যুগ থেকে দ্বাদশ শতক অবধি কাশ্মীরের ইতিহাস বর্ণীত আছে সেটিই কাশ্মীরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য সূত্র বলে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। এই বৃহদাকার বই মোটামুটিভাবে দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি সময় করে শেষ করা হয় বলে মনে করা হয়। রাজতরঙ্গিনী রচনা করতে গিয়ে কলহন নীলমাতা পুরাণ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুদ্রা, ইতিহাসপ্রসিদ্ধ স্থান, স্থাপত্য-ভাস্কর্য এবং অবশ্যই নিজের পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের সহায়তা নেন। ফলে আধুনিক যুগে বৈজ্ঞানিকভাবে লিখিত ইতিহাসের তুলনায় তা কোনো অংশে কম নয় বিশেষ করে একাদশ এবং দ্বাদশ শতকের বহুঘটনাবহুল কাশ্মীরের ইতিহাসের যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কলহন বহুলাংশেই পুরাণের রুপকার্থক বর্ণনার সাহায্য নিয়েছিলেন বলে তাঁকে ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক বলেও অভিহিত করা হয়। কাশ্মীরে মুসলিম শাসনকালে কলহনের রাজতরঙ্গিনীর বিস্তৃত সংস্করণ হিসেবে এইসময়তে তিনটে আরো ঐতিহাসিক বর্ণনা সম্বলিত গ্রন্থ রচনা করা হয়। এই তিনটে বই লেখেন জনারাজা, শ্রীভার, প্রাজ্যভট্ট এবং সুকা। ১৫৮৬ সালে আকবরের কাশ্মীর বিজয়ের সময় যা লেখা শেষ হয়। রাজতরঙ্গিনী ফারসী ভাষায় অনুদিত হয় নিজামুদ্দিন, ফারিস্তা এবং আবুল ফজলের দ্বারা। বাহারিস্তানী শাহী এবং তারিখ-ই-কাশ্মীরি হল সুলতানী আমলে লেখা ফারসী ভাষায় কাশ্মীরের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। দুটোই কলহন এবং পরবর্তীকালে লেখা গ্রন্থগুলিকে তাদের আধার হিসেবে গ্রহণ করে।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here