কাশ্মীর : ফিরে দেখা(পর্ব-৪)

0

Last Updated on

শিবাজি প্রতিম

নিওলিথিক যুগের অবশেষ যা কাশ্মীরে পাওয়া গেছে তা খ্রীষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগের। এই যুগের নিদর্শন কাশ্মীর উপত্যকায় যেখানে পাওয়া যায় সেটি হল বার্জাহোম যেখানে নিওলিথিক যুগের দুটি এবং মেগালিথিক যুগের একটি নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রথম পর্যায়ের নিদর্শনগুলি হল মাটির তৈরি বাড়ি, মৃৎপাত্র এবং পাথরের তৈরি যন্ত্রপাতি। দ্বিতীয় পর্যায়ের নিদর্শন যা প্রায় খ্রীষ্টপূর্ব ১৭০০ অব্দ অবধি স্থায়ী হয় তাতে পাওয়া যায় মাটির তৈরি বাড়ি এবং গোরস্থান। শিকার এবং মাছ ধরাই ছিল এ যুগে কাশ্মীরের মূল জীবিকা নির্বাহের উপায়। পরবর্তী বৈদিক যুগে যখন বৈদিক জনজাতির প্রসার ঘটে গোটা উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর ভারত জুড়ে তখন উত্তর-কুরুরা কাশ্মীরে স্থায়ী বসবাস বানায় বলে জানা যায়।
৩২৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে হিদাস্পিসের যুদ্ধে পুরু কাশ্মীরের শাসক আবিসারেসকে গ্রীকবীর আলেকজাণ্ডারের বিরুদ্ধে লড়ার অনুরোধ জানান। সেই যুদ্ধে পুরুর পরাজয় হলে আবিসারেস আলেকজাণ্ডারের কাছে পরাজয় বরণ করেন এবং হাতি ও প্রচুর ধনসম্পদ উপঢৌকন হিসেবে দেন। তার ঠিক পরপরই মৌর্যদের মগধ কেন্দ্রীক শাসনকালে সম্রাট অশোকের সময়তে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটে কাশ্মীর উপত্যকায়। যদিও বৌদ্ধধর্মের প্রাচুর্যকাল, তবুও বৌদ্ধ স্তুপের পাশাপাশি প্রচুর শৈবদেরও তীর্থের উন্মেষ হয়। সম্রাট অশোকের সময়কালেই বর্তমান জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর যার তৎকালীন নাম ছিল শ্রীনগরী তার পত্তন হয়। মৌর্যদের পর কুষাণদের হাতে যায় কাশ্মীরের শাসনভার। এই সময়তেই সম্রাট কণিষ্ক কণিষ্কপুর নামক শহরের স্থাপন করেন। এইসময় কাশ্মীরে পূর্বের বৌদ্ধ নিয়ম মেনে চতুর্থ বৌদ্ধ সমাবেশ হয় যাতে অশ্বঘোষ, বসুমিত্র, নাগার্জুনের মত পণ্ডিত অংশগ্রহণ করেন। চতুর্থ শতকের মধ্যে কাশ্মীর বৌদ্ধ এবং হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধাণ শিক্ষাকেন্দ্র রুপে পরিণত হয়। পঞ্চম শতক থেকে কাশ্মীরি বৌদ্ধ মঠগুলি তিব্বত এবং চীনে বৌদ্ধধর্মের প্রসারে উদ্যোগী হয় একই সময়কালে বহু চীনা এবং তিব্বতী ভিক্ষু এবং ছাত্র কাশ্মীরে ভ্রমণ এবং শিক্ষাগ্রহণের উদ্দেশ্যে আসা শুরু করেন। সেইসময় ঐ যুগের অন্যতম সেরা বুদ্ধিজীবি বলে পরিচিত কুমারজীবি তিব্বত ভ্রমণ করেন তিনি তৎকালীন চীনা শাসক জাও জিংকে প্রভাবিত করে বহু সংস্কৃত গ্রন্থের চীনাভাষায় অনুবাদ করেন। সেই কাজটি সংঘটিত হয় চীনের চ্যাং বৌদ্ধ মঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here