কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-২)

0

Last Updated on

প্রাচীন দর্শন অনুযায়ি কাশ্মীর শব্দের অর্থ হল ‘শুষ্ক ভূমি’ ‘কা’= জল, ‘শিমিরা’= শুষ্ক। এখান থেকেই কাশ্মীর শব্দের উৎপত্তি। কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা অবশ্য শুরু হয় দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি করে। কলহনের লেখা রাজতরঙ্গিনী হল সেই প্রামাণ্য ইতিহাসের মূল গ্রন্থ এবং এ যাবৎকাল কাশ্মীরকে নিয়ে যত লেখালেখি হয়েছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠও। রাজতরঙ্গিনীর মতে, পুরো কাশ্মীর উপত্যকা নাকি এক সময়ে বিশালাকায় এক জলাভূমি ছিল। তবে হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ব্রহ্মাপুত্র মরিচের পুত্র ঋষি কাশ্যপ নাকি এই বিশালাকায় জলাশয় খনন করেন। বর্তমান কাশ্মীরের বারামুলায় পাহাড় কেটে নাকি এই জলাশয় তৈরি হয়। ঋষি কাশ্যপ জলাশয় খননের পর সেখানে ব্রাহ্মনদের আহ্বান করেন থাকার জন্য। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রাচীন কাশ্মীরে কাশ্যপপুর নামের জায়গারও উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে কাশ্মীর শব্দকে অনেকসময় কাশ্মীরি(Cashmere) নামেও ডাকা হত। সেকারণে এখনো অনেক দেশে কাশ্মীরকে ঐ নামেই ডাকা হয়ে থাকে বলে ধারণা। মহাভারত অনুযায়ী কাশ্মীরকে শাসন করেন কম্বোজ রাজারা এবং সেইসময় তাদের রাজধানীর নাম ছিল রাজপুরা। বর্তমানে উপত্যকার রাজৌরি জেলাকে সেই রাজপুরা বলে মনে করা হয়। পরবর্তীকালে পাঞ্চালরা এখানে শাসন করতে এলে তাদের নামকরন অনুযায়ীই ‘পীর পঞ্জাল’ নামকরণ হয়। পাঞ্চাল থেকেই পঞ্জাল এবং পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকরা এর সাথে পীরকে জুড়ে দেন ফলে তার নাম হয় ‘পীর পঞ্জাল’। অন্যদিকে চতুর্দশ শতকে রাজা জম্বু লোচন জম্মুর পত্তন করেন তার নাম অনুসারেই বর্তমান জম্মুর নামকরণ হয় বলে মনে করা হয়।
(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here