এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-১০)

0
Encounter-story-of-mumbai-underworld

Last Updated on

মায়া ডোলাসের মৃত্যুর পর মুম্বই পুলিশের আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বেড়ে যায়। তবে তার জন্য দাউদ ইব্রাহিমের কাজকর্ম মোটেও থেমে থাকেনি। দাউদ বিদেশে বসেই তার বেআইনি চোরাচালান সহ অন্যান্য কাজকর্ম সামলাচ্ছিল।

অন্যদিকে নব্বইয়ের দশকে দেশের পরিস্থিতি ছিল খুব টালমাটাল। একটু যদি পিছিয়ে যাওয়া যায় ১৯৮৪ তে, দেশের মসনদে তখন ইন্দিরা গান্ধী। সংঘ পরিবারের অন্যতম প্রধাণ ধর্মীয় শাখা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দাবী করে বসে যে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরী মসজিদ আসলে ভগবান রামের জন্মভূমি এবং সেখানে আসলে রামমন্দির রয়েছে যাকে ১৫২৮ সালে বাবরের সেনাধ্যক্ষ মীর বাকি মন্দির ভেঙে মসজিদ বানান। সেই একই সালের অক্টোবরে খলিস্থানী আন্দোলন এবং ‘অপারেশন ব্লু স্টারে’র ফলশ্রুতি হিসেবে ইন্দিরা গান্ধী তার ব্যাক্তিগত দেহরক্ষীদের হাতে প্রাণ হারান। বিশ্ব গিন্দু পরিষদ হঠাৎই দেশ জুড়ে রামমন্দিরের দাবীতে যাত্রা করার ঘোষণা করে বসে। অন্যদিকে ইন্দিরার পর ইন্দিরা পুত্র রাজীব দিল্লীর তখতে বসলে ১৯৮৬ সালে বন্ধ রামমন্দিরের তালা খোলার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮৯ সালে সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে এতদিনের শুধু ভিএইচপির আন্দোলনকে আরো বড় রুপ দিতে সংঘ পরিবার উদ্যোগী হয় নভেম্বর। ১৯৮৯ তে সংঘের রাজনৈতিক শাখা ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্দোলনে নিজেকেও জুড়ে দেওয়ার ঘোষণা করে এবং তৎকালীন সভাপতি লালকৃষ্ণ আডবানীর নেতৃত্বে প্রায় ১০,০০০ কিমি দীর্ঘ রথযাত্রার সূচনা করে গুজরাতের সোমনাথ থেকে।

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৯)

এই যাত্রার ফলাফল হিসেবে গোটা দেশ জুড়ে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। দেশের প্রায় সব কোনায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় যার ফলাফল হিসেবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্রে বালাসাহেব ঠাকরের নেতৃত্বে অতি দক্ষিণপন্থী দল শিবসেনাও ‘মরাঠী মনুসে’র নীতি ছেড়ে বেরিয়ে এসে ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’কে তাদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করে এবং সংঘ পরিবারের সঙ্গে একত্রে রামমন্দির আন্দোলনে অংশ নেয় ও হাজার হাজার শিবসৈনিক যাত্রা এবং করসেবায় অংশ নেয়। পরিশেষে ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯২ তারিখে করসেবকরা অযোধ্যায় হাজির হয়ে একজন করসেবক নির্দেশ দিলে বাবরি মসজিদের মাথায় উঠে সেটাকে ভেঙে ফেলে।

এই ঘটনার পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিমাণ আরো বেড়ে যায় তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দাঙ্গাটি সংঘটিত হয় মুম্বইয়ে। ডিসেম্বর ১৯৯২ থেকে জানুয়ারি ১৯৯৩ অবধি প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপি এই সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে প্রায় ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয় আর যার প্রতিশোধ হিসেবে দাউদ ইব্রাহিমের ডি কোম্পানির নেতৃত্বে ১২ই মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে গোটা মুম্বই শহর জুড়ে ১২ টি গাড়ি বোমার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। যার ফলশ্রুতি হিসেবে প্রায় ২৫৭ মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৭০০র উপর মানুষ আহত হন।

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৮)

৯ই মার্চ, ১৯৯৩
মুম্বই সিরিয়াল ব্লাস্টের ঠিক তিন দিন আগের কথা। ডি-কোম্পানির এক গ্যাং মেম্বার যার নাম গুল নুর মহম্মদ শেখ মুম্বই শহরের উত্তর-পূর্বের বেহরামপদা বস্তি এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়। তাকে নভপদা থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করলে পুলিশ জানতে পারে গোটা মুম্বই জুড়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনার কথা। কদিন আগে ১৭ই ফেব্রুয়ারি ডি কোম্পানি তাকে দুবাই হয়ে পাকিস্তানে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিতে পাঠায় এবং ৪ঠা মার্চ ফিরে এসে সে সেইমত তাকে বাস্তবায়িত করবে এরকম পুসিশকে জানায়। এতবড় একটি ঘটনা অথচ পুলিশ তার কথাকে গুরুত্ব দেয়নি সেদিন না হলে হয়তো মুম্বই শহরে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসের ঘটনা যা তার ঠিক ৩ দিন বাদেই হতে চলেছে তাকে আটকানো যেত।

(চলবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here