কাশ্মীর : ফিরে দেখা ( পর্ব-১)

0

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

কাশ্মীর, ভারতের সবচেয়ে উত্তরের এই রাজ্যকে ঘিরেই বর্তমানে দেশের রাজনীতি এবং ইতিহাস সাম্প্রতিককালে আবর্তিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানকালে কাশ্মীর যেরকম নজরের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক একইরকম ঘটনাবহুল এ রাজ্যের ইতিহাসও। পুরাণ এবং মহাভারতকে বাদ দিলে ভারতের অন্যান্য অঞ্চল বিশেষ করে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম অংশের মত এত পুরোনো ইতিহাস না থাকলেও কাশ্মীরের প্রামান্য ইতিহাস প্রায় দেড় থেকে দুহাজার বছরের পুরোনো। তবে তারও আগের উল্লেখ প্রাচীন গ্রন্থে পাওয়া যায়।
কাশ্মীরের ইতিহাস লিখতে গেলে গোটা উপমহাদেশেরই ইতিহাস ঘেঁটে দেখতে হয়। এই অঞ্চলের ইতিহাস প্রভাবিত করেছে গোটা দক্ষিণ, পশ্চিম এবং পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসকে। কাশ্মীর বলতে শুধু কাশ্মীর উপত্যকাকে বোঝালেও প্রাচীন কাশ্মীরের মধ্যে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা, লাদাখ, কার্গিলসহ পাকিস্তান প্রদেশের গিলগিট বালটিস্তান, কারাকোরাম রেঞ্জ এবং আকসাই চীনের অংশও তার মধ্যে পড়ত।
প্রাচীনযুগে গত সহস্রাব্দের প্রথমার্ধে কাশ্মীরে প্রাচীন বৈদিক ব্রাহ্মণ্য ধর্ম প্রভাব বিস্তার করলেও পরবর্তীকালে বৌদ্ধধর্ম এবং তারও পরে নবম শতাব্দীতে শৈবমতের প্রাচুর্য দেখা যায়। পরবর্তীকালে ত্রয়োদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের ইসলামীকরণ শুরু হলে শৈবমতের প্রাচুর্য ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, যদিও পূর্বতন সভ্যতার প্রভাব থেকেই যায়।
১৩৩৯ খ্রিস্টাব্দে শাহ মীর প্রথম মুসলিম শাসক হিসেবে কাশ্মীরের শাসনভার হাতে নেন। তিনিই শাহ মির বংশের প্রথম শাসক। তারপর থেকে পাঁচ শতক ধরে মুসলিমরা কাশ্মীর শাসন করেন। তার মধ্যে কাশ্মীরে মুঘল শাসন চলে ১৫৮৬ থেকে ১৭৫১ খ্রীস্টাব্দ অবধি। এরপর ১৭৪৭ থেকে ১৮১৯ অবধি আফগান দুরানী শাসন চলে কাশ্মীরে। ১৮১৯ এ কাশ্মীরের শাসনাভার নিজ হস্তে অর্পন করেন শিখ শাসক রঞ্জিত সিং। তারপর ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গ-শিখ যুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে হারার পর শিখ রাজা গুলাব সিং ‘অমৃতসর চুক্তি’র মাধ্যমে ব্রিটিশদের কাছ থেকে কিনে কাশ্মীরের নতুন শাসক হন।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here