কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব- ৯)

0

Last Updated on

শিবাজি প্রতিম

সুদীর্ঘ চারশো বছরের মুসলিম শাসনের পর কাশ্মীরের শাসনভার যায় মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের নেতৃত্বাধীন শিখদের হাতে এবং সে সাথেই দীর্ঘদিনের কাশ্মীরের হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর নেমে আসা দীর্ঘ অত্যাচারের অবসান হয় তখনকার মত। তবে দীর্ঘদিনের মুসলিম শাসনের কুফলগুলির কিছু পাল্টা ব্যবস্থা গৃহিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গোহত্যা করলে মৃত্যুদণ্ড, শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া এবং মসজিদের আজান বন্ধ করে দেওয়া প্রভৃতি।
এইসময় কাশ্মীরে প্রচুর সংখ্যক ইউরোপিয়ান ভ্রমণকারীদের আগমন ঘটে। যাদের লেখা থেকে বৃহৎ সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর দারিদ্রের কথা জানা যায়। শিখ শাসনের সময়কালে মুসলিমদের উপর চাপানো করের পরিমাণ অনেকটাই বেশি ছিল বলে জানা যায় সে কারণে একটা বিরাট অংশের জমিগুলি বিনা চাষেই পড়েছিল। যদিও ১৮৩২ সালের দুর্ভিক্ষের সময় কর কমিয়ে প্রায় অর্ধেক করে দেওয়া হয় এবং বিনা সুদে ঋণের প্রচলনও করেন শিখ শাসকরা। ফলে কাশ্মীরের অর্থনীতি ফের ঘুরে দাড়ায় এবং ধীরে ধীরে কাশ্মীর শিখ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম করসংগ্রহের জায়গা হিসেবে উঠে আসে। এইসময়তেই কাশ্মীরি শাল গোটা বিশ্বে পরিচিতি পায় এবং বহুলাংশে বিশেষ করে পশ্চিমি দেশেগুলিতে রফতানি বৃদ্ধি পায়।

১৮৭০ সালে জম্মুর রাজা রঞ্জিত দেওয়ের মৃত্যুর পর তার জম্মুও শিখদের হাতেই চলে যায় এবং ১৮৪৬ অবধি তা শিখদের শাসনাধীনই থাকে। রঞ্জিত দেওয়ের ভাগ্নে গুলাব সিং মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের দরবারে কাজের সন্ধানে যান এবং পরবর্তীকালে তার কাশ্মীরের অন্তর্ভূক্তিকরণের ক্ষেত্রে নিজের কৃতিত্বের পরিচয় দিলে ১৮২০ সালে জম্মুর রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি তার সেনাপ্রধাণ জারোয়ার সিংকে সাথে নিয়ে লাদাখ এবং গিলিগিট বালটিস্তানকে কাশ্মীরের অন্তর্ভূক্ত করেন।

(চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here