কাশ্মীর : ফিরে দেখা (পর্ব-৭)

0

Last Updated on

শিবাজি প্রতিম

ঐতিহাসিক মহিব্বুল হাসানের মতে, ১০০৩-১৩২০ সালে লোহরা বংশের হিন্দু শাসকদের সময়কালে জোর করে চাপানো কর ব্যবস্থা, দুর্নীতি, অন্তর্দ্বন্দ এবং সামন্ত্রতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফলশ্রুতি হিসেবেই কাশ্মীর পরবর্তী কয়েক শতক ধরে বহিরাগতদের দখলে চলে যায়। তুর্ক-মোঙ্গোল শাসক দুলাচা কাশ্মীর আক্রমণ করলে লোহরাদের শেষ শাসক সহদেব কাশ্মীর থেকে পলায়ন করেন। রিনচানা নামের একজন তিব্বতী বৌদ্ধ শরনার্থী এরপর কাশ্মীরের শাসনভার হাতে নেন, তবে তিনি তার মন্ত্রী শাহ মীরের সংস্পর্শে এসে ইসলামধর্ম গ্রহন করেন। কারণ হিসেবে ঐতিহাসিকরা রাজনৈতিক কারণকেই দায়ী করেন। তবে কিছুকাল পরে তার বংশধরেরা মুসলীমদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে কিছু করে উঠতে পারেননি। আর এভাবেই উপমহাদেশের অন্যান্য জায়গার মতই কাশ্মীরেও বিশ্বাসঘাতকতায় মুসলিমদের শাসক হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
চতুর্দশ শতকে কাশ্মীরে ইসলাম প্রধাণ ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং হিন্দু কাশ্মীরের পতনের সাথে সাথেই উপত্যকায় সংস্কৃত সাহিত্য এবং হিন্দু সংস্কৃতিরও পতন শুরু হয়ে যায়। ইসলাম প্রচারক শেখ নুরউদ্দীন নুরানী কাশ্মীরের শৈব মতাদর্শের সাথে সুফি দর্শনকে মিশিয়ে এক অদ্ভুত ধর্মমতের প্রচলন করেন। ১৩৫৪ থেকে ১৪৭০ সালের মধ্যে সিকন্দর বাদে মুসলিম শাসকরা মোটামুটিভাবে পরধর্মসহিষ্ণু ছিলেন বলেই অনেকে মনে করেন। সুলতান সিকন্দর অমুসলিমদের উপর জোর করে কর চাপান, জোর করে ধর্মান্তরণে মদত দেন এবং মূর্তিভাঙার জন্য বুটশিখান উপাধিও পান। এরপর সুলতান জয়নাল আবেদিন মধ্য এশিয়া থেকে বহু ইসলামি শিল্পীকে কাশ্মীরে আনেন এলাকার স্থানীয় শিল্পীদের আসল ইসলামী রীতিনীতি শেখানোর জন্য। তার সময়তেই কাশ্মীরের চিরাচরিত কাঠের আসবাব তৈরি, শাল উৎপাদন ইত্যাদির বৃদ্ধি হয় ১৪৭০ খ্রীষ্টাব্দে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here