এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-১১)

0
mumbai-blast-1993

Last Updated on

১২ই মার্চ, ১৯৯৩, দুপুর ১:৩০
স্থান:- দক্ষিণ মুম্বইয়ের দালাল স্ট্রিট

অতীব শক্তিশালী একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল মুম্বই তথা দেশের সবচেয়ে পুরোনো এবং ঐতিহ্যশালী বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের আঠাশ তলার দফতরটি। বিস্ফোরণের তীব্রতা বোঝার আগেই আশেপাশের একাধিক বাড়িতেও ক্ষয়ক্ষতির রেশ পৌঁছে গেল। পরে জানা গেছিল অন্তত ৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয় এই বিস্ফোরণে। দালাল স্ট্রিট বিস্ফোরণের ঠিক ৩০ মিনিট পরেই আরেকটি বিস্ফোরণ হয় দক্ষিণ মুম্বইয়েরই মাণ্ডভি এলাকায় কর্পোরেশন ব্যাঙ্কের দফতরের সামনে। একইরকমভাবে মোট বারোটি বিস্ফোরণ হয় দুপুর ১:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ এর মধ্যে যার বেশিরভাগই ছিল গাড়ি বোমা। কিছু জায়গায় গাড়ির বদলে স্কুটার ব্যবহৃত হয় বোমার রাখার জায়গা হিসেবে। মোট তিনটি হোটেল, যথাক্রমে হোটেল সি রক, হোটেল জুহু সেণ্টর এবং হোটেল এয়ারপোর্ট সেণ্টরে বিস্ফোরণের মাধ্যম হিসেবে স্যুটকেস বোমা ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকার একটি শপিং কমপ্লেক্স এবং এয়ার ইণ্ডিয়ার সদর দফতরও বোমায় আক্রান্ত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয় বৃহৎ মুম্বই পুরসভার একটি ডাবল ডেকার বাসে। প্রায় ৯০ জন সাধারণ মানুষ এতে নিহত হন।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী প্রায় ২৫৭ জন এই সিরিয়াল ব্লাস্টে নিহত হন। আহতের সংখ্যা পৌঁছয় প্রায় ১৪০০ তে। তবে বেসরকারি মতে এই সংখ্যা আরো বেশি।

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-১০)

১৯৯৩ বোম্বে সিরিয়াল ব্লাস্ট হল দেশের মাটিতে ঘটা তখনো অবধি সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ঘটনা। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দায়ি ছিল দাউদ ইব্রাহিম কাস্করের নেতৃত্বে ডি-কোম্পানি। এই ঘটনার পর ডি-কোম্পানির ভিতরে ভাঙন ধরে। এতদিন অবধি ডি-কোম্পানির অন্ধকার জগতের যাবতীয় কাজকর্মে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া দাউদের ডানহাত ছোটা রাজন গ্যাং থেকে বেরিয়ে যায়। কারণ হিসেবে মনে করা হয় দাউদের তীব্র হিন্দুবিরোধী এবং ভারতবিরোধী কার্যকলাপই দায়ী। মুম্বই বিস্ফোরণের ঘটনা সরাসরি দাউদ ইব্রাহিমের ভারতবিরোধী কার্যকলাপকে প্রকাশ্যে এলে ফেলে। ছোটা রাজন দাউদের গ্যাং থেকে বার হয়ে মূলত দাউদের হিন্দু এবং শিখ গ্যাং মেম্বারদের সহায়তায় একটি গ্যাং প্রতিষ্ঠা করে এবং সেই গ্যাং দাউদের চিরশত্রু গ্যাংয়ে পরিণত হয়। যার ফলশ্রুতি হিসেবে দেখা যায় রক্তক্ষয়ী গ্যাং ওয়ার যা ২০১৭ অবধি স্থায়ী হয় যা দুপক্ষের প্রায় ১০০ জনের উপর গ্যাংয়ের সদস্যের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাড়ায় এবং খুব তাৎপর্যপূর্ণভাবে ১৯৯৩ সালের মুম্বই সিরিয়াল ব্লাস্টের সাতজন অভিযুক্ত যারা হল যথাক্রমে সেলিম কুর্লা, মাজিদ খান, শাকিল আহমেদ, মহম্মদ জিন্দ্রান, হানিফ কাদাওয়ালা, আকবর আবু শামা খান এবং মহম্মদ লতিফ এরা প্রত্যেকেই ছোটা রাজনের গ্যাংয়ের হাতে নিহত হয়।

(চলবে)

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here