এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (শেষ পর্ব)

0
yakub memon harish salve

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ সহ সমস্ত নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির তৎপরতা ভয়ানকভাবে বেড়ে যায়। ২০০৬ সালে টাডা আইনে অভিযুক্ত মোট ১২৯ জনের মধ্যে ১০০ জনের সাজা ঘোষণা করে আদালত। ১২ই সেপ্টেম্বর ২০০৬ তে বিশেষ টাডা আদালত টাইগার মেমনের পরিবারের মোট ৪ জনকে সন্ত্রাসের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ঐ পরিবারের বাকি ৩ জনকে ‘বেনিফিট অফ ডাউট’ হিসেবে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের পর পরই টাইগার মেমনের পরিবারের প্রায় সবাই দুবাই এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায় বলে জানা যায়। টাইগার এবং ইয়াকুব ছাড়া বাকিরা ১৯৯৪ তে দেশে ফিরে এলেই সিবিআই তাদের গ্রেফতার করে ফেলে। ইয়াকুব মেমন পরবর্তীকালে মানসিক অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়লে দেশে ফিরে আসে এবং সিবিআইয়ের জালে পড়ে যায়। সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত ইয়াকুব মেমনের ৩০শে জুলাই ২০১৫ তে ফাঁসি হয়। ডি-কোম্পানির দুজন অভিযুক্ত যথাক্রমে মহম্মদ উমর খাতলাব এবং বাদশা খান রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়াই তাদের শাস্তি হয়নি।

আরও পড়ুন:এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-১১)

বিস্ফোরণের পরবর্তীকালে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বহু অভিযুক্ত যেমন আবু সালেম, মুস্তাফা ডোসা, ফিরোজ খান, তাহের মার্চেন্ট, রিয়াজ সিদ্দিকি, করিমুল্লা খান, আব্দুল কায়ুম প্রভৃতি একে একে দেশে এবং বিদেশে গ্রেফতার হয়। কয়েকজনকে ধরতে নামে ভারতীয় পুলিশ এবং সিবিআই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংগঠন ইণ্টারপোলের সহায়তা নেয়। ধরা পড়ার পর মুম্বইয়ের বিশেষ টাডা আদালতে এদের বিচার চলে। এই কেসের প্রসিকিউটর প্রথমে ছিলেন উজ্জ্বল নিকম যিনি পরবর্তীকালে ২৬/১১ পরবর্তী বিচারেও সরকার পক্ষের আইনজীবি ছিলেন। নিকমের পর ভার সামলান দীপক সালভে। ১৬ই জুন ২০১৭ তে গ্যাংস্টার মুস্তাফা ডোসা এবং ফিরোজ খান দোষী সাব্যস্ত হয় এবং তাদের ফাঁসির সাজা শোনানো হয়। ২৬শে জুন ডোসা মুম্বইয়ের এক হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় অন্যদিকে আসগর ইউসুফ মুকদ্দম এবং শাহনওয়াজ কুরেশি নামের দুজন ডি-কোম্পানির সদস্য দাবী করে দাউদের গ্যাং তাদের মানসিকভাবে দুর্বল পেয়ে তাদের ফায়দা উঠিয়েছে।

আরও পড়ুন:এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-১০)

এরা ছিল সবই ডি-কোম্পানির ছোট, বড় এবং মাঝারি মাপের সদস্য যাদের বেশিরভাগই গ্রেফতার হয় এবং সাজাপ্রাপ্ত হয় তবে মূল ষড়যন্ত্রকারী এবং ডি-কোম্পানির প্রাণপুরুষ লোকটি পুলিশের অধরাই থেকে যায়। শোনা যায় সে নাকি বিস্ফোরণের পরই দেশে ছেড়ে চম্পট দেয় নিজের গা ঢাকা দিয়ে
। পুলিশ এবং সিবিআই কম চেষ্টা করেনি তার নাগাল পেতে তবে সে অধরাই থেকে যায়। এও শোনা যায় যে সরকার এবং প্রশাসনের এক অংশের সঙ্গে যোগসাজশেই নাকি তাকে অধরা হয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। কখনো আবার শোনা যায় সে পাকিস্তান সরকার সে দেশের সেনা এবং আইএসআইয়ের আস্তানায় আরামে জীবন কাটাচ্ছে। তবে জল্পনা যাইহোক না কেন সে যে আজও অধরা সেটাই হল প্রকৃত বাস্তবতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুম্বই আণ্ডারওয়ার্ল্ড এবং বলিউডের উপর তার রাশ ধীরে ধীরে আলগা হলেও সে দেশের সরকার পা পুলিশ বাহিনীর নাগালে আজও আসেনি। তাকে ধরতে না পারাটা গোটা দেশের পুলিশ, গোয়েন্দা বাহিনীর কাছে এক তরম ব্যর্থতা বলাই বাহুল্য।

(শেষ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here