এনকাউণ্টার : বাণিজ্যনগরীর দীর্ঘ কয়েকদশকের অপরাধজগতের কাহিনী (পর্ব-২)

0
CONNECTION OF HAJI MASTAN & BOLLYWOOD

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

স্বাধীন ভারতে শহরের মুম্বইয়ের বাণিজ্যনগরী হওয়ার স্বপ্ন দেখার শুরু ষাটের দশক থেকেই। মূলত বিভিন্ন সরকারি আর্থিক সংস্থার সদর দফতরের পাশাপাশি দেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের স্বর্গ হয়ে ওঠে এই শহর। একদিকে ব্যাবসা
বাণিজ্য, বিনিয়োগ তো অন্যদিকে স্বাধীন দেশের সবচেয়ে বড় ‘ফিল্ম ইণ্ডাস্ট্রি’, ‘বলিউড’। স্বভাবতই বাণিজ্যনগরী, ‘স্বপ্ননগরী’র তকমা পায়। কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ কেবলই এক লহমায় আনা এই শহরের অপরাধ জগতও থেমে থাকেনি। মূলত বেআইনি চোরাচালানকারীদের দিয়েই শুরু হয় মুম্বই শহরের অপরাধ জগতের পথচলা।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একদিকে প্রবল দারিদ্র অন্যদিকে অশিক্ষা, এই দুই কারণে দেশের বেকারত্বের গ্রাফও তখন প্রবল বেগে উর্দ্ধে উঠে চলেছে। বড় শহরগুলিতে অপেক্ষাকৃত ধনী লোকেদের বাস হওয়ার কারণে চিরকালই গ্রামীন ভারত শহরমুখী। পঞ্চাশ, ষাটের দশকেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে গ্রাম গ্রামান্তর, ছোট শহর থেকে আসা কিশোর-যুবকেরাই দারিদ্র, অশিক্ষা এবং বেকারত্বের কারণে অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পরে এটাই চিরকালীন নিয়ম। শহর মুম্বইও তার ব্যাতিক্রম নয়।
ঐ সময় বাইরে থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে সংখ্যায় সবথেকে বেশি ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয়রা। মুম্বই অপরাধ জগতের শুরুও হয় এরকমই কয়েকজন দক্ষিণ ভারতীয় বহিরাগতের হাত ধরেই।

আরও পড়ুন:
https://risingbengal.in/encounter-parbo-1/

ষাটের দশকে মুম্বই আণ্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে আলোচিত গ্যাংস্টার হল ‘মস্তান মির্জা’ ওরফে ‘হাজি মস্তান’। তামিলনাডুর এক ছোট্ট গ্রাম থেকে বাণিজ্যনগরীতে আগমন এবর শৈশব, কৈশর পার হয়ে যৌবনে পদার্পন করে ক্রমশ গ্যাংস্টার হয়ে ওঠার কাহিনী কোনো মতে বলিউডি থ্রিলারের থেকে কম নয়। এর জীবন নিয়ে বলিউড ছবিও তৈরি করে ফেলেছে। হাজি মস্তান যদিও বা সেইসময়ের সবচেয়ে বড়মাপের গ্যাংস্টার তবে সমকালীন এবং অপরাধ সংগঠিত করার ব্যপারে কোনো অংশে হাজির থেকে কম ছিল না এমন আরো দুজন গ্যাংস্টার ছিল করিম লালা এবং বরদারাজন মুদালিয়ার। প্রথম জন তার মধ্যে ছিল মুম্বইয়ের পুরোনো অধিবাসী পাঠান গ্যাংয়ের নেতা আর দ্বিতীয় জন হাজির মতনই দক্ষিণ ভারতীয়। তবে আশির দশকে ডি-কোম্পানির মত অতখানি খুন-জখম, সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল না এরা কেউই।

আরও পড়ুন:
https://risingbengal.in/water-body-conservation-e-sofol-chennai-er-environmentalist/

আর এখানেই নজিরবিহীন ছিল হাজি মস্তান। শোনা যায় এতবড় গ্যাংস্টার হয়েও নাকি কিছু গুণের জন্য খ্যাত ছিল হাজি। নিজ হাতে একজনকেও নাকি প্রাণে মারেনি সে। আর তার নাকি শপথ ছিল এমন কোনো জিনিসের চোরাচালান সে করবে না যাতে মানুষের সরাসরি ক্ষতি হয়। যেমন মাদক দ্রব্য বা অস্ত্রসস্ত্র। তার স্মাগলিং বিজনেসের মূল চালিকাশক্তি ছিল ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং জাল নোট। আরো একটা ব্যপার উল্লেখযোগ্য হল ষাট এবং সত্তরের দশকে মুম্বই আণ্ডারওয়ার্ল্ডে যতদিন হাজি মস্তান, করিম লালা বা বরদারাজনের রাজত্ব চলেছিল ততদিন কোনো গ্যাংই নিজেদের মধ্যে লড়াই করে নিজেদের সমস্যা বাড়ায়নি যাতে এসব গ্যাংকে বাগে আনতে পুলিশের কাজ সহজ হয়। বরং এদের নিজেদের মধ্যে একটা অদ্ভূত বোঝাপড়া ছিল।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here