এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৬)

0

Last Updated on

শিবাজি প্রতিম

মনোহর সুর্ভে এবং দাউদ ইব্রাহিম সহ একাধিক ছোট বড় গ্যাংয়ের কার্যকলাপ মুম্বই পুলিশের স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ দুদশকের শান্তির ঘুম কার্যত কেড়ে নেয় এবং পুলিশের বড়কর্তাসহ গোটা আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেই কার্যত প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। এইসময় মুম্বই আণ্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যে দুধরণের লড়াই দেখতে পাওয়া যেত যা গত দুশকে দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের সাথে গ্যাংয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যেকার লড়াই যা বাণিজ্যনগরীর অন্ধকার জগতের ইতিহাসে ছিল সম্পূর্ণ নতুন। এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণ স্বপ্ননগরীর পুলিশকে নতুনভাবে ভাবাতে শুরু করে। বেশিরভাগ এই সমস্ত গ্যাংয়ের নেতৃত্ব সবসময় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে পুলিশ সঠিকভাবে আইনের সহায়তায় কাজও করতে পারত না। কোনো না কোনোভাবে আইনের ফাঁক গলে তারা আইনকেই চ্যালেঞ্জ করত বারবার। তাই মুম্বই পুলিশের ডিক্সনারিতে ‘এনকাউণ্টার’ শব্দের আগমন হয় ঠিক এইসময় অর্থাৎ আশির দশকের শুরুতে।

আরও পড়ুন:এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৫)

ষাট এবং সত্তরের দশকের শহর কলকাতাও ‘এনকাউণ্টার’ শব্দের সঙ্গে খুব পরিচিত। নকশালবাড়ি পরবর্তী সময়ে একাধিক অতিবাম নেতাকর্মী যাদের একটা বড় অংশ ছিল কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্র তাদের নিকেশ করার জন্য কলকাতাসহ গোটা রাজ্য পুলিশের এক প্রধাণ অস্ত্র হয়ে ওঠে এই এনকাউণ্টার। প্রথমে জেল বা থানার লকাপ থেকে বাইরে নির্জন এলাকায় যেতে বলে তারপর তাদের পালিয়ে যেতে বলা হত। তারপর তাকে সেখানেই গুলি করে মেরে ফেলা ছিল ঐ সময় কার্যত গোটা পশ্চিমবঙ পুলিশের রোজনামচা। এবং একেই পোষাকী নাম দেওয়া হয় ‘এনকাউণ্টার’।

মুম্বই পুলিশও প্রায় একই তবে একটু আলাদা পদ্ধতির প্রয়োগ করার কথা ভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে। তারা আসামীকে কোথাও না নিয়ে গিয়েই খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘শুটআউট’ করে মেরে ফেলত।

তারিখ- ১১ই জানুয়ারী, ১৯৮২
স্থান- আম্বেদকর কলেজ ক্যাম্পাস, ওয়াডলা, মুম্বই।।

মুম্বই পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের দুজন দুঁদে পুলিশ অফিসার ইশাক বাগবান এবং রাজা তাম্বাত গোপন সূত্রে খবর পান মনোহর সুর্ভে তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে কলেজ ক্যাম্পাসের অদূরে একটি বিউটি পার্লারে আসবে বলে। মনে করা হয় সুর্ভে গ্যাংয়ের বিরুদ্ধ এবং সদ্যপ্রতিষ্ঠিত ডি-কোম্পানির একমেবাদ্বিতীয়ম দাউদই নাকি তাদের গোপনে খবর দেয়। পরবর্তীকালে এই ঘটনা নিয়ে একটি বলিউডি ছবিতে অবশ্য দেখানো হয় তার বান্ধবী বিদ্যাই নাকি পুলিশকে খবর দেয়। যদিও দ্বিতীয়টির সত্যতা জানা যায়নি এবং প্রথমটিই বেশি জোরালো বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন:এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৪)

ঐ দুজন পূর্বউল্লিখিত পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে প্রায় ১৮ জনের একটি দল সাদা পোষাকে তিন ভাগে ভাগ হয়ে পুরো কলেজ চত্বরটি ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মান্য সুর্ভে তার ‘ওয়েব্লি অ্যাণ্ড স্কট’ রিভলভার দিয়ে গুলি চালাতে যাবে এমন সময় রাজা তাম্বাত আর ইশাক বাগবান পরপর পাঁচবার গুলি করে তার উপর। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সাথে সাথে মুম্বই পুলিশের ইতিহাসের প্রথম ‘এনকাউণ্টার কিলিং’ হিসেবেও ঘটনাটি ইতিহাসে লেখা হয়ে যায়। মনে করা হয় এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ‘মুম্বই পুলিস ডিটেকশন ইউনিট’ প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীকালে বহু দুঁদে অফিসারের জন্ম দেয়। যারা কার্যত বহু বাঘা বাঘা এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টারের ঘুম উড়িয়ে দেন পরবরতী দুই দশক জুড়ে।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here