এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৮)

0
Daya-Nayek

Last Updated on

ইন্সপেক্টর দয়া নায়েক ১৯৯৫ সালে মুম্বই পুলিশে যোগদান করেন পুলিশকর্মী হিসেবে। প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ করে তাকে মুম্বইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় পোস্টিং দেওয়া হয়। ১৯৯৬ তে পোস্টিং পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঐ বছরেরে শেষ দিন ৩১য়ে ডিসেম্বরে ছোটা রাজন গ্যাংয়ের দুজন সদস্যের এনকাউণ্টার করে ফেলেন। সেদিনই পুলিশের বড়কর্তারা বুঝে ফেলেন এ লোক অন্য ধাতুতে গড়া। পুরস্কার হিসেবে তার পদন্নোতি হয় এবং কিছুদিন আগে তৈরি হওয়া বৃহৎমুম্বই পুলিশের এনকাউণ্টার স্কোয়াডের অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি যা প্রকৃতপক্ষে মুম্বই আণ্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাংস্টারদের সাথে মোকাবিলা করার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি হয়। ১৯৯৭ তে সেরকমই একটি এনকাউণ্টারে তিনি ভয়ঙ্করভাবে আহত হন কিন্তু হাজার জনতার সামনে সেখানেও দুজন গ্যাংস্টারকে মারতে সমর্থ হন। ২০০৪ সালের মধ্যে এনকাউণ্টারে তার হাতে নিহত গ্যাংস্টারের সংখ্যা প্রায় ৮৩ ছুঁয়ে ফেলে। সাথে মুম্বইসহ গোটা মহারাষ্ট্রের মিডিয়া তাকে কার্যত ‘হিরো’ বানিয়ে ফেলে। সঙ্গে তার চরিত্রের উপর বলিউড একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা বানিয়ে তাকে একপ্রকার ‘কাল্ট ফিগারে’ পরিণত করে। আজও তার সময়কালে নব্বইয়ের দশকের ঐ দিনগুলির কথা মনে করলে মুম্বই পুলিশের ছোট, বড়, মাঝারি স্তরের কর্মীরা এনকাউণ্টারের কথা উঠলে এককথায় ইন্সপেক্টর দয়া নায়েককে চেনেন। তবে মুম্বই পুলিশের এই এনকাউণ্টার স্পেশালিস্ট নিজের ‘এনকাউণ্টার স্পেশালিস্ট’ তকমা নিয়ে খুশি ছিলেন না মোটেও। তার মতে অপরাধের উপর নিয়ন্ত্রন পেতেই তার এই পেশাকে বেছে নেওয়া যাতে বেশি সাধারণ মানুষের রক্তক্ষরণ বেশি না হয়।

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৭)

যদিও দয়া নায়েকের পুরো কেরিয়ারের এই যাত্রাটা খুব একটা সুগম হয়নি। বেশ কয়েকবার ‘ফেক এনকাউণ্টারে’র অভিযোগে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় মিডিয়ার একটা অংশ এবং প্রত্যেকবারই তাকে সাময়িক ইস্তফা দিয়ে ‘এনকোয়রি কমিশনে’র সামনে বসতে হয়। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো অভিযোগই ধোপে টেকেনি এবং প্রত্যেকবারই তিনি ছাড়া পেয়ে যান।

(চলবে)

আরও পড়ুন – এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-৬)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here