কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-৮)

0

Last Updated on

শিবাজি প্রতিম

পঞ্চদশ শতকের কিছু সময় জুড়ে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলা কাশ্মীরের শাসক সুলতান হাজ্জি খানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যদিও ১৪৭২ সালে তার পুত্র হাসান খান সিংহাসন দখল করলে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করেন। এরপর ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি অবধি সময়কালে কাশ্মীরের রাজদরবারের হিন্দু আধিপত্য ধীরে ধীরে খর্ব হয়। একইসাথে মধ্য এশিয়া থেকে একাধিক ইসলামিক ঘরানার প্রচারক, শিল্পী এনারা কাশ্মীরে আসেন। সে সাথে সংস্কৃত ভাষার পরিবর্তে ফারসি ভাষা রাজদরবারে রাজভাষা হিসেবে জায়গা করে নেয়।

১৫৪০ মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সময়কালে মুঘল সেনানায়ক মির্জা মহম্মদ হায়দার কাশ্মীর আক্রমণ করেন তবে আকবরের সময়কাল অবধি সরাসরি মুঘলরা কাশ্মীর শাসন করেননি।
তার সময় থেকেই কাশ্মীরে মোটামুটিভাবে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। ১৫৮৯ সালে স্বয়ং সম্রাট কাশ্মীর ভ্রমণ করেন। বলা হয়, আকবর নাকি ছল-চাতুরির মাধ্যমে কাশ্মীরের দখল নেন এবং ১৫৮৬ খ্রীষ্টাব্দে কাবুল সুবার সাথে কাশ্মীরকে যুক্ত করেন। এরপর শাহজাহান পুনরায় তাকে সেখান থেকে বিযুক্ত করে নতুন সুবারুপে প্রতিষ্ঠা করেন। এইসময়কালে কাশ্মীরের প্রচুর নয়নভিরাম বাগান, মসজিদ এবং প্রাসাদ তৈরি হয়।
১৫৬৮ সালে আওরাঙ্গজেব দিল্লীর তখত দখল করলে কাশ্মীর থেকে পুনরায় পরধর্মসহিষ্ণুতা পুনরায় উধাও হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে তার মৃত্যুর পর কাশ্মীরে মুঘলদের দাপট কার্যত শেষ হয়ে যায়।
এরপর ১৭০০ খ্রীষ্টাব্দে কাশ্মীরের কোনো এক ধনী ব্যাবসায়ী হজরত মহম্মদের চুল নিয়ে আসেন বলে কথিত আছে এবং মুহম্মদের এই চুল ডাল লেকের ঠিক পাশে হজরতবাল মসজিদে রাখা হয় বলে আপামর কাশ্মীরি মুসলিমদের বিশ্বাস। ১৭৩৮ সালে নাদির শাহ কাশ্মীর আক্রমণ করলে মুঘলদের যেটুকু প্রভাব অবশিষ্ট ছিল তাও নষ্ট হয়ে যায়।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here